০১:০৪ পি.এম
লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে, তারা ওই নৌযানে মাদক বহনের কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
এই হামলার ফলে মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ জনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি হামলা পরিচালিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে হামলাটি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে চলাচলরত একটি ছোট নৌযান বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হচ্ছে।
ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র সংঘাত’ চলছে। তার প্রশাসন যুক্তি দেখিয়েছে যে, দেশটিতে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করা এবং প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজন। তবে, যাদের ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের হত্যার দাবির পক্ষে প্রশাসন খুব সামান্য প্রমাণ হাজির করেছে।
এসব হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণের বহু ঘটনার জন্য দায়ী ফেন্টানিল সাধারণত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। মেক্সিকোতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা রাসায়নিক ব্যবহার করে এ মাদক তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ
হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা জানায়, প্রাণঘাতী এসব অভিযানে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাঠামো অনুসরণ করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ডারের নির্দেশনা, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া। তবে হামলাগুলোর বৈধতা এ পর্যালোচনার আওতায় থাকবে না।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলাটি এ ধরনের কয়েকটি অভিযানের একটি।
গত মাসে পেরুতে রুবিওর বক্তব্যে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেও অভিযান চালানোর সক্ষমতা রাখে, তবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
তবে রুবিও একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌযানে হামলা চালাবে। তার ভাষায়, প্রতিটি হামলা বা অভিযান আলাদাভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত
সূত্র: এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন