বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৬ এম
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকার জেলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে একটি পার্ক করা অ্যাম্বুলেন্সে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, পিপলস প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইনিশিয়েটিভ (পিপিএইচআই) পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সটিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিবর্তনের সময় আগুন লেগে যায়।
থরপারকারের সহকারী কমিশনার এরুম করিম নারেজো বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে পার্ক করা অ্যাম্বুলেন্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পিপিএইচআইয়ের একজন ডিসপেনসার, অ্যাম্বুলেন্সচালক, একজন নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য একজন কর্মী রয়েছেন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তার সঙ্গে থাকা দুজন ব্যক্তি রয়েছেন বলেও উদ্ধারকর্মীরা পূর্বে জানিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুই ধাত্রী ও একজন নারী সহকারী আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার।
সূত্র: জিও নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্গাপূজার পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) দপ্তরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পরপরই বউবাজার থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বারবার নোটিশ পাঠানোর পরও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি।
এই সময়-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ‘মাস আর্ট’ সংস্থার বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার পাস বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে। বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্তে পুলিশ ও ইডি জানায় যে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুর্গোৎসবের পাস বিক্রি করে সংস্থাটি প্রায় ৩০ কোটি টাকার লেনদেন করেছে, যার একটি বড় অংশ ইন্দ্রনীল ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল।
২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্ল্যাটিনাম ও গোল্ডসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে ১ লাখের বেশি পাস বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই অর্থ থেকে ক্লাবগুলোকে কমিশন দেওয়া হতো। এ ছাড়া, মন্ত্রী থাকাকালে নিজের ঘনিষ্ঠদের ৮৫ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার দিয়ে সেই টাকা আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দারা ইন্দ্রনীলের ওপর নজর রাখছিলেন, কিন্তু তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। বুধবার তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির মুখোমুখি হতে আসার খবর পেয়ে দুপুরে সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিধাননগর নর্থ থানার টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে তিনি বাইরে এলে সরাসরি তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেবল সূচনা মাত্র এবং প্রকৃত দোষীদের সবাইকে জেলে যেতে হবে।" অন্যদিকে, মামলার মূল অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, "৩০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি তো কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে সাদমান হোসেন ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার, দিনের দ্বিতীয় বলে জশুয়া বিশপের বল থেকে ২ রান নিয়ে তিনি সেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
সাদমানের জন্য এটি ৩১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি। তার পূর্ববর্তী দুই সেঞ্চুরি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এসেছিল। এবার তিনি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন অঙ্ক ছুঁলেন।
সাদমান ২২০ বলের মোকাবেলায় সেঞ্চুরি অর্জন করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে সাদমানের পারফরম্যান্স ভালো যাচ্ছিল না। ১৭ ইনিংস পর তিনি সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রকৃতির সবুজ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।
‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ স্লোগানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী, বন বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী এবং স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছেন।
নগরীর জামেয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট ডিসি পার্কে শেষ চারা—একটি নারিকেলগাছ—রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
ডিসি পার্কে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে গাছ কাটতে হলেও তার চেয়ে বেশি গাছ লাগাতে হবে।" জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে দেশের অন্যান্য জেলা প্রশাসকদেরও এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের একা নয়, বরং ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মানুষ জীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব, বাড়ি ও জমিজমার হিসাব রাখলেও জীবনে কয়টি গাছ লাগিয়েছেন, সেটির হিসাব সচরাচর রাখেন না। অথচ গাছ প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনধারণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই প্রত্যেকেরই নিয়মিত গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং লাগানো প্রতিটি চারার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, "সরকারি কোনো অর্থ ব্যয় না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।" তিনি সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না বলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতীয় পর্যায়ে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। রোপণ করা চারার সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠন, বেড়া দেওয়া এবং উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গ্রাম পুলিশ ও বন বিভাগের সহযোগিতায় নিয়মিত তদারকির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নষ্ট বা দুর্বল চারাগুলোর পরিবর্তে নতুন চারা লাগানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডা. মো. জিয়া উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরিফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বিসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল লিগ এনএফএলের যেসব খেলোয়াড় ২০০৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি আঘাতজনিত রোগের লক্ষণ দেখা গেছে। এই তথ্য নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত গবেষণাটি এ রোগের উপস্থিতি নিয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া সর্বোচ্চ আনুমানিক হিসাব তুলে ধরেছে।
দীর্ঘমেয়াদি আঘাতজনিত মস্তিষ্কের রোগটি ‘সিটিই’ নামে পরিচিত। মাথায় বারবার আঘাত লাগার ফলে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিষণ্নতা ও আচরণগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলঝেইমার রোগ ও সিটিই গবেষণাকেন্দ্রের গবেষকেরা। তারা ৩৯৬টি দান করা মস্তিষ্কের তথ্য এবং মারা যাওয়া ১ হাজার ৯৬৬ জন সাবেক এনএফএল খেলোয়াড়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।
দান করা মস্তিষ্কগুলোর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশে সিটিইর লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, যাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনায় অবনতির লক্ষণ ছিল, তাদের পরিবারের মস্তিষ্ক দান করার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এই পক্ষপাত বিবেচনায় নিয়ে তারা হিসাব করেছেন, মৃত সাবেক খেলোয়াড়দের প্রায় ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে রোগটির লক্ষণ থাকতে পারে।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে সিটিইর লক্ষণ থাকা মানে প্রত্যেকের স্মৃতিশক্তি কমবে বা স্মৃতিভ্রম হবে, এমন নয়। গবেষণায় সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশের স্মৃতিভ্রংশের সম্ভাব্য হিসাব পাওয়া গেছে।
বারবার মাথায় আঘাত লাগলে মস্তিষ্কে টাউ নামের এক ধরনের প্রোটিন জমা হতে পারে। সময়ের সঙ্গে এ ধরনের ক্ষতি বাড়তে পারে, গবেষকেরা এ কথা জানিয়েছেন। তবে জীবিত অবস্থায় বর্তমানে সিটিই নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নেই; মস্তিষ্কের ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই রোগটি নিশ্চিত করা সম্ভব।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ