০৬:২৪ পি.এম
কোরীয় উপদ্বীপে আবারও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে সামরিক সক্ষমতা জোরদারের কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর দক্ষিণ কোরিয়া আধুনিক ড্রোন বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করার খবর পাওয়া যায়। এই দুই প্রতিবেশী দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত মঙ্গলবার, উত্তর কোরিয়ার বন্দরের শহর নামফোতে পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ ‘চো হাইওন’-এর আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হওয়ার পর তারা এখন ধারাবাহিকভাবে ১০ হাজার টন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এর এক দিন পর, বৃহস্পতিবার কিম জং উনের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া উন্নত সংস্করণের রকেট গোলন্দাজ ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালায়। এটি দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন: লাহোর বায়ুদূষণে শীর্ষে, ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
পরীক্ষা শেষে কিম বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় কেবল শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। এ কারণে, প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি তাদের জাতীয় কৌশলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এপ্রিলের শুরুতে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম উৎপাদনের একটি নতুন কারখানা জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে।
উত্তর কোরিয়ার এসব সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে তারা পাল্টা প্রস্তুতিও নিচ্ছে। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির জবাবে ড্রোনের সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে দক্ষ ড্রোনযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সামনের সারির ইউনিটগুলোতে ১০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ড্রোনের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ড্রোনকে আর শুধুমাত্র বিশেষ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। তাঁর মতে, প্রতিটি সেনাসদস্যের জন্য এটি রাইফেলের মতোই একটি দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র হওয়া উচিত। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্বল্প ব্যয়ের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন করছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের উপনিবেশ থেকে কোরীয় উপদ্বীপ মুক্ত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক বিভাজনের সূচনা হয়। তখন বিশ্বের দুই পরাশক্তি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উপদ্বীপের দুই অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতেই, এবং দক্ষিণাঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে এসে পড়ে।
১৯৪৮ সালের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরের মাসের সেপ্টেম্বরেই প্রতিষ্ঠা পায় উত্তর কোরিয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক বৈরিতাপূর্ণ রূপ ধারণ করে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই কোরিয়া এখনো যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শান্তি আলোচনা ও দুই কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেগুলো সফল হয়নি। বরং সময়ের সাথে সাথে দুই দেশের যুদ্ধংদেহী অবস্থান কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটশাসিত শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের
তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন