ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেন ইরানের ‘রহস্যময়’ পিকঅ্যাক্স পর্বতকে লক্ষ্যবস্তু করতে চান ট্রাম্প


কেন ইরানের ‘রহস্যময়’ পিকঅ্যাক্স পর্বতকে লক্ষ্যবস্তু করতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন এবং অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রহস্যময় পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর ওপর হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর, আন্তর্জাতিক মহলে স্থাপনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নানা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত এবং দুর্ভেদ্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কোথায় অবস্থিত? ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি পাহাড়ি এলাকা, যেখানে দুটি ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে পাহাড়ের গভীরে। এই স্থাপনাটি শত শত মিটার পুরু কঠিন গ্রানাইট শিলার নিচে অবস্থিত, যার কারণে প্রচলিত বাঙ্কার-ভেদী শক্তিশালী বোমা দিয়েও এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাহাড়ের গভীরে এই স্থাপনা নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো বিমান হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সুরক্ষা দেওয়া।

এই স্থাপনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ রয়েছে যে ইরান এখানে একটি গোপন, ঘোষণাবহির্ভূত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে, যা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য কৌশলগত বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, ২০২০ সালে শুরু হওয়া নির্মাণকাজের উদ্দেশ্য হলো উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য একটি নিরাপদ শিল্প স্থাপনা তৈরি কৰা; সেখানে গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে না।

ট্রাম্পের হুমকি সম্পর্কিত বক্তব্যে, মার্কিন রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।” এরপর তিনি দাবি করেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ওপর খুব নিবিড় নজর রাখছি। সেখানে এখন কোনও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখছি না। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। যখনই আমরা কিছু শুনি, তখনই সেটি ধ্বংস করে দিই। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চায় না। খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সেও হামলা হতে পারে।”

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তবে ট্রাম্প তার দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ট্রাম্পের এই হুমকির সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা তৃতীয় রাতের মতো পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। সেন্টকমের দাবি, পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ‘নির্ভুল নির্দেশিত’ অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং নৌ-সামরিক স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে।

অন্য দিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে আবার অস্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

এছাড়া ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেমন কিশ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং জাম এলাকা। বার্তা সংস্থা ফার্স স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, এসব এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। মেহর নিউজ এজেন্সিও কিশ এবং কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, বন্দরে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কিশ দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণের কথা জানালেও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। মেহরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া নূর নিউজ জানিয়েছে, সোমবার রাতের হামলার পর কিশ দ্বীপের বন্দরে তিনটি নৌযানে আগুন ধরে যায়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

কূটনীতির পথ কি এখনও খোলা? সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘অবশ্যই সম্ভব’। তবে, একই সময়ে ওয়াশিংটন নতুন সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানের বন্দরের ওপর অবরোধও পুনর্বহাল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সামরিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আলোচনার দরজা খোলা রাখার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘চাপ সৃষ্টি করে সমঝোতায় বাধ্য করার’ কৌশল অনুসরণ করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা অধিক বলেই মনে করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি সব সুবিধা মিলবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


সরকারি সব সুবিধা মিলবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে।’ তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য প্রদান করা বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এটির মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠিত অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের কৃষিখাত, প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও যন্ত্রণার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। নিজেই একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত।’ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সে কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের আপামর কৃষকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতিটি ছিল, ‘যদি দলটি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সব কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার গঠন করার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক, যাদের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাদের সুদসহ সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। সরকার পরিচালনার মূল লক্ষ্যই যে দেশের সাধারণ মানুষ, এই পদক্ষেপ তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান, ‘গতকাল যখন একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তার নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে তা জানতে চান, তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।’ ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা জেমস স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার বেলা ১১টায় মাওলানা মামুনুল হকের কার্যালয়ে।

সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। এসময় মামুনুল হক বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএমের ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বিশেষভাবে বাংলাদেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ, চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক সংলাপের ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, আমিরে মজলিসের পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব ফারিদ খান এবং মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত কামরুল হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব ধর্মই মানবকল্যাণের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত: চাঁদপুরের ডিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


সব ধর্মই মানবকল্যাণের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত: চাঁদপুরের ডিসি

ধর্মের নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিকতাবিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরের সময়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

জেলা প্রশাসক সভায় বলেন, পৃথিবীর সব ধর্মই পারস্পরিকভাবে মানবকল্যাণের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত। কোন ধর্মই মানুষকে মিথ্যা বলা, চুরি করা, অত্যাচার-নির্যাতন চালানো কিংবা অন্যের ক্ষতি করতে শেখায় না।

তিনি আরও বলেন, নৈতিকতা, মানবিকতা, কাউকে আঘাত না করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ, বন্ধুর সঙ্গে ভালো আচরণ, গুরুজনকে সম্মান করা এবং শিশুদের প্রতি স্নেহ এসব মূল্যবোধ সব ধর্মেই সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর কালেক্টরেট মসজিদের খতিব মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদপুর জেলা শাখার শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নগেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, চাঁদপুর বাইতুল আমিন জামে মসজিদের খতিব সাইফুল আলম খন্দকার, রামকৃষ্ণ আশ্রমের সহযোগী অধ্যাপক স্বামী সুবলাল নন্দ এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে জিলানী চিশতী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাবাসসুম নাবা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রতিহতকারী শহীদদের প্রতি তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের শ্রদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রতিহতকারী শহীদদের প্রতি তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের শ্রদ্ধা

তুরস্কে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান প্রতিহত করে গণতন্ত্র রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। 'গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস'-এর দশম বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এ শ্রদ্ধা জানান।

'১৫ জুলাই অভ্যুত্থানচেষ্টার দশম বার্ষিকী: গণতন্ত্রের বিজয়' শীর্ষক এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'ফেতুল্লাহবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন (ফেটো)'র পরিকল্পনায় সংঘটিত ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মরণে তুরস্কে ১৫ জুলাই 'গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

তিনি বলেন, 'এই দিবসের দশম বার্ষিকীতে আমি ফেটো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী আমাদের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'

রাষ্ট্রদূত স্মরণ করেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় ফেটো তুরস্কের জনগণ ও প্রজাতন্ত্রের সরকারের বিরুদ্ধে একটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানচেষ্টা চালায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেতুল্লাহ গুলেন এবং তার অনুসারীরা এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন। সে সময় ফেটো-সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে এবং যুদ্ধবিমান ও হামলাকারী হেলিকপ্টার দিয়ে তুরস্কের পার্লামেন্ট, প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্স, সেনা ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায়।

রামিস সেন বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নাগরিকরা সেদিন রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান প্রতিহত করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

তিনি বলেন, 'সেদিন রাতে তুরস্কের জনগণ নিজেদের জীবন দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ২৫৩ জন নিরীহ নাগরিককে হত্যা করে এবং হাজারো মানুষকে আহত করে।'

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফেটো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তার ও আন্তধর্মীয় সংলাপের আড়ালে নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রেখেছিল।

তিনি বলেন, সংগঠনটি তুরস্ক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

রামিস সেন বলেন, 'ফেটো কেবল তুরস্কের জন্য নয়, যেসব দেশে তারা সক্রিয় রয়েছে, সেসব দেশের জন্যও একটি হুমকি।'

তিনি জানান, অনেক দেশ ইতোমধ্যে ফেটো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের সদস্যদের বহিষ্কার করেছে। এছাড়া ২০১৬ সালের পর থেকে বিদেশে ফেটোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তুর্কি মারিফ ফাউন্ডেশনের অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টাকে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত রামিস সেন গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%