মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ৩১ বিজিবির অধীন লেংগুড়া বিওপির ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টহল দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। স্থানটি সীমান্ত পিলার ১১৭২/৫-এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।
অভিযানকালে ওই এলাকা থেকে মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ২৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার করা ভারতীয় মদ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে ৩১ বিজিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার জামালপুর সদর উপজেলার পিয়ারপুর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত ‘এম আর বি ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ভাটাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে ইটভাটায় মালিক পক্ষের কাউকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। অভিযানে দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ ফিক্সড চিমনি ব্যবহার করে ইটভাটাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল।
অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কারণে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ‘এম আর বি ব্রিকস’ ইটভাটাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত সিলেট বিভাগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হায়দার। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, জামালপুরের সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।
পরিবেশের সুরক্ষা ও ইটভাটা সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জজুড়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজন।
প্রতিমাশিল্পী, কারিগর ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষায় দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিমার খড়ের কাঠামো ও মাটির কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে মাটির শেষ লেপন। এরপর রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো পাবে পূর্ণাঙ্গ রূপ। একই সঙ্গে মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা এবং পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত আয়োজকরা।
এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় এক হাজার ২৮৮টি মন্দির ও মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কাশিয়ানীতে ২২৬টি, কোটালীপাড়ায় ৩১৫টি, মুকসুদপুরে ৩০৭টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ৯০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
দেবীর আগমনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় দিন-রাত এক করে প্রতিমা নির্মাণে ব্যস্ত শিল্পীরা। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা; এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও পৌরাণিক দৃশ্যপটও ফুটিয়ে তুলছেন তারা।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, এ বছর প্রত্যেকে গড়ে চার থেকে ছয়টি করে প্রতিমা নির্মাণ করছেন। প্রতিটি প্রতিমা নির্মাণে মজুরি হিসেবে সর্বনিম্ন ৬০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। পূজার আগেই প্রতিমা নির্মাণ, রং ও সাজসজ্জার সব কাজ শেষ হবে বলে জানান তারা।
সাতক্ষীরা জেলা থেকে গোপালগঞ্জে প্রতিমা নির্মাণের কাজে আসা ভাস্কর্য শিল্পী প্রকাশ পাল বলেন, এ বছর গোপালগঞ্জে দুটি এবং বাগেরহাটে একটি মন্দিরের প্রতিমা নির্মাণের কাজ নিয়েছি। আমার টিমে পাঁচজন ভাস্কর্য শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মজুরি ও খাবার খরচ বাদ দিলে হাতে তেমন কিছুই থাকে না।
প্রকাশ পাল আরো বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হয়। এই পেশা টিকিয়ে রাখতে আমরা সরকারের কাছে মাসিক ভাতার দাবি জানাই। তা না হলে একদিন এই শিল্প দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
ভাস্কর্য শ্রমিক হৃদয় দাস বলেন, ‘আমরা দাস বংশের লোক। পাল মহাশয়ের সঙ্গে কাজ করে যে মজুরি পাই, তা দিয়েই আমাদের পরিবারের ভরণপোষণ চলে। প্রতিমার কাজে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী মজুরি পাই না।’
গোপালগঞ্জের বাজার যুব সংঘের আয়োজক দিলীপ কুমার সাহা দিপু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি দুর্গাপূজা আয়োজন করতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। সব কিছুরই মূল্য বেড়েছে। শুধু প্রতিমা নির্মাণেই প্রায় দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। লাইটিং ও পূজা সামগ্রী কিনতেও বেশ খরচ হয়। তবুও আমরা ৬০ বছর ধরে এই পূজা চালিয়ে আসছি।
পূজা ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘আশা করি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ম্বরে পূজা উদযাপন করতে পারব। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম যেন না হয়।’
গোপালগঞ্জ শহরের খাটরা সর্বজনীন কালীবাড়ির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসব যাতে আমরা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করতে পারি, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
খাটরা সর্বজনীন কালিবাড়ি কমিটির সভাপতি রূপক বিশ্বাস জানান, ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দেবীর আরাধনা ও প্রতিমা বিসর্জন।
রূপক বিশ্বাস আরো জানান, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, ঘোটকে দেবীর আগমন ঘিরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলা হয়। অন্যদিকে নৌকায় দেবীর গমনকে শুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অশোক বিশ্বাস বলেন, মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন অটুট রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে—এমন প্রত্যাশা আমাদের।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, জেলার সব পূজামণ্ডপে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি এসআরবি, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর সঙ্গে মণ্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পূজার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গোপালগঞ্জ জেলা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। পূজামণ্ডপ ও উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে। উৎসবের সময় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টহল দল দায়িত্ব পালন করবেন। আশা করি, অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গোপালগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা ইচ্ছা তাই বলেন এবং যা ইচ্ছা তাই করেন। তিনি প্রচলিত নিয়ম, নীতি বা ধারণাকে একেবারেই গুরুত্ব দেন না। স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি যেন তার মাথায় নেই বললেই চলে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প, তার পরিবার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে শত কোটি ডলারের সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন। এবং এটি করেছেন বেশ প্রকাশ্যে। ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন, যেখানে দুর্নীতি বা স্বার্থের সংঘাতের আলোচনা পর্যন্ত আসে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের আয়োজন এই পরিস্থিতিকে কিছুটা পরিবর্তন করেছে। এমন অবস্থায় কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে, তাহলে বিষয়টি অনেক দূর গড়াতে পারে।
গত সপ্তাহে প্রোপাব্লিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ রুশ ধনকুবের উমর ক্রেমলেভ গত মে মাসে বাহামাসে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের উৎসবের কিছু অংশের খরচের জন্য কয়েক লাখ ডলার পরিশোধ করেছিলেন। এর পরপরই ট্রাম্প জুনিয়রের স্ত্রী তাদের দুজনের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন যে, ‘প্রিয় বন্ধু উমর আমাদের বিয়ের পর অত্যন্ত উদারভাবে আমাদের জন্য দুটি অবিশ্বাস্য উৎসবের রাতের আয়োজন করেছিলেন।’
তিনি এই ব্যবস্থার মধ্যে কোনো অনিয়ম থাকার বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একজন প্রতিদ্বন্দ্বী বিদেশি নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কাছ থেকে এত বড় ব্যক্তিগত উপহার গ্রহণ করা কেন সমস্যা হবে না; তা বোঝা বেশ কঠিন।
ঘটনাটিকে আরো রহস্যময় ও জটিল করে তুলেছে প্রেসিডেন্টের অপর পুত্র এরিক ট্রাম্পের একজন মুখপাত্রের প্রোপাব্লিকার কাছে দেওয়া একটি মন্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘এই ব্যক্তিটি (ক্রেমলেভ) কে, সে সম্পর্কে এরিকের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এবং তিনি কখনো তার নামও শোনেননি।’ অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চও বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট জানেনই না এই ব্যক্তিটি কে।
ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের আয়োজনে লাখ লাখ ডলার খরচ বন্ধুকে তার ভাই এবং বাবা চেনেই না; এটি অনেকের কাছে অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। তবে এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় খবর হলো, কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও এখন এই প্রশ্নগুলো তুলতে শুরু করেছেন। ইউটার সিনেটর জন কার্টিস এই প্রক্রিয়ার সূচনা করেন।
গত সপ্তাহে তিনি এই পুরো ব্যবস্থাকে সরাসরি ‘দুর্নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির কাছে একটি তদন্ত এবং ট্রাম্প জুনিয়রকে তলব করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন আরো তিনজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্প জুনিয়রকে নিয়ে তদন্তের ধারণার প্রতি বিভিন্ন মাত্রায় সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটের সীমিত কার্যদিবসের কারণে এই ধরনের তদন্ত করা অবাস্তব বা জটিল হতে পারে। অন্যদিকে লুইসিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসডি জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির পর তিনি কিছুটা শান্ত বা আশ্বস্ত হয়েছেন যে ট্রাম্প জুনিয়র ক্রেমলেভের টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। যদিও ক্যাসডি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, এই বিষয়টি এখনো অপ্রমাণিত।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট প্রেসিডেন্টের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে; এটি কার্যত ভাবাই যায় না। বিগত দশকগুলোতে হয়তো এমনটা ঘটতে পারত, কিন্তু ট্রাম্পের আমলে এটি অত্যন্ত উসকানিমূলক হবে এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই সরাসরি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি ক্ষমতা ফিরে পায়, তাহলে প্রেসিডেন্টের ছেলেকে তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে তখন সিনেট বিপাকে পড়বে অগ্রাধিকার নিয়ে। স্বার্থের সংঘাতের এতগুলো বিষয় সামনে, কোনটা ফেলে কোনটা তদন্ত করবে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দুই বছর তদন্ত করার মতো সম্ভাব্য বহু বিষয়ের জন্ম দিয়েছে। তবে একসঙ্গে অনেকগুলো বিষয়ের পেছনে ছুটলে, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে জনগণের মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার ঝুঁকি তৈরি হবে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প কাতারের রাজ পরিবারের কাছ থেকে একটি নতুন জেট বিমান গ্রহণ করেছেন, যা তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করছেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর সেটি তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা পরপরই ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্পের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন।
বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে ট্রাম্পের এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোতে আগাম প্রবেশের সুবিধা বিক্রি করছে তার নিজেরই সোশ্যাল মিডিয়া কম্পানি। এর ফলে যারা অর্থ পরিশোধ করছে, তারা সাধারণ আমেরিকানদের তুলনায় একটি কৌশলগত বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
শেয়ার কেনার মাত্র কয়েকদিন পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের বারবার বিভিন্ন কম্পানির প্রচারণা চালান। ট্রাম্প পরিবারের বিদেশে ব্যবসায়িক লেনদেন এবং মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেগুলোর ঘনিষ্ঠতা বা প্রভাব।
এই বিষয়গুলোর যেকোনো একটি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে এমন কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যা রিপাবলিকানরা এতদিন এড়িয়ে যেতে পেরেছেন।
প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের স্বার্থের সংঘাত আগামী দিনগুলোতে মার্কিন রাজনীতিকে আরো সংঘাতময় করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ