ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব বেইজিংয়ের


তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব বেইজিংয়ের

চীন তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থা এবং পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বেইজিং মন্তব্য করেছে যে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা অবশ্যই তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।

ভারতের উদ্বেগের প্রসঙ্গে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, তিস্তা অববাহিকা ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার অত্যন্ত কাছে অবস্থিত, এবং এই বিষয়টি ঢাকা-বেইজিং যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের মূল কারণ।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

চীনের মতে, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

গুও জিয়াকুন আরও বলেন, তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি একটি জীবনযাত্রা-কেন্দ্রিক প্রকল্প, যেটিকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। চীন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়কে আরও জোরদার করতে এবং বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করতে চীন প্রস্তুত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পটির ওপর একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ পরিচালনা করবেন।

আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা

মন্ত্রী বলেন, ‘উভয় পক্ষই এ বিষয়ে একমত হয়েছে, যা গতবার এমন অবস্থায় ছিল না। চীন জানিয়েছে যে তারা এই প্রকল্পে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তা দেবে, কারণ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে এর যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে।’

বাংলাদেশ ও চীন সম্প্রতি তিস্তাসহ দেশের নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে যেকোনো অগ্রগতি ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে এনডিটিভি জানাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন’স নেক) নিকটবর্তী। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, ওই এলাকার চীনের উপস্থিতি বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ করিডরের কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রজনন মৌসুমেও সুন্দরবনে অব্যাহত মাছ-কাঁকড়া নিধন, উৎকোচের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে বন বিভাগের নজরদারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


প্রজনন মৌসুমেও সুন্দরবনে অব্যাহত মাছ-কাঁকড়া নিধন, উৎকোচের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে বন বিভাগের নজরদারি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম চলছে। তবে, এর মধ্যেও থামছে না অবৈধ মাছ ও কাঁকড়া শিকার।.

অবৈধভাবে নিষিদ্ধ বিষ প্রয়োগ, পাটা জাল এবং লোহার শিক ব্যবহার করে এক শ্রেণির অসাধু জেলে অবাধে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করছেন বলে অভিযোগ এসেছে। একইসাথে বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রজনন মৌসুমে বন প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এটি সূচিত করছে যে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ এই কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সরকার প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের জন্য। এ সময়কালে পর্যটন কার্যক্রম এবং জেলে-বাওয়ালিদের পাস-পারমিটও বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলে ও ব্যবসায়ীদের একটি চক্র বন বিভাগের কিছু অসাধু সদস্যকে উৎকোচ দিয়ে গোপনে বনাঞ্চলে প্রবেশ করে অবাধে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানিয়েছেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়ে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নির্ধারিত হারে অর্থ দিয়ে তারা বনে প্রবেশ করেন। ব্যবহৃত জাল ও শিকারের ধরন অনুযায়ী উৎকোচের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। তারা বলছেন, অর্থ দিলে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করা যায়, এবং অর্থ না দিলে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ এসেছে যে, বনের গহীনে মাছ ধরার সময় নিষিদ্ধ বিষ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাছের ডিম, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া কাঁকড়া ধরার জন্য নদীর চরে ‘আটন’ বসাতে গিয়ে নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে সুন্দরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। এতে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এবং খুলনা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান সাহীন বলেছেন, “প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া নিধন বন্ধ করা না গেলে অচিরেই এ মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মক সংকটে পড়বে। বন বিভাগকে আরও কঠোর হতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করেই নয়, অবৈধ শিকারিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং বন বিভাগের বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।”

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “প্রজনন মৌসুমে বন প্রবেশ ও মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিছু জেলে যে গোপনে বনে প্রবেশ করছে, তাতে অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বন বিভাগের টহল ও অভিযান চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু নৌকা আটক করা হয়েছে। আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশবিদ এবং বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবন বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার এক অন্যতম প্রাকৃতিক ঢাল এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মাছ ও কাঁকড়া নিধন বন্ধে কঠোর নজরদারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশগত ভারসাম্য দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে মাছ চাষে নীরব বিপ্লব — উৎপাদন ৫০ লাখ টন, তবে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে মাছ চাষে নীরব বিপ্লব — উৎপাদন ৫০ লাখ টন, তবে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক সংকট

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জসহ উপকূলে মাছ চাষ গত কয়েক বছরে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুকুর, হ্রদ এবং নদী ভরাট করে তৈরি আধুনিক একিউয়াকালচারের মাধ্যমে দেশের মৎস্য উৎপাদন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মৎস্যখাত শুধু দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে না, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকাশক্তিও, যেখানে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জলাশয়ও ক্রমেই কমছে। যুগ যুগ ধরে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করা জেলে পরিবারের সদস্যরা এখন কম মাছ পেয়ে বিপন্ন হচ্ছেন। তবুও গ্রামীণ বাংলাদেশে “মাছে ভাতে বাঙালি” প্রবাদটি আজও সত্য। ছোট পুকুর খনন, ঘরে ঘরে হ্যাচারি তৈরি এবং দীর্ঘ ঘণ্টার পরিশ্রমের মাধ্যমে গ্রামের মানুষরা ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন এক সমৃদ্ধ মাছ চাষ শিল্প। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে বাঙালির ভাতের থালা থেকে মাছ আজও হারায়নি। বাংলাদেশে মাছ চাষ গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মোট উৎপাদন ৫০ লাখ টনেরও বেশি হয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছে খামারভিত্তিক চাষ থেকে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে দেশে মোট মাছ উৎপাদনের মাত্র ১৬ শতাংশ আসত খামার থেকে। তখন দেশের মোট মাছের চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পূরণ হতো নদী, হাওর আর প্লাবনভূমি থেকে আহরিত প্রাকৃতিক মাছের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রাকৃতিক উৎসের উৎপাদন প্রায় একই থাকলেও, চাহিদার মাত্র ২৮ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। বাকিটা আসে খামারভিত্তিক চাষ থেকে। দেশে প্রায় ৮ দশমিক ৭ লাখ হেক্টর পুকুর, খাল ও জলাভূমি খামারভিত্তিক মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। খামারভিত্তিক মাছ চাষ দেশের মোট জিডিপির ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২২ শতাংশে অবদান রাখছে। এটি প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ ২ কোটি মানুষের জীবিকার উৎস। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মাছ উৎপাদনকারী দেশ। মাছ চাষের এই সাফল্য কেবল অর্থনৈতিক নয়, পুষ্টিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৬৭ দশমিক ৮ গ্রাম মাছ খাচ্ছেন, যা সরকারের লক্ষ্যমান ৬০ গ্রাম অতিক্রম করেছে। গত দশকে চাষ হওয়া পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার মতো মাছ গ্রামীণ সাধারণ পরিবারগুলোর ভাতের থালায় ইলিশ, রুই, কাতলার মতো দামী দেশি মাছের স্থান দখল করেছে। বাংলাদেশের পুকুর ও খালভিত্তিক মাছ চাষে গত তিন দশকে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে। এই সময়ে দেশের মোট মাছ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ গুণ, যা বিশ্বে একটি অনন্য সাফল্যের নজির। এর ফলে বাজারে মাছের সহজ লভ্যতা বেড়েছে, দামও তুলনামূলকভাবে মানুষের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানো সহজ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বব্যাপীও মাছ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে মাছ উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এখন বৈশ্বিক মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে মাছ চাষ এখন এক নতুন সাফল্যের যুগে পৌঁছেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পদ্ধতির ব্যবহার উৎপাদনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে মোট মাছ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ টনে, যার মধ্যে ৩২ লাখ টন এসেছে খামারভিত্তিক চাষ থেকে। এখন দেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে মাছ চাষ নিছক একটি পেশা নয়, বরং এক নীরব বিপ্লবের মাধ্যমে এটি গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং চাষকৃত মাছ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক হ্যাচারির সম্প্রসারণ, মানসম্মত খাদ্য শিল্পের বিকাশ এবং সরকারের দূরদর্শী নীতি এই সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। গত এক যুগে মাছ উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এর বড় অংশ এসেছে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও কৃষকদের দোরগোড়ায় উন্নত পদ্ধতি পৌঁছানোর কারণে। আইপিআরএস (International Pond Recirculation System), খাঁচায় চাষ, ট্যাংকি চাষের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন কম জায়গায় বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই নয়, বৈশ্বিক মৎস্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ১৩ লাখ টনের মতো মাছ ধরা হয়েছে, যার বড় একটি অংশই ইলিশ। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে শীর্ষে এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে এশিয়ায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এই সাফল্য দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শুধু তাই নয়, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত হাজারো উদ্যোক্তা মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন প্রাণ দিচ্ছেন। এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির প্রসার কম জলাশয়েও অধিক উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মিশ্র চাষ পদ্ধতিতে রুই, কাতলা, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার মতো মাছ একসঙ্গে চাষ করে অনেক খামারি লাভবান হচ্ছেন। বড় নদী ও জলাশয়ে খাঁচা পদ্ধতি ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ছে, আবার সীমিত জায়গায় ট্যাংকিতে মাছ চাষ করে পরিবারভিত্তিক আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে হরমোন উদ্দীপনার মাধ্যমে খাঁটি ও মানসম্মত পোনার সহজলভ্যতা নিশ্চিত হওয়ায় উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। এই খাতের সাফল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ মৎস্যচাষ ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত, যাদের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ নারীও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। এভাবে মৎস্য খাত শুধু আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে না, বরং নারীর ক্ষমতায়নেও অবদান রাখছে। এক সময় দেশের মাছের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হতো নদী, হাওর ও প্লাবনভূমি থেকে। কিন্তু এখন প্রাকৃতিক উৎসের উৎপাদন প্রায় একই থাকলেও এর অংশ নেমে এসেছে মাত্র ২৮ শতাংশে। চাহিদার বাকি অংশ পূরণ হচ্ছে খামারভিত্তিক চাষ থেকে, যা বাংলাদেশের মাছ চাষের বিপ্লবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। মাছ চাষ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেও বড় ভূমিকা রাখছে। চাষিরা লাভবান হয়ে পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করতে পারছেন, জমি কিনছেন, বাড়ি তৈরি করছেন এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। নারী উদ্যোক্তারাও এই খাতে এগিয়ে এসেছেন, যা মৎস্য শিল্পকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। সাফল্যের বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। যেমন-বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সফিকুল ইসলাম লিজ নেওয়া কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। তার সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিশ্রমের ফলে তিনি লাভবান হন এবং সেই টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরি ও জমি কিনে নিজের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করেছেন। তার এই সাফল্য মৎস্য চাষিদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প পরিসরে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। আজ তার খামারে ৮ একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে এবং তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২০ জন বেকার নারী ও পুরুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। লাভলী ইয়াসমিনের এই সাফল্য অন্যান্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায় মাছ চাষ বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের এক নির্ভরযোগ্য খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই সাফল্যকে আরও টেকসই করতে হলে নিরাপদ চাষাবাদ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন অতীব জরুরি। তবে এই সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি নীরব সংকট, অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার। অধিক উৎপাদনের চাপের কারণে অনেক চাষি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ও অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করছেন। এর ফলে মাছের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ জমা হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব। অধিকাংশ চাষি অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন না, কারণ তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে চাষিদের মধ্যে তথ্যের অভাবও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রায় ৮৮ শতাংশ চাষি অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে অবগত নন, আর ৭২ শতাংশ চাষি তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নন। সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব, তথ্যের অভাব এবং নীতিমালার স্পষ্টতার অভাবে এই সমস্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক চাষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া বা অপ্রশিক্ষিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন, যা স্বল্পমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করলেও দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। এছাড়া মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের উপর কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নিয়ন্ত্রণ নেই। এর ফলে অনেক চাষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া বা অপ্রশিক্ষিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে, কারণ অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু সৃষ্টি হচ্ছে, যা জলজ পরিবেশের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে সাধারণ চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে মাছ চাষকে টেকসই ও নিরাপদ রাখার জন্য এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও অগ্রণী ভূমিকা পালনে অঙ্গীকার করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা অতীব জরুরি। কারণ সঠিক নীতিমালা ছাড়া এই খাত দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন, যাতে তারা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি, এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এবং নিরাপদ বিকল্প সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রশিক্ষণের অভাবে চাষিরা ভুলভাবে রাসায়নিক ও ওষুধ ব্যবহার করছেন, যা সমাধান করতে হলে গ্রামীণ পর্যায়েও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। যেমন: প্রোবায়োটিক বা প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক চিকিৎসা, পানির মান নিয়ন্ত্রণের উন্নত কৌশল এবং উন্নত মানের খাবার ব্যবহার। তবে বাজারে ভেজাল প্রোবায়োটিক ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, যাতে চাষিরা প্রতারিত না হন এবং নিরাপদ পদ্ধতিগুলো সত্যিকারের সুফল দিতে পারে। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মাছ চাষ খাত শুধু দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও টেকসই ভিত্তি তৈরি করতে পারবে। বাংলাদেশের মাছ চাষ খাত নিঃসন্দেহে এক বিশাল সাফল্যের গল্প। এই খাত দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তায় যে অবদান রাখছে তা বিশ্ব স্বীকৃত। তবে এর আড়ালে অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার এক নীরব সংকট তৈরি করছে, যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুতর হুমকি। এখন সময় এসেছে এই খাতকে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির দিক থেকে নয়, বরং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদনের দিক থেকেও নতুনভাবে ভাবার। সরকারি নীতিমালা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা, গবেষণার প্রসার এবং চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিক নির্ভরতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রোবায়োটিক ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। সঠিক পদক্ষেপ এখনই না নিলে এই সাফল্যের ধারাই ভবিষ্যতে সংকটে রূপ নিতে পারে। মাছ চাষের এই উজ্জ্বল অর্জনকে স্থায়ী ও টেকসই করতে হলে নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধ করাই হতে হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ কলেজের নতুন নাম ঘোষণা, দুটিতে যুক্ত হলো শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


৪ কলেজের নতুন নাম ঘোষণা, দুটিতে যুক্ত হলো শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম

দেশের দুটি বেসরকারি কলেজের নামকরণের অনুমোদন সরকার দিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে। একইসঙ্গে, পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার নাজিরপুর কলেজের নতুন নাম হবে শহীদ জিয়া কলেজ, নাজিরপুর, পিরোজপুর। একইসঙ্গে ভোলার চরফ্যাশনের জনতা বাজার কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে জনতা বাজার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ, চরফ্যাশন, ভোলা।

আরেকটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে হবिगঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মৌলানা আছাদ আলী ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ সঈদউদ্দীন ডিগ্রি কলেজ, মাধবপুর, হবিগঞ্জ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, একই দিনে জারি করা আরও একটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আয়েশা ছিদ্দিক মহিলা কলেজের নাম পরিবর্তন করে আয়েশা ছিদ্দিক মডেল কলেজ রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে জানানো হয় যে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কলেজগুলোর নাম পরিবর্তনের অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন থেকে ঋণের আশ্বাস পাওয়া গেছে কিনা, জানতে চান রুমিন ফারহানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


চীন থেকে ঋণের আশ্বাস পাওয়া গেছে কিনা, জানতে চান রুমিন ফারহানা

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, এই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপরে আলোচনায় তিনি এ প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।

অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, যদি পেয়ে থাকে তাহলে তার পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, সে বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট করা উচিত।’

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কি কেবলমাত্র চাইতে গেছি ভিক্ষার ঝুলি হাতে?’ না। এ ধরনের কিছু কেউ আশা করেন না। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা স্বপ্ন দেখালেও বছরের প্রতিটি অংশে সেই স্বপ্নভঙ্গের পরিণতি জনগণকে ভোগ করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এটি শুধুমাত্র ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত ঘাটতি আরো বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%