শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৬:৪৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুর্জয় মোড় দখল করে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শাওন রহমান অন্তর ওরফে অন্তর লাল (২৮)সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পৌর শহরের কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে শাওন রহমান অন্তর লাল (২৮), ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার মৃত সেলিম মোল্লার ছেলে আশিকুজ্জামান লেলিন (৩৫) ও লিমন মিয়া (৩৩), একই এলাকার মৃত হালিম মোল্লার ছেলে আক্তারুজ্জামান আকাশ (২৭) এবং রুহুল আমিন মিয়ার ছেলে আলাদিন মিয়া (২৬)।
পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই এমদাদুল কবীরের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঘোড়াকান্দা এলাকা থেকে অন্তর লালকে এবং ভৈরবপুর উত্তর পাড়া থেকে অপর চার আসামিকে আটক করা হয়।
গত ১০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কমলপুর এলাকার যুবকদের সঙ্গে দুর্জয় মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবকদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষকারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে নেওয়ায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ভৈরব থানার তৎকালীন ওসি, এক পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৭ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের নির্দেশ দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, দুর্জয় মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবকদের নেতৃত্বে ছিলেন অন্তর লাল। অপরদিকে কমলপুর এলাকার যুবকদের নেতৃত্ব দেন আরমানসহ কয়েকজন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতারউর রহমান আকন্দকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচরের সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামি অন্তর লালসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়িয়ায় পিকআপ এবং মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেল আরোহী কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ২ টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়িয়ায় পিকআপ মোটরসাইকেল সংঘর্ষের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কলেজছাত্র সাজ্জাদ (২২) পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার দুবলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রামের রেন্টু মন্ডলের পুত্র।
আহত ব্যক্তি জুলফিকার (২৫) একই গ্রামের সিরাজ মন্ডলের পুত্র। তারা দুজন আপন চাচাতো ভাই।
পাবনা সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক হোসেন জানান, জুলফিকার এবং তার চাচাতো ভাই সাজ্জাদ মোটরসাইকেল নিয়ে যখন তারাবাড়িয়া বাজারে পৌঁছান, তখন অপরদিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনার ফলস্বরূপ ঘটনাস্থলে সাজ্জাদের মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত হন জুলফিকার, তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পাবনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অর্থপেডিকস বিভাগে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, তারা এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছেন না, তাই নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে ১৭৩ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন।
একই সঙ্গে হাসপাতালে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি, বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এরপর থেকেই চিকিৎসাধীন রোগীরা ধীরে ধীরে অন্য হাসপাতালের দিকে যেতে শুরু করেন।
জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে এখনো প্রায় ২৪৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে আইসিইউ, এনআইসিইউ, এইচডিইউ ও সিসিইউতে থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, বলে জানিয়েছেন রোগীদের স্বজনরা। তাদের মতে, এসব রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তাদের দাবি, জনস্বার্থ ও রোগীদের সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় হঠাৎ করেই এসে পড়ল ভারী একটি ইট। উপর্যুপরি রক্তাক্ত হয়ে তিনি ছিটকে পড়লেন। এরপর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে ধরাধরি করে তুলে নিয়ে গেল একটি অটোরিকশায়। প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে, উপর থেকে ইট পড়ে আহত হওয়া কোনো পথচারীকে উদ্ধার করছেন কিছু 'দয়াশীল' মানুষ।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রাজধানীর কাফরুলের এই গা শিউরে ওঠা সিসিটিভি ফুটেজের পেছনের গল্পটি আসলে মানবিকতার কোনো কাহিনী নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও অতি নৃশংস হত্যাচেষ্টার বিবরণ। কাফরুল থানা পুলিশ অবশেষে এই রহস্যের জট খুলেছে। ঢাকা ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও দুজনকে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হচ্ছেন: মো. পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। তাদের মধ্যে পারভেজকে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এবং বাবুকে রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিম রাফির মোটরসাইকেল।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সোয়া ১টা নাগাদ পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। ভিকটিম রাফি মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এই ঘটনার পরে আসামিরা রাফিকে উদ্ধার করার অভিনয় সাজিয়ে অটোরিকশায় তুলে নেয় এবং পরবর্তীতে ইব্রাহিমপুর এলাকায় নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তারা আশপাশের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, উপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই চক্রের চারজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। চিহ্নিত ব্যক্তিরা হলেন: পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন। এদের মধ্যে পারভেজ ও কালু চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, পারভেজ আগে রাফিদের বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করতেন। এই সূত্রে রাফির সঙ্গে তার পরিচয় গড়ে উঠে। পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা করতো, যা নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার এক দিন আগে সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর তুমুল কথাকাটাকাটি হয় এবং তারা রাফিকে 'দেখে নেয়ার' হুমকি দেয়।
পরদিন রাতেই তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই এলাকায় ওত পেতে বসে থাকে। যখন রাফি ওই রাস্তা দিয়ে যেতে থাকে, তখন আমিন নামের একজন তার গতিরোধের চেষ্টা করে। রাফি গতি কমাতে চাইলে পারভেজ সরাসরি তার মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাফির চাচা নূর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জড়িত বাকি দুই আসামি ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরের পরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির ফলে সড়কগুলো তলিয়ে যায়। এর ফলে রাজধানীবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিকেলে শুরু হওয়া টানা প্রায় ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে, দুর্ভোগের এই চিত্রের মাঝেই দেখা যায়, কোথাও কোথাও জমে থাকা পানিতে শিশুরা খেলায় মেতে উঠেছে। এই অবস্থায় একই সঙ্গে নগরজীবনের ভোগান্তি এবং শিশুদের উচ্ছ্বাসের ভিন্ন দুই দৃশ্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার নিচু সড়ক এবং গলিতে হাঁটুসমান পানি জমেছে বলেও খবর এসেছে। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে পথচারী এবং মোটরসাইকেল আরোহীরাও বিপাকে পড়েছেন। বহু স্থানে সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ