০৬:৪০ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি পরিত্যক্ত ও অচিহ্নিত স্যুটকেস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২২৩টি জীবন্ত বন্যপ্রাণী। কাস্টমস কর্মকর্তা এই উদ্ধার কাজটি করেছেন। ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে একটি অস্বাভাবিক বন্যপ্রাণী পাচার চেষ্টার ঘটনা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে খালিজ টাইমস এই খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিদিন লাখো যাত্রীর ব্যবহার এই ব্যস্ত বিমানবন্দরে স্যুটকেসটি প্রথম দিকে সন্দেহজনক মনে না হলেও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সময় কিছু ঝুঁকির সূচক ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা সেটাকে আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
যখন স্যুটকেসটি খোলা হয়, কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। ব্যক্তিগত সামগ্রীর পরিবর্তে এর ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল শত শত জীবন্ত প্রাণী। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ছিল ১২৯টি টিকটিকি, ৩৬টি বিচ্ছু, ৮টি সাপ এবং ৫০টি ব্যাঙ। মোট ২২৩টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশিদা তালিবের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের নিন্দা, নেতিবাচক প্রভাবের সতর্কতা
কর্তৃপক্ষের ধারণা, উদ্ধার হওয়া কয়েকটি প্রজাতি কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনড্যানজার্ড স্পেসিজ অব ওয়াইল্ড ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা তথা আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত সংরক্ষিত প্রাণী হতে পারে।
জব্দ করার পরে, দুবাই কাস্টমস সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং পরিচর্যার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি আইনি, পশুস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী পাচারকে একটি লাভজনক আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। এটি জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট এবং আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পরিবহন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের সঙ্গে পাচারকারীরা বিভিন্ন ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে সংরক্ষিত প্রাণী এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচারের চেষ্টা করছেন।
বিশ্ব বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দুবাই এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিদর্শন দল ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দুবাই কাস্টমসের যাত্রী কার্যক্রম বিভাগের পরিচালক খালিদ আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে সীমান্ত সুরক্ষা শুধু নিষিদ্ধ পণ্যের চলাচল রোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব রক্ষার বিষয়টিও জড়িত। এই অভিযান আমাদের পরিদর্শন দলের দক্ষতা, সতর্কতা এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার রোধে দুবাই কাস্টমসের অঙ্গীকারের প্রমাণ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন