১০:০৮ এম
রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মা ও মেয়ের মরদেহের ফরেনসিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চারজনের মরদেহে গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চার মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়াকে মাদকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তোলার আহ্বান জেলা প্রশাসকের
নিহত অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, "আমরা কোনো সেক্সুয়াল অ্যাসল্টের সাইন পাইনি।" ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো স্যাম্পলগুলোতেও এ ধরনের কোনো এভিডেন্স পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আরও জানান, চারটি মরদেহেই বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। সবার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। কিছু মরদেহের বুকে ও মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে এসব আঘাত মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
তিনি বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর অনেক দেরিতে মর্গে পৌঁছায়। ততক্ষণে সেগুলো পচন প্রক্রিয়ায় চলে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনেরই মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে।
মরদেহের মুখ কালো হয়ে যাওয়ার বিষয়ে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, "এটি কোনো কেমিক্যাল বা অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়ার ঘটনা নয়।" পচন প্রক্রিয়ার কারণে শরীরের যে অংশ খোলা বা এক্সপোজড থাকে, তা ধীরে ধীরে কালো হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: গেন্ডারিয়ার রেলস্টেশন এলাকার মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ
তিনি আরও বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় ঘণ্টা বা মিনিট ধরে বলা সম্ভব নয়। কেবল একটি আনুমানিক সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়। চারজনের মধ্যে কে আগে বা পরে মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এর আগে, রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের এক ডোম একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর শরীরেও ধর্ষণের আলামত ও বীর্যের উপস্থিতির দাবি করেন তিনি। পরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, "ভ্যাজাইনাল সোয়াব নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তির মনে হয়ে থাকতে পারে যে পরীক্ষায় কোনো ফল পাওয়া যাবে।" তবে পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদও জানিয়েছিলেন, নিহত মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে ইউ মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীকে গুলি, আহত ১
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে তার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজন পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: যুবদলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
আলোচিত এ মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির ওসি জিনাত আলী বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন