ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

যশোরের অভয়নগরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩


যশোরের অভয়নগরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

যশোরের অভয়নগরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক তরুণের মৃত্যু ঘটেছে এবং ভ্যানে পরিবহনের ধাক্কায় ভ্যানের দুই যাত্রী নিহত হন। এছাড়াও, এসব ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগরের প্রেমবাগ উড়োতলা এলাকায় ঘটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এতে নিহত হন আব্দুল্লাহ আল আপন (২২) নামের এক তরুণ। দুর্ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী হোসেন আলী গুরুতর আহত হন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ আল আপন অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকারা গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে হোসেন আলীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভৈরব ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একটি দ্রুতগামী পরিবহনের ধাক্কায় ভ্যানের দুই যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন অভয়নগর উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামের মঈন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুস সমাদ বিশ্বাস (৫০) এবং অপরজন একই গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে আব্দুল ওহাব (৫৫)। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুতে অভয়নগরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: ভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী, ব্লাকমেইল, পর্নোগ্রাফি মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতার ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন রিপাবলিকান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছেন। এনবিসি নিউজের পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

৬০ বছর বয়সী অ্যাকটন ওহাইওর ইতিহাসে প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে জয়ী হলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওহাইও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

৪১ বছর বয়সী রামাস্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। প্রচারে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন এবং তার পক্ষে কয়েকজন ধনকুবেরও বড় অঙ্কের অনুদান প্রদান করেন।

অ্যাকটন এর আগে রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের প্রশাসনে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে তার ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে পড়লেও, তিনি নিজের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে নির্বাচনি প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছেন।

জয়ের পর অ্যাকটন এক বিবৃতিতে বলেন, "বিভেদ ও বিদ্বেষের পরিবর্তে ওহাইওর মানুষ ঐক্য ও শালীনতাকে বেছে নিয়েছেন।" তিনি আরো উল্লেখ করেন, তিনি দল-মতনির্বিশেষে সব অঙ্গরাজ্যবাসীর গভর্নর হিসেবে কাজ করবেন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দেবেন।

মেয়াদসীমা পূর্ণ হওয়ায় অ্যাকটন বর্তমান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বর

মারুফ কামাল খান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি বিশেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত। সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে এই তারিখটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল স্থান অধিকার করে আছে।

সংক্ষিপ্ত পটভূমি

৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির প্রকৃতি এবং এর অনিবার্যতা উপলব্ধি করতে হলে এর পটভূমি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন ধাপে অগ্রসর হয়েছে। ইতিহাসের নানা বাঁকে অনেকেই এই প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন, কেউ কেউ বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ও সমাপ্তির সময়েও জনগণের নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধ শুরুতে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে নেতৃত্বের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হওয়ায় একই পরিস্থিতি আবারও দেখা দেয়। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে থমকে দিয়ে ভারতের সেনাবাহিনীর হাতে বিজয়ের গৌরব তুলে দেয়া হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ‘ভারতের দয়ার দান’ হিসেবে গণ্য হতে থাকে। অথচ এই মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছে, যুদ্ধে পঙ্গু হয়েছে, কোটি কোটি মানুষ সহ্য করেছে অবর্ণনীয় নির্যাতন, অসংখ্য নারী হারিয়েছে সম্ভ্রম। তাদের অসীম ত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধে ভারত সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ভারতের সঙ্গে গোপন অধীনতামূলক চুক্তিতে সই করে সেদিনের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিবাহিনীকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডের আওতায় ন্যস্ত করে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ভারতীয় কর্তৃত্বে চলে যায়।

এরপর প্রবাসী সরকারকে ঢাকায় এনে ক্ষমতায় বসানো হলেও তাদের কার্যকলাপ তদারকির জন্য ভারতীয় উপদেষ্টাদের নিয়োগ করা হয়। মোট কথা, নয় মাস যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের শেষ প্রান্তে বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলেও এই রাষ্ট্রটির সত্যিকার অর্থে কোনো সার্বভৌমত্ব ছিল না। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ্যে ঢাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে বলতেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি, জাতীয় স্বার্থ তথা সবকিছুই হবে ভারতীয় স্বার্থের পরিপূরক। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষ লড়েছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য, ভারতীয় স্বার্থের পরিপূরক কোনো দেশ গড়ার জন্য নয়।

মুজিবের প্রত্যাবর্তন : বিশ্বাভঙ্গ

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে রুশ-ভারত অক্ষবলয়ে প্রবেশ করেছিল। তবে মার্কিনীরা বিশ্বাস করতো, শেখ মুজিব আমেরিকার স্বার্থ পরিপন্থী কিছু করবেন না।

পাকিস্তানীরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আশা করতে থাকে যে, যা-হবার হয়ে গেছে, এখন দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে কনফেডারেশন ধরনের বন্ধন গড়ে তোলার ব্যাপারে শেখ সাহেবই পালন করতে পারবেন উপযুক্ত ভূমিকা। এসব প্রস্তাবে রাজি হয়েই মুজিব স্বদেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই মুজিব তার স্বভাবসুলভ কায়দায় স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সাফল্যের সব কৃতিত্ব একাই আত্মস্থ করার চেষ্টা করেন। তবে রুশ-ভারত বলয় থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে তিনি চাতুর্যের সঙ্গে কিছু পদক্ষেপ নিতে থাকেন।

রুশ-ভারতঘেঁষা বলে পরিচিত তাজউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তিনি সরকারপদ্ধতি বদল করে নিজেই প্রধানমন্ত্রী হন। কিছুদিনের মধ্যেই তাজউদ্দিনকে তিনি মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ দিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমাদ ও অন্যান্য মার্কিনপন্থীদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের জন্যও তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে অনুরোধ করেন এবং সফল হন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এবং জাতিসংঘ তখন বাংলাদেশে ভারতীয় সেনার উপস্থিতির বিরোধিতা করছিল। শেখ মুজিব পাকিস্তান সফরে যান ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ভুট্টোকেও তিনি ঢাকায় স্বাগত জানান। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে তিনি গোপনে লবিয়িং শুরু করেন। পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যদের বিচারের দাবিও তিনি ত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমা।

এগুলো সবই ছিল পাকিস্তান ও মার্কিন প্রশাসনকে দেয়া তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। কিন্তু বেশি দূর এগুনো সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। কারণ সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ তখন রুশ-ভারত প্রভাব বলয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং অবস্থানগুলো তখন ভারতপন্থীদের কব্জায়। ফলে শেখ মুজিবকেই তাদের কাছে আত্মসমর্পিত হতে হলো। ওয়াদা ভাঙলেন শেখ মুজিব। ভোল পাল্টালেন। নিজের আজন্মলালিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সাজলেন সমাজতন্ত্রী। ভারতীয়রা কখনোই তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করত না। ভারতে না গিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি আর্মির হাতে গ্রেফতারবরণসহ তার কিছু কর্মকাণ্ডে তারা ইতোমধ্যেই ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। এবার তিনি বিশ্বাস হারালেন মার্কিন প্রশাসনের। জনতার আস্থা তিনি আগেই হারিয়েছিলেন। শাসকদলের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, লুণ্ঠন, শোষণ, নির্যাতন ও সন্ত্রাসের কারণে মুজিবের পায়ের তলার মাটি আলগা হয়ে গিয়েছিল। মার্কিন সমর্থন হারিয়ে মুজিব আরও বেশি করে ঝুঁকে পড়লেন তদানীন্তন সোভিয়েত বলয়ের দিকে। ইতিহাসের পাতা এরপর দ্রুত উল্টে যেতে থাকে।

সমাজতন্ত্র কায়েমের নামে গণতন্ত্র এবং মৌলিক মানবিক অধিকারকে হরণ করে মুজিব একদলীয় বাকশালী স্বৈরশাসন কায়েম করেন। হরণ করেন বাক-ব্যক্তি, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। চারটি দৈনিক সংবাদপত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চালু রেখে বাকি সকল দৈনিক ও অসংখ্য সাপ্তাহিক এবং সাময়িক পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ সকল রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের একমাত্র রাজনৈতিক দল বাকশালে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়। সংসদ ও সরকারের মেয়াদ নির্বাচন ছাড়াই তিন বছরের জন্য বাড়িয়ে নেয়া হয়। গণতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় রদবদলের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্রের ধাঁচে একটি স্বেচ্ছাচারী প্রশাসন ও শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

মার্কিনী প্রতিশোধ : অস্থিতির জন্ম

ইতোপূর্বে সশস্ত্র বাহিনীর সমান্তরাল বাহিনী হিসেবে প্রভূত ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গঠন করা হয়েছিল জাতীয় রক্ষীবাহিনী। এ কারণে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের উপেক্ষিত ভাবতে শুরু করেছিলেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনায়ও সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। তারা যখন দেখলেন যে, সরকার পরিবর্তনের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে পাকাপোক্ত করার সব আয়োজন শেখ সাহেব সম্পন্ন করেছেন, তখন তারা ক্রুব্ধ হয়ে ওঠেন। সেনাবাহিনীর এই উত্তেজিত অংশটিকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের মার্কিনপন্থী অংশটি এক রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। মুজিব এবং তার দু’জন নিকটআত্মীয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ অভ্যুত্থানে নিহত হন। মুজিবের দীর্ঘকালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও রাজনৈতিক সহচর খন্দকার মোশতাক আহমাদ রাষ্ট্রপতি পদে বসেন। আচমকা ও অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে যাওয়া এই পটপরিবর্তনকে দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নিয়েছিলেন। কেননা আওয়ামী বাকশালী স্বৈরশাসনে তারা ছিলেন অতিষ্ঠ। কিন্তু এই অভ্যুত্থান শাসনব্যবস্থায় স্থিতি আনার বদলে আরো বেশি সংঘাত ও অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত বাকশালের রুশ-ভারতপন্থী অংশটি এই পরাজয়কে মেনে নিতে পারেনি। তারা পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিতে থাকে। মুজিব বাকশাল করে সব দল নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর সিভিল পলিটিশিয়ান মোশতাকের নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক সরকার বাকশালও বাতিল করে। ফলে দেশ থেকে রাজনৈতিক দল তো বটেই, রাজনীতিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই রাজনীতিহীন সময়ে স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল সশস্ত্রবাহিনীকে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। এ ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগে সেনাবাহিনীর উচ্চাভিলাষী ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ তার অনুগত কতিপয় অফিসারের সমর্থনে খন্দকার মোশতাককে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিদ্রোহ করেন। ৩ নভেম্বর সংঘটিত ওই বিদ্রোহের হোতারা সেনাবাহিনীপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে অধস্তন কর্মকর্তা খালেদ সেনাপ্রধান পদ থেকে জিয়াকে অপসারিত করেন এবং নিজেকে নয়া সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন।

খালেদের উদ্দেশ্য ফাঁস

উচ্চাভিলাষী খালেদ বিভিন্ন মতাবলম্বী পক্ষকে তাদের মনমতো কথাবার্তা বলে তার দলে ভেড়াবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু অচিরেই তার কার্যকলাপে অনেকেই বুঝতে পারে যে, ক্ষমতা দখলই তার আসল উদ্দেশ্য।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পেছনে খালেদের সক্রিয় সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ৩ নভেম্বর তিনি মুজিব ভক্তদের বুঝিয়েছিলেন যে, মোশতাকের সরকার অবৈধ। এই সরকারকে আঘাত করে মুজিব হত্যার বদলা নিতে চান তিনি। তার কথায় মুজিবভক্তরা বলেছিলেন, মোশতাককে অপসারণের পর মুজিবের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুলকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। কিন্তু মোশতাককে অপসারণের সঙ্গে যুগপৎভাবে ঘটে যায় রহস্যঘেরা জেলহত্যাকাণ্ড। একদল সৈন্য জেলে ঢুকে সৈয়দ নজরুল ও তাজউদ্দীনসহ আওয়ামী-বাকশালী চার শীর্ষনেতাকে খুন করে। এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে খালেদ অজ্ঞতা প্রকাশ করলেও অনেকেই তাকে সন্দেহ করতে থাকে।

ব্রিগেডিয়ার খালেদ ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত সামরিক অফিসারদের সঙ্গে এই মর্মে সমঝোতায় পৌঁছান যে, তাদের নিরাপদে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হবে এবং পরে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে চাকরির বন্দোবস্ত করা হবে। এদের মধ্যে কর্নেল ফারুক তার আত্মীয় ছিলেন। সেই সমঝোতা অনুযায়ী ওই অফিসারদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে খালেদের স্ত্রীকে তাদের সঙ্গে বিমানে তুলে দেয়া হয়। বেগম খালেদ তাদেরকে নিরাপদে ব্যাংককে পৌঁছে দিয়ে আসেন।

কিন্তু এতসব কৌশল ও চাতুরির আশ্রয় নিয়েও খালেদ সবখানে তার নিজের কর্তৃত্বকে সংহত করতে পারেনি। তিন দিন ধরে রেডিও-টেলিভিশন স্টেশন চালু করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সামরিক শাসন বলবৎ করা সত্ত্বেও ক্ষমতার শীর্ষপদে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও বসতে পারেননি। বঙ্গভবন দখল করতে গিয়ে ক্যান্টনমেন্টেই তার কর্তৃত্ব আলগা হয়ে যায়।

সাধারণ সৈনিক ও অফিসাররা খালেদের রহস্যজনক কার্যকলাপের ব্যাপারে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ, সংশয় ও সন্দেহ প্রকাশ করতে থাকেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীতে রক্তক্ষয় ও সংঘাত এড়াতে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর হস্তক্ষেপে একটি মাঝামাঝি পদক্ষেপ নেন খালেদ। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বসানো হয়। সীমাহীন চাপের মধ্যে তড়িঘড়ি করে করে এই সিন্ধান্ত নেয়া ছিলো সেনাপ্রধান পদে খালেদের বসার মতই অবৈধ।

মোশতাক সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে খালেদ নিজেও একই ধরনের অবৈধ কাজ করেন। তাকে সিএমএলএ হিসেবে মেনে নিতে সেনা কমান্ডারদের আপত্তি বুঝতে পেরে তিনি একজন সিভিলিয়ান বিচারপতিকে সিএমএলএ বানান। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। রুশ-ভারতপন্থীরা পুনরুত্থানের পথ খুঁজছিল। খালেদের বিদ্রোহে উল্লসিত হয়ে ওঠে তারা।

মুজিব ভক্তরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমবেত হয়ে সভা করে। সেখান থেকে মুজিবের ফটো নিয়ে মিছিল করে তারা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে নিহত নেতার বাসভবনে গিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ওই সমাবেশ থেকে খালেদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়। মিছিলে খালেদের মা এবং ভাই (আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী মরহুম রাশেদ মোশাররফ) শরিক হন। এই খবর প্রচারিত হলে সেনাবাহিনীসহ সবখানে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সৈনিক ও অফিসাররা বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন ও মতবিনিময় করে খালেদের ক্ষমতার স্বপ্নকে গুঁডিয়ে দেয়ার সিন্ধান্ত নেন।

বিপ্লব ও সংহতি

৭ নভেম্বর প্রথম প্রহর থেকে সারা দেশের সেনা ছাউনিগুলোর চেহারা বদলে যায়। সৈনিকেরা অস্ত্র হাতে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে বেরিয়ে আসেন রাজপথে। প্রত্যেক ক্যান্টনমেন্ট থেকে একদল করে সশস্ত্র সৈন্যকে পাঠিয়ে দেয়া হয় রাজধানীর দিকে। রাত্রির শেষপর্বে তারা ঢাকায় এসে পৌঁছে। মধ্যরাত্রির পর ঢাকা সেনানিবাসেও শুরু হয়ে যায় সৈনিকদের অভ্যুত্থান। ব্যারাক থেকে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে তারা বেরিয়ে আসেন। বন্দী সেনাপ্রধান জিয়াকে মুক্ত করে কাঁধে তুলে সাধারণ সৈনিকরা বেরিয়ে আসেন রাজপথে। অবস্থা বেগতিক দেখে বঙ্গভবন থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পালাতে গিয়ে ঢাকার রাজপথে সৈনিকদের হাতে ধরা পড়েন খালেদ তার কয়েকজন দোসরসহ। ক্রুব্ধ সৈনিকেরা তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেন। এর অল্প কিছু আগে খালেদের সমর্থক কর্নেল মালেক, শাফায়াত জামিল, জাফর ইমাম, মেজর হাফিজ প্রমুখ কয়েকজন অফিসার পরিস্থিতি অনুধাবন করে তাকে ছেড়ে নিরাপদে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

“বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, কুচক্রিরা নিপাত যাক, জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ” ধ্বনি দিয়ে সৈনিকেরা ৭ নভেম্বর সুবহে সাদেকের সময়ে রাজপথে নেমে এলে তাদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাতে সারা দেশের জনগণ রাজপথে নেমে আসেন। শ্রেণীপেশা নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা দেশরক্ষার সৈনিকদের সঙ্গে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে স্লোগান তোলেন। সেনাদলগুলিকে বিপুল করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করতে থাকে রাজপথের দু’পাশে অপেক্ষমাণ লাখো মানুষ। জনসমুদ্র থেকে বর্ষিত পুষ্পবৃষ্টিতে ছেয়ে যায় ট্যাংক, সাঁজোয়া যান। কামানের নলে সাধারণ মানুষেরা মালা পরিয়ে দেন। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর আর এমন দৃশ্যের অবতারণা কখনো হয়নি।

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মিল

স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

এক. জাতীয় ইতিহাসের এই দুটি ক্রান্তিকালেই সৈনিক এবং সাধারণ জনতা মিলিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে বিপ্লবে নেমেছে।

দুই. উভয় সময়েই সাধারণ সৈনিক ও জনগণ এগিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন দায়িত্বশীল নেতারা ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে। একাত্তরে দোদুল্যমান শেখ মুজিব স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা ও নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হন। পঁচাত্তরে বঙ্গভবনে থেকে খন্দকার মোশতাক ব্যর্থ হন জাতিদ্রোহী চক্রান্তকে নস্যাৎ করতে।

তিন. উভয় ঘটনাতেই জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল অনন্যসাধারণ। ’৭১-এ ২৫ মার্চের গণহত্যার সূচনায় জনগণের নির্বাচিত নেতারা আত্মসমর্পণ ও পালানোর পথ বেছে নিলে নেতৃত্বশূণ্য ও আক্রান্ত জনগণ মারাত্মক অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। সেই ঘোর দুঃসময়ে ইথারে ভেসে এসেছিলো একটি কণ্ঠ : ‘আমি মেজর জিয়া বলছি...।’ চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেডিও স্টেশন মারফত স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করে জিয়া জাতিকে দিয়েছিলেন বরাভয় আর পথনির্দেশ। শুধু মৌখিক ঘোষণা নয়, শুরু করে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ। একইভাবে ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর প্রত্যুষেও জনগণ আবার বেতার তরঙ্গে শুনলো সেই একই কণ্ঠ : 'আমি জিয়া বলছি’। জাতীয় দুর্যোগের কান্ডারী জিয়ার নির্দেশনা কান পেতে শুনলো সবাই। এর আগে কুচক্রীদের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়ে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে গুটিকয়েক উচ্চাভিলাষী এবং বিভ্রান্ত সামরিক অফিসার ক্ষণস্থায়ী এক ক্যুদেতায় সেনাপ্রধান জিয়াকে বেআইনীভাবে অপসারণ ও বন্দী করলে সাধারণ সৈনিকেরা ওই চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। সেনা ছাউনি ছেড়ে বেরিয়ে রাজপথে নেমে এসে তারা জনসাধারণের সঙ্গে সংহতি রচনা করেন। তারাই বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে তার হাতে তুলে দেন দেশ পরিচালনার ভার। অবশ্য দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক জিয়াউর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ না করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্রবাহিনীকে চক্রান্ত ও সংঘাতমুক্ত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকেই আশু কর্তব্য বলে নির্ধারণ করেছিলেন। দৃঢ়তা ও কঠোরতার সঙ্গে তিনি সেই জাতীয় কর্তব্য পালনে সফল হয়েছিলেন বলেই আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ এতোটা শক্তিশালী হতে পেরেছে। তবে সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। মূলকথা হচ্ছে, একাত্তরে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ’৭৫-এ সিপাহী, জনতার বিপ্লব- এই উভয় ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন একজনই। তার নাম জিয়াউর রহমান।

ছদ্মবেশী চক্রান্ত

১৯৭৫ সালে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে সংঘাত সৃষ্টির পেছনে দেশের ভেতর থেকে মহলবিশেষের উস্কানি ছাড়াও সীমান্তের বাইরে থেকে ইন্ধন যোগানো হয়েছিল। ব্রিগেডিয়ার খালেদের ক্যুদেতার সাফল্য নিয়ে সংশয় দেখা দিলে সীমান্তের বাইরের চক্রান্তকারীরা তাদের সেকেন্ড ফ্রন্টকে সক্রিয় করে তোলে। খালেদের বিরুদ্ধে সাধারণ সৈনিকদের ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে জাসদের গণবাহিনী এবং তথাকথিত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার গুটিকয়েক লোক তাদের অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দলে ভিড়ে যায়। তাদের নেতা ছিল সেনাবাহিনী থেকে বহু আগে শেখ মুজিব কর্তৃক অপসারিত কর্ণেল তাহের। এই চক্রের উদ্দেশ্য ছিল অন্তর্ঘাত সৃষ্টি করা। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মিত্র সেজে এরাই চক্রান্তমূলকভাবে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্বহীন করার জন্য অফিসার হত্যা শুরু করে। ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে এদের কয়েকজন রেডিও থেকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার শুরু করে যে, কর্ণেল তাহের হলেন সিপাহী-জনতার বিপ্লবের নেতা। কিছুক্ষণের মধ্যে সাধারণ সৈনিকরা গিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিলে বিপ্লবের বাণী সঠিকভাবে প্রচারিত হতে থাকে। অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল তাহের এরপর জিয়াউর রহমানের কাছে গিয়ে তাকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত ব্রিগেডিয়ার আমিনুল হক তৎক্ষণাৎ বাধা দেন এবং কর্ণেল তাহেরকে ভারতের এজেন্ট ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে চলে যেতে বলেন। ব্রিগেডিয়ার হকের আশঙ্কা ছিলো, তাহেরচক্র রেডিও স্টেশনে নেয়ার কথা বলে পথিমধ্যে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা এঁটেছিলো।

মোট কথা, ৭ নভেম্বরের রাতেই তাহের চক্রের অসৎ উদ্দেশ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিলো। চক্রান্তের দায়ে পরে তাদের বিচার ও সাজা হয়েছিলো।

এক সাপ দুই মাথা

বহুদিন প্রতিপক্ষ হিসেবে ‘মক ফাইট’ করার পর আওয়ামী লীগ ও জাসদের একাংশ পরবর্তীকালে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক হয়েছিল। তাদের উভয় পক্ষের ভূমিকা ও কথাবার্তায় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, তাদের আসল গোড়া এক জায়গায়। ঠিক তেমনই খালেদ ও তাহেরও ছিলেন একটি দু'মুখো সাপের দু'টি মাথা। তাই আওয়ামী লীগ ও জাসদ মিলে পরবর্তীকালে খালেদ ও তাহের উভয়ের স্তুতি আর জিয়াউর রহমানের নিন্দার ধুন গাইতে থাকে। এতে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে ৭ নভেম্বরে তাহের যদি খালেদের বিরুদ্ধে সত্যিই বিপ্লব সংঘটিত করে থাকেন তা হলে দু'জনকেই সমর্থন করা যায় কি করে? তাদের দাবি অনুযায়ী তাহের যদি ৭ নভেম্বরের হিরো হয়ে থাকেন, তাহলে খালেদ ছিলেন ভিলেন। এই পরষ্পরবিরোধী দুই পক্ষকেই সমর্থন করার মাজেজাটা আসলে কি?

আসলে আ. লীগ-জাসদের মিলিত ভাষা থেকে খোলাসা হয়ে যায় যে, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে তাহের গং অন্তর্ঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঢুকেছিলো। তাহের ও খালেদ উভয়চক্রই ছিলো একই সূত্রে বাঁধা। তাদের উভয়ের তৎপরতার পেছনে যে অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিলো, সেটা হলো : বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে বন্ধক দেয়া।

অফিসার হত্যা দিবস

৭ নভেম্বর তাহেরের অনুসারী কতিপয় বিপথগামী সৈনিক ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’ স্লোগান দিয়ে পিলখানার সামরিক অফিসারদের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মতোই অফিসার হত্যায় মেতেছিলো। বিপ্লবের যে মূলধারা অর্থাৎ সাধারণ সৈনিকেরা কেউই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। জিয়াউর রহমান মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই আত্মঘাতী তৎপরতা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেন। তার বীরোচিত ভূমিকায় সশস্ত্র বাহিনীতে রক্তক্ষয়ী তৎপরতা দ্রুত থেমে যায়। কাজেই ৭ নভেম্বরকে 'সৈনিক হত্যা দিবস' বলাটা সত্যের বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ সৈনিক নয়, ৭ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর কিছু অফিসার নিহত হয়েছিলেন অন্তর্ঘাতকদের হাতে। এর জন্য দায়ী কর্ণেল তাহের ও তার অনুগতরা। সে কারণেই তাদের বিচার ও সাজা হয়েছে। তাই ৭ নভেম্বরকে অফিসার হত্যা দিবস বললেও তার একটা যুক্তি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। আর এই অফিসারদের হত্যাকে সমর্থন না করলে কর্ণেল তাহের গংয়ের বিচার ও বিচারের প্রদত্ত সাজার প্রতি সমর্থন জানাতে হয়। কিন্তু ৭ নভেম্বরের বিপ্লব-বিদ্বেষী মহল যুক্তির ধারেকাছে না গিয়ে প্রচারণার ধূম্রজাল সৃষ্টি করে বলে চলছে, তাহেরও ভালো, খালেদও ভালো এবং ৭ নভেম্বরের হত্যা মন্দ কিন্তু হত্যাকাণ্ড থামালেন যে জিয়া, তিনিও মন্দ। সত্যিই বড় বিচিত্র এই দেশ! এ দেশেই এক মুখে এতো কথা বলা সম্ভব।

অপহরণের সাজানো নাটক

৭ নভেম্বর কর্ণেল তাহের ও গণবাহিনীর ভূমিকা বুঝতে হলে আরেকটি ঘটনার কথা মনে রাখা দরকার। সেই অস্থিতিশীল সময়কালেই ১৯৭৫ সালের ২৬ নবেম্বর জাসদের গণবাহিনীর একটি দল ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। দূতাবাসে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশী নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই অভিযানে কর্ণেল তাহেরের দুই সহোদর ভাই অংশ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ৭ নবেম্বর ব্যর্থ হবার পর জাসদের গণবাহিনীর ওই সশস্ত্র অ্যাডভেঞ্চারটি ছিলো সুপরিকল্পিত এবং গভীর ষড়যন্ত্রমূলক। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পটবদলের পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভারত সামরিক অভিযান চালাতে পারেনি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির কারণে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ভারতীয় সামরিক অভিযানের অজুহাত সৃষ্টির অসদুদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে অপহরণের এই পাতানো খেলার আয়োজন করা হয়েছিলো। নিরাপত্তা বাহিনী সেটি ভন্ডুল করে দেয়। এ চক্রই সামরিক বাহিনীকে নেতৃত্বশূন্য করা, রক্তপাত ঘটানো ও দেশকে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের অনুগামী হয়েছিল বন্ধুবেশে। কিন্তু তাদের সে চক্রান্তও সফল হয়নি।

নয়া মহাসড়ক রচনা

৭ নভেম্বরের শিক্ষা হচ্ছে, জাতীয় দুর্যোগে-দুঃসময়ে ব্যবধানের দেয়াল ভেঙে দিয়ে সৈনিক-জনতাকে এক হয়ে দাঁড়াতে হবে। গড়ে তুলতে হবে লৌহদৃঢ জাতীয় ঐক্য ও সংহতি।

ওই মহান বিপ্লবের আরেকটি শিক্ষা হচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পদ করায়ত্ত্ব করেও জাতিদ্রোহী চক্রান্তে লিপ্ত হলে পার পাওয়া যায় না। এ দেশের সাধারণ সৈনিকেরা দেশপ্রেমের জ্বলন্ত বহ্নিশিখা বুকে নিয়ে জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জাগ্রত প্রহরায় নিয়োজিত। তারা প্রয়োজনে ছাউনী ছেড়ে রাজপথে নেমে জনতার সঙ্গে মিতালী গড়তেও জানেন।

সশস্ত্র বাহিনীতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টির বিরুদ্ধেও ৭ নভেম্বর এক চরম হুঁশিয়ারী। হত্যা-কু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উচ্চাভিলাষী সেনা অফিসারদের ক্ষমতা দখলের প্রয়াসের বিরুদ্ধেও ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিলো এক মহাপ্রতিরোধ। ষড়যন্ত্র করে চেইন অব কমান্ড ও সেনাশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে খালেদচক্র ক্ষমতা দখলের যে চক্রান্ত করেছিল সৈনিক-জনতার বিপ্লবে তা পরাজিত হয়। বিপ্লবী সৈনিক-জনতা সেনাপ্রধান জিয়াকে মুক্ত করে এনে এক অরাজক ও নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিতে জিয়ার হাতে তুলে দেন দেশের শাসনভার। প্রকাশ্য রাজপথে লাখো সৈনিক-জনতার পুষ্পবর্ষণে অভিষিক্ত হয়ে ক্ষমতার অভিষেক ঘটে তার। বিপ্লবের তরঙ্গাভিঘাতে ভেসে যায় ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত।

৭ নভেম্বর বিপ্লবের তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। এই বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরে আসে প্রকাশ্য রাজনীতি, গঠিত হয় রাজনৈতিক দল, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে চক্রান্তমুক্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিপ্লবের ধারায় ভারতীয় স্বার্থের পরিপূরক অবস্থান থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নামের যে জাতিরাষ্ট্র বা নেশনস্টেটটি জন্ম নিয়েছিল সেই রাষ্ট্রের নাগরিকরা রাষ্ট্রভিত্তিক, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত এক জাতীয় পরিচয় অর্জন করে। আত্মপরিচয় লাভের মাধ্যমে নবউদ্দীপ্ত ও আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে নবোত্থিত এই বাংলাদেশী জাতিসত্তার অভিষেকের দিন ৭ নভেম্বর। আর সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবের মহান শিক্ষা ও তাৎপর্যকে আত্মস্থ করে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, স্বকীয়তা, মর্যাদা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও গৌরব নিয়ে সামনের দিকে এই জাতিসত্তাকে এগিয়ে চলার প্রশস্ত নতুন মহাসড়ক গড়ে দিয়ে গেছেন জিয়াউর রহমান।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর প্রদেশে দীপাবলি ও হোলিতে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


উত্তর প্রদেশে দীপাবলি ও হোলিতে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা

ভারতের উত্তর প্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীপাবলি ও হোলি উৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে একটি করে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজ্যে ১ কোটি ৮৯ লাখের বেশি উপকারভোগীর মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার রিফিলের ভর্তুকি বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এই ঘোষণা করেন।

উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে সিলিন্ডার রিফিলের ভর্তুকি প্রদানের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আদিত্যনাথ গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রদত্ত ভর্তুকির হিসাব তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটি গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৮৩ দশমিক ৪৫ রুপি। এর মধ্যে ভারত সরকার ৩৩৫ রুপি ভর্তুকি দেয়। আপনাদের নিজেদের পকেট থেকে খরচ করতে হয় ৬৪৮ দশমিক ৫৫ রুপি।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে দীপাবলি ও হোলির জন্য একটি করে সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে অর্থ সাশ্রয় করবেন, তা দিয়ে দীপাবলির মিষ্টি ও প্রদীপ কিনতে পারবেন।’

বর্তমান সরকারের সময়ে এলপিজি সংযোগ পাওয়ার সুযোগের সঙ্গে কংগ্রেস সরকারের আমলের পরিস্থিতির তুলনাও করেন আদিত্যনাথ।

তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সরকারের আমলে একটি গ্যাস সংযোগ পেতেও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। আমরা দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ দিয়েছি, আর এটাই সুশাসন।’

এদিকে, মঙ্গলবার আদিত্যনাথ আগামী ৭ নভেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠেয় দীপোৎসবকে সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে একত্র করে এ উৎসব।

অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রীর অযোধ্যা যাওয়ার কথা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যোগী বলেন, অতীতে জাতপাতের বিভাজনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া দীপোৎসব অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষের হাতে প্রদীপ জ্বলে, কিন্তু তার আলো পুরো সমাজকে এক করে। দীপোৎসবের বার্তা এটাই।’

যোগী আরও বলেন, ‘জাতপাতের কঠোর বিভাজন সমাজকে ভাগ করে, আর অভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতি সমাজকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে। শ্রী অযোধ্যার দীপোৎসব এই সামাজিক ঐক্যের উজ্জ্বল উদাহরণ। ২০১৭ সালের আগে যেসব সরকার জাতপাতের বিভাজনকে রাজনীতির ভিত্তি করেছিল, তারা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার এই সাংস্কৃতিক শক্তিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছিল। ২০১৭ সালে দীপোৎসব শুরু করে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং রামনগরীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সবার উৎসবে পরিণত করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেমোক্র্যাটশাসিত শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


ডেমোক্র্যাটশাসিত শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য পাঠানোর একটি হুমকি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ‘ড্যান বনজিনো শো’তে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে তিনি নির্বাচনী পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেন।

ডেমোক্র্যাটদের পরিচালিত শহরগুলোর মেয়ররা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালেও, সেখানে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "প্রয়োজন হলে এমন একটি পরিস্থিতি আসবে, যখন আমি তা করব।"

তবে, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অথবা মেয়রের আহ্বান প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি মেমফিস ও নিউ অরলিন্সে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই শহরগুলোতে গভর্নরের অনুরোধ পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং পুলিশের অর্থায়ন বন্ধের নীতির প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, এর ফলে ডেমোক্র্যাটশাসিত শহরগুলোতে সহিংস পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অপরাধ দমন ও অভিবাসন সংকট মোকাবিলার যুক্তি দেখিয়ে, মেমফিস ও নিউ অরলিন্সসহ বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছিলেন ট্রাম্প। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%