শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ এম
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার জনপদ মোড়ে মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আরিয়ান (২৭) নামে এক যুবক। তিনি ফুটপাতের জুতা ব্যবসায়ী ছিলেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরের দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আরিয়ানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল পৌনে ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিয়ানের আত্মীয় সোহাগ মিয়া জানান, আরিয়ান ফুটপাতে জুতা বিক্রি করতেন। আজ ভোরে তার ব্যবসার কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড় মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এ দুর্ঘটনায় আরিয়ান গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয় পথচারীরা আরিয়ানের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাকে ফোন দেন। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আরিয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, আরিয়ান এক বছর আগে মিম নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বর্তমানে মিম চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সন্তানের মুখ দেখার আগেই এভাবে চলে যাওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
আরিয়ানের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার রামগড় গ্রামে। তার বাবার নাম কাদের ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর নবীনগর মীর হাজিরবাগ এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জাতিসংঘে বলেন, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের ক্ষেত্রে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা না করে অন্য দেশকে দোষারোপ করছে। ইরান সংস্থাটির চাওয়া তথ্য ও স্থাপনায় প্রবেশের সুযোগও দিচ্ছে না।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় ওয়াল্টজ এসব অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে বরং আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।
বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে ওয়াল্টজ বলেন, “আপনাদের মিথ্যাচার এখানে কোনো কাজে আসবে না।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নিশ্চিত করবে যে, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।
মাইক ওয়াল্টজ বলেন, আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইরানের কাছে “ভাষণ নয়, জবাব” চেয়েছেন।
তবে একই বৈঠকে গ্রোসি জানান, ২০২৫ সালের জুনে সামরিক হামলার কারণে আইএইএ ইরানে পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে সংস্থাটির কর্মীদেরও ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
গ্রোসি বলেন, ইরান আগে আইএইএর পরিদর্শকদের ইসফাহানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু হামলা শুরু হওয়ায় পরিদর্শকদের পক্ষে ওই স্থাপনায় যাওয়া সম্ভব হয়নি।
আইএইএর মহাপরিচালক আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনের পর থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণের কোনো তৎপরতা তাদের নজরে আসেনি। তবে স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিশ্চিতভাবে জানতে সরেজমিন পরিদর্শন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকার নামে কয়েক শ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে জানা গেছে। আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামে এসব ঋণ দেওয়া হয়।
ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্কলাস্টিকা লিমিটেডের মোট দায় ৭৩০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৭২৭ কোটি টাকাই খেলাপি। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ মিলিয়ে বিপুল এই অর্থের দায়ে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি বছর ভর্তি ও অন্যান্য ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে প্রতিষ্ঠান। তবে প্রশ্ন উঠছে, উচ্চ হারে ফি আদায় করার পরও কেন প্রতিষ্ঠানটির এমন বিপুল অর্থ ঋণ করার প্রয়োজন হলো বা সেই টাকা কোথায় গেল।
অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্রিসেন্ট লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির অনুকূলে সোয়া চারশ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করেছে স্কলাস্টিকা। যদিও খাতা-কলমে কোম্পানিটির অস্তিত্ব রয়েছে, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। নথিতে উল্লেখিত ঠিকানায় এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। এমনকি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের কার্যক্রম ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কালবেলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) নথি ঘেঁটে ক্রিসেন্ট লিমিটেডের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন সালাউদ্দিন খান মজলিস, আব্দুর রউফ ও গাজী মনিরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে আব্দুর রউফ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাকি দুজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ক্রিসেন্ট লিমিটেডের দুই শীর্ষ ব্যক্তি আব্দুর রউফ ও সালাউদ্দিন মজলিস আগে ‘নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানেরও পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। এই সূত্র ধরে সামনে এসেছে আর্থিক খাতের আলোচিত ব্যক্তি সালমান এফ রহমানের নাম। তৎকালীন সময়ে সালমান এফ রহমান একদিকে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন, অন্যদিকে নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ ছিল তার মালিকানাধীন বিতর্কিত বেক্সিমকো গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালী মহলের এই যোগসাজশেই স্কলাস্টিকার শত শত কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে পাচার বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে কি না, এখন জোরালোভাবে উঠছে সেই প্রশ্ন।
আইএফআইসি ব্যাংকের নথি ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কলাস্টিকা দীর্ঘমেয়াদে ৩১৯ কোটি টাকা এবং স্বল্পমেয়াদে প্রায় ৩৭৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। এই পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ঋণগুলো পুনঃতপশিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুললেও কেন প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যাংক থেকে সাড়ে সাতশ কোটি টাকার কাছাকাছি ঋণ নিতে হলো এবং সেই ঋণের সিংহভাগ কেন খেলাপিতে পরিণত হলো।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য বিষয় হলো, যে প্রতিষ্ঠান নিজেই বড় ধরনের ব্যাংক ঋণে জর্জরিত এবং খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত, তাদের আবার শত শত কোটি টাকা দিচ্ছে এমন একটি কোম্পানিতে, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
আরজেএসসির নথি অনুযায়ী, ক্রিসেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রউফের ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল রাজধানীর অভিজাত ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের ৪৮ নম্বর বাড়ি। কিন্তু সরেজমিন দেখা যায়, ধানমন্ডির ১ নম্বর রোডে জোর সংখ্যার ক্রমানুসারে কোনো বাড়ির অস্তিত্বই নেই।
একইভাবে কোম্পানিটির অন্যতম পরিচালক গাজী মনিরুল ইসলামের ঠিকানা হিসেবে দেখানো হয়েছিল মিরপুর-১-এ বেক্সিমকো রিয়েল এস্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘মুনসী লেক ভিউ অ্যাপার্টমেন্টের’ ৮/২ নম্বর ভবন। তবে ওই এলাকায়ও ৮/২ নম্বরের কোনো বাড়ির নাম-নিশানা পাওয়া যায়নি। যদিও ওই আবাসিক এলাকার বি-২ নম্বর ভবনে গাজী মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সন্ধান মেলে, তবে তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন এবং এই ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় পরিচালক সালাউদ্দিন খান মজলিসের দেওয়া ইস্কাটন প্লাজার ঠিকানায় খোঁজ নিতে গেলে সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, সালাউদ্দিন খান মজলিস অনেক আগেই মারা গেছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও ওই বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তি ও ভুয়া ঠিকানাকে ঢাল বানিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক নিখুঁত ছক কষা হয়।
অনুসন্ধানী তথ্যে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর সমীকরণ। জানা গেছে, স্কলাস্টিকা স্কুল এবং এর মূল অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘এসেন্ট গ্রুপ’-এর অন্যতম প্রধান শুভাকাঙ্ক্ষী ও সেবাগ্রহীতা ছিলেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। অর্থাৎ স্কলাস্টিকার মালিকপক্ষের সঙ্গে পরোক্ষভাবে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতেন প্রভাবশালীদের তালিকায় থাকা সালমান এফ রহমান।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সালমান এফ রহমানের নিজস্ব মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তারা ছিলেন স্কলাস্টিকা থেকে সোয়া চারশ কোটি টাকা পাওয়া এই ভুয়া প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লিমিটেডের নেতৃত্বে। ফলে ব্যাংকের টাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ কৌশলে প্রভাবশালীদের পকেটে গেছে কি না, উঠছে সেই প্রশ্ন।
স্কলাস্টিকা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট কূটনীতিক ইয়াসমিন মুর্শেদ। ২০২৩ সালে তার প্রয়াণের পর থেকে স্কুলটি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন সৈয়দা মাদিহা মুর্শেদ। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ নিয়ে তা খেলাপিতে পরিণত করার পেছনে বর্তমান ও সাবেক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় অ্যাসেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং স্কুলটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৈয়দা মাদিহা মুর্শেদের সঙ্গে। তবে বিভিন্ন সোর্স মারফত নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি দেশের বাইরে আছেন। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে স্কলাস্টিকা লিমিটেডের কো-অর্ডিনেটর (কমিউনিকেশন এক্সিকিউটিভ অফিস) জিয়া হাসান বলেন, ঋণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করছি। তারা যে ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন, সে অনুসারেই এগোচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে দেবেন না, এমন আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন করবেন এবং এরপর প্রশাসন অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজে মনোযোগ নিবদ্ধ করবে।
ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাসে ফক্স নিউজের আয়োজিত একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে ভ্যান্স এসব মন্তব্য করেন। এক রিপাবলিকান ভোটার প্রশ্ন তুলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশে ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছে কি না, তখন তিনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
ভ্যান্স বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে মানুষের হতাশার বিষয়টি আমি বুঝতে পারি।”
এসময় তিনি ইরাক যুদ্ধে নিজের সামরিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা গত সাত মাস ধরে কোনো না কোনোভাবে ইরানের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। যুক্তরাষ্ট্র গত ৪৭ বছর ধরেই ইরানের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোনো চিরস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে দেবেন না।”
ভ্যান্সের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার অর্থ এই নয় যে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করতে হবে। তিনি মনে করেন, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে না চাইলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যগুলো অর্জন করবেন। এরপর তার প্রশাসন অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজে মনোযোগ দেবে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুতিগোষ্ঠী সউদী আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং সামরিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ছয়টি হামলার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন। তবে, এসব হামলার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
হুতিদের পরিচালিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি জানান, সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং আবকাইক শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সউদী আরামকোর একটি স্থাপনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এছাড়া, লোহিত সাগরের উপকূলে রাবিগ তেল শোধনাগারেও হামলার দাবি করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, এই হামলার ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া, সউদী আরবের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী নাজরান অঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছেন ইয়াহিয়া সারি। তিনি জানান, এতে সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে, হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার, সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আহত হন এবং একটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, হুতিগোষ্ঠী দাবি করেছে, ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সউদী বিমান হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে, এই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনা সউদী আরব ও হুতিগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ঘটছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যা সউদী আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালের শেষ দিকে সংঘাত শুরু হয়। ওই সময় হুতিগোষ্ঠী রাজধানী সানা ও দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সউদী আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট দেশটিতে অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ