মো. সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার
০৬:১৩ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক কলেজছাত্রীকে (১৭) অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। মেয়েকে না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভারতে যাতায়াতের তথ্য থাকায় মেয়েটিকে সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রতিবেশী রমিক চন্দ্র সিংহ (২৩) মোবাইল ফোনে ওই কলেজছাত্রীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। পরে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।
ঘটনার দুই দিন পর ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রমিক চন্দ্র সিংহ, তাঁর বাবা গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন্ত চন্দ্র সিংহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অপহরণ মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ছাত্রীকে উদ্ধার কিংবা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘প্রধান আসামির বাবা এলাকায় ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে আমার মেয়েকে উদ্ধারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত। শুরুতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এখন কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। আমি যেকোনো মূল্যে আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।’
স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনের ভারতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ওই ছাত্রীকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন্ত চন্দ্র সিংহের বোন বৈশ্বানী রানী। তিনি বলেন, ‘মায়া ধরে (মেয়ে নিয়ে) রমিক পালাইছে। এর পর থেকে ওর বাবাও নাই। মুই বাড়ি পাহারা দিছু। আর কিছু কহিবা পারু না (বলতে পারব না)।’
ওই ছাত্রীর মা মেয়ের নিখোঁজের পর থেকে খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবার দেরিতে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা অপহরণ মামলা নিয়েছি। মোবাইল ফোনের লোকেশন শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে কেউ নিখোঁজ কলেজছাত্রীকে শনাক্ত করতে পারলে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলার উপজেলার সন্দ্বীপের গাছুয়া ইউনিয়নে গাছুয়া একাদশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তঃ গাছুয়া প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ ২০২৬-এর জমজমাট আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে গাছুয়া কিংস। অন্যদিকে রানার্সআপ হয়েছে গাছুয়া লায়ন্স। দশ টিমে ১৫০জন প্লেয়ারের অংশগ্রহণ করে ফুটবলের মহরনে উন্নত ক্রীড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ বুট পায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচসহ মোট ২৪ টি ম্যাচে এই আয়োজনের সুন্দর সমাপ্তি হয়।
ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমজাদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম,সন্দ্বীপ থানা ইনচার্জ সুজন হালদার,রোকেয়া বেগম,মাকছুদুর রহমান,আবুল কালাম আজাদ,আব্দুর রব বাদশা,নজরুল ইসলাম।
টুর্নামেন্টজুড়ে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
আয়োজকদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় টুর্নামেন্টটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফুটবলের প্রতি গাছুয়ার মানুষের ভালোবাসা ও সম্মিলিত উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
“দশের লাঠি একের বোঝা”— এই প্রবাদকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সবাই মিলে একটি সুন্দর ঘরোয়া ফুটবল আয়োজন উপহার দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আরিয়ান খুলুদ নামে এক আসামিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে।
ওসি মাহবুবুর রহমানের দাবি আসামির পক্ষে আদালতের আদেশ (রি-কল) থাকায় আরিয়ান খুলুদকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওসির দাবিকৃত রি-কলে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নাম থাকলেও স্বাক্ষর না থাকায় রি-কলটি আসল নাকি নকল এনিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
তাই বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের লোকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরব থানার মামলা নং- ৩৭ (১) ২০২৬ ও সি. আর. মোকদ্দমা নং- ৩৭/২০২৬ ধারা: ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৩৫৪/৪২৭/৪৩৬/৫০৬(১) বিশেষ ক্ষমতা আইন মামলার আসামি আরিয়ান খুলুদের বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিলো। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) পর্তুগালের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ আরিয়ান খুলুদকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশকে অবগত করেন। পরে সোমবার বেলা ১১টায় ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক শক্তি পদ মৃধা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই আসামিকে বেলা ২টার দিকে ভৈরব থানায় নিয়ে আসে। তাকে ছাড়িয়ে আনতে ওইদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী মহল ওসি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে থানা থেকে আরিয়ান খুলুদকে গভীর রাতে ছাড়িয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার মৃত বশির মিয়ার পুত্র আরিয়ান খুলুদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, ৪টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় সে খালাস পেয়েছে।
রি-কলে দেখাযায়, ৩৭(১)২০২৬ নং মামলায় আসামি আরিয়ান খুলুদ গত ৩মে ২০২৬ইং তারিখে আদালতে হাজির হলে কিশোরগঞ্জ দায়রা ও জজ আদালতের বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্তিলাভ করে। দীর্ঘদিন ৫মাস পেরিয়ে গেলেও রিকলটি ভৈরব থানায় জমা হয়নি। সোমবার দুপুরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ভৈরব থানা পুলিশের এসআই শক্তি পদ মৃধার কাছে হস্তান্তর করার পর আসামি খুলুদকে ভৈরব থানায় দুপুরে নিয়ে আসার পর ওইদিন রাতে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর স্বাক্ষরবিহীন একটি রিকলের অজুহাতে আসিমকে ছেড়ে দেয়া হয়। স্বাক্ষর বিহীন রিকলটি গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকরা ভৈরব থানা পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন।
রিকলের বিষয়ে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন ওসিকে ফোন দিচ্ছি আপনাকে সইযুক্ত রিকলটি পাঠাতে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পর ওসিকে ফোন করা হলে ওসি মাহবুবুর রহমান সইযুক্ত রিকল পাঠাতে পারেননি।
ভৈরব থানার এসআই শক্তি পদ মৃধা মুঠোফোনে জানান, আরিয়ান খুলুদ পর্তুগালের উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় হওয়া মামলার বাদী তাহমিনা বেগম ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবগত করলে তারা আসামির পাসপোর্ট ব্লক করে দেয়। তিনি বলেন, সোমবার বেলা ১১টায় ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে থেকে খুলুদকে নিয়ে দুপুরে থানায় আসি। এই মামলার রিকল থানায় জমা ছিলোনা নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল রাতে রিকলটি থানায় জমা দেয়া হলে ওসি স্যার তা যাচাই-বাছাই করেন। যেহেতু যাচাই-বাছাই করে রিকলটি সঠিক হওয়ায় এসপি স্যারের নির্দেশে তাকে রাতে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, তার নামে চারটি মামলা রয়েছে, এরমধ্যে একটি মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন মারামারি মামলা ছিলো তার বিরুদ্ধে। সে কোন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। বিদেশে যেহেতু চলে যাবে এখানে একটি সুযোগ পেয়েছে। আসামি ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বীকার করেননি।
এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, পাসপোর্ট লক থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এর আগে থানা থেকে আবেদন দেয়ার পর কোর্ট থেকে পাসপোর্টটি লক করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছ থেকে আটক হওয়া আসামি আরিয়ান খুলুদকে ভৈরব থানায় নিয়ে এসে যাচাই-বাছাই করে দেখলাম তার বিরুদ্ধে কোন কিছু নাই, কোনো মামলাও নাই, ওয়ারেন্টও নাই। যার জন্য খুলুদকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
রিকলে বিচারকের স্বাক্ষর না থাকার
বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, রিকলটি আমার কাছে আগে থেকেই আছে। আমি তো কোর্ট থেকে খরব নিছি সে জামিনে আছে।
এ বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী'র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা কোর্ট থেকে অর্জিনালটি আনছি। এবং ফোনে যাচাই-বাছাই করেছি রিকলটি সঠিক আছে। তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আছে, ৪টিতেই জামিনে আছে।
আপনি চাইলে রিকলের কপিটি আপনাকে দিতে পারি। ইমিগ্রেশনে যে লক থাকে সেটি খুলেনি। আবেদন দিলে ব্লকটি খুলে দিবে। রাতেই কনফার্ম হয়েছি সবগুলোতে জামিনে আছে। আপনারা যেটা পাইছেন, সেই কাগজ কে দিছে আমি জানিনা। মূলত সই ছাড়া না, এটা তো তথ্য। সই ছাড়া রিকল হয়না। অনেক সময় ফোনে নিয়ে নেয়না সেটাই হইছে মনে হয়। ওসিকে বলে দিচ্ছি সইযুক্ত কপিটি যেন আপনাকে পাঠায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে মধুপুর সি.এন.জি মালিক ও শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সমিতির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়, সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মধুপুর অডিটোরিয়ামে এ বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম রতন হায়দার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্না ও সহসভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিকসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা মধুপুরের সিএনজি মালিক ও শ্রমিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রধান অতিথি বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
এ সময় মধুপুর সি.এন.জি মালিক ও শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিতালতলীতে ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার। অতিরিক্ত দামেও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি। তালতলী উপজেলার কৃষকরা ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার করছেন। দিনের পর দিন ড
মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৭ পি.এম
তালতলীতে ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার।
অতিরিক্ত দামেও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা।
তালতলী উপজেলার কৃষকরা ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার করছেন। দিনের পর দিন ডিলারের পিছে ছুটেও সার পাচ্ছে না। সার না পাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এ সুযোগে একটি চক্র অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে। দ্রুত সার সরবরাহের দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার এ বছর আমন ধানের জমি চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৬০ হেক্টর। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় ওই লক্ষমাত্রার জমিতে আমন ধান রোপন শেষ হয়েছে। ধান রোপনের কয়েক দিনের মধ্যেই জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন দেখা দেয়। তালতলীতে ইউরিয়া সারের চাহিদা দ্বিগুন হলেও অক্টোবর মাসে ১৩৫ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই সার আগাম সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় ছাড় দেয় সরকার। ওই সার পাওয়া মাত্রই বিতরন করা হয়েছে বলে দাবী করেন বিসিআইসি ডিলার খলিলুর রহমান ও নান্নু খাঁন। এরপর সারের চাহিদা দেখা দিলেও সার সরবরাহ না থাকায় তারা কৃষকদের সার দিতে পারছে না বলে আরো দাবী করেন তারা। গত ১০ দিন ধরে তালতলীতে ইউরিয়া সারের তীব্র সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা দিনের পর দিন ডিলারের পিছু ছুটেও সার পাচ্ছেন না। সারের জন্য তালতলীতে হাহাকার চলছে। উপযুক্ত সময় জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে আমণের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে না বলে জানান কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার ও শহীদুল ইসলাম।
সোমবার তালতলী উপজেলার ছোটবগী, পঁচাকোড়ালিয়া, বড়বগী ও শারিকখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখাগেছে, কৃষকরা সার পাচ্ছে না। তারা হন্য হয়ে সারের জন্য ডিলারের পিছনে ঘুরছেন।
পশ্চিম গাবতলী গ্রামের কৃষক মোঃ ইসহাক হাওলাদার বলেন, ১৬৫০ টাকা বস্তা ধরে ১৫ বস্তা সার ক্রয় করেছি। কিন্তু এতে আমার হবে না সার প্রয়োজন ৩০ বস্তা।
গাবতলী গ্রামের মাছুম মোল্লা বলেন, সাত দিন ধরে সার পাচ্ছি না। এখন যদি জমিতে সার দিতে না পারি তাহলে আমনের ফলন ভালো হবে না। তিনি আরো বলেন, খুচরা ডিলারের কাছ থেকে ১৬০০ টাকা বস্তা ধরে তিন বস্তা সার কিনেছি। এখন আরো সারের প্রয়োজন কিন্তু পাচ্ছি না।
কলারং গ্রামের গোলাম ফারুক বলেন, ১০ দিন ধরে সার পাচ্ছি না।
কচুপাত্রা গ্রামের নাশির মুন্সি বলেন, ১৫ বস্তা সারের প্রয়োজন কিন্তু সার পেয়েছি মাত্র ৫ বস্তা। হন্য হয়ে ঘুরেও সার পাচ্ছি না। জমিতে সার না দিতে পারলে আমনের ফলন ভালো হবে না।
পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়ন বিসিআইসি সার ডিলার মোঃ নান্নু খাঁন বলেন, অক্টোবর মাসের ১৯ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছি। ওই সার আনার সাথে সাথে বিতরন করে দিয়েছি। কিন্তু গত সাত দিন ধরে সার নেই। কৃষকদের সার দিতে পারছি না। তারা সার নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
বড়বগী ইউনিয়ন বিসিআইসি সার ডিলার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় অক্টোবর মাসে ইউরিয়া সার বরাদ্দ কম। বড়বগী ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৭০ মেট্রিকটন কিন্তু পেয়েছি মাত্র ২০ মেট্রিকটন। সারের সংঙ্কটতো হবেই।
তালতলী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবু জাফর বলেন, যে সকল এলাকার সারের সংঙ্কট তৈরি হয়েছে, ওই সকল এলাকার অতিরিক্ত সার বরাদ্দ এনে সংঙ্কট সমাধান করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার বলেন, বেশী দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। সরেজমিনে ঘুরে দ্রুত সার সঙ্কট সমাধান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ