০৯:১১ এম
গত মাসে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় চীনা জাহাজের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এমনটি জানিয়েছেন তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড। নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চীন প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপটির চারপাশে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং কোস্ট গার্ডের জাহাজ মোতায়েন করছে।
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের একজন কর্মকর্তা নাম উল্লেখ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জুন মাসে চীনা জাহাজের মাধ্যমে পরিচালিত 'গ্রে জোন হয়রানি' কার্যক্রমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে তাইওয়ান ও এর আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় মোট ২৬৩টি চীনা জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কোস্ট গার্ড, উদ্ধারকারী এবং গবেষণা জাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ২০০টি এবং ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৭১টি। তবে, এই হিসাবের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত নয়।
ওই কর্মকর্তা জানান, গ্রে জোন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সরকারি জাহাজের ধরন ও সংখ্যা প্রত্যেকদিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: মোদির বিরুদ্ধে খাড়গের আপত্তিকর মন্তব্যে বিজেপির তীব্র বিক্ষোভ ভারতজুড়ে
চীন তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় 'আইন প্রয়োগকারী' টহল অভিযান শুরু করেছে গত মাসে। তাইওয়ান এ পদক্ষেপটিকে উসকানিমূলক এবং সম্প্রসারণবাদের ছদ্মবেশ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দ্বীপদেশটি কখনোই চীনের অংশ হবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজ দল ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বেইজিংয়ের দিক থেকে আসা 'লাল সন্ত্রাস' রুখে দিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছর আগে নির্বাচিত হওয়া লাই এবং তার ক্ষমতাসীন দল ডিপিপি তাইওয়ানের স্বতন্ত্র পরিচয়ের পক্ষে সোচ্চার। বেইজিং এ অবস্থানকে বিচ্ছিন্নতাবাদ হিসেবে দেখে এবং তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে।
সম্প্রতি, বেইজিং একটি নতুন 'জাতিগত সংহতি আইন' প্রণয়ন করেছে, যার ভিত্তিতে চীনের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রাখছে বেইজিং। তাইওয়ান এ বিষয়ক আইনটি উদ্বেগজনক মনে করছে কেননা, এর মাধ্যমে বেইজিং তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গ্রেপ্তার বা বিচার করার আইনি অজুহাত পাবে। এ পরিস্থিতিতে চীনের 'আইনি যুদ্ধ' অথবা 'লিগ্যাল ওয়্যারফেয়ার'-এর দিকে ইঙ্গিত করে লাই বলেন, শান্তির সময়েও তাইওয়ানকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও চীন এই আইনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাইওয়ানের ওপর চীনা বিচারব্যবস্থার কোনো এখতিয়ার নেই।
আরও পড়ুন: আইইএ প্রধান: ২০২৭ সালেও জ্বালানির বাজার স্বাভাবিক হবে না
লাই তার বক্তৃতায় মান্দারিনের পরিবর্তে স্থানীয় তাইওয়ানিজ ভাষা (হোক্কিয়েন) ব্যবহার করে বলেছেন, 'আমি আশা করি দলের কর্মীরা সামনের সারিতে থেকে ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং তাইওয়ানের সমাজের ওপর চীনের লাল সন্ত্রাসের হুমকি মোকাবিলা করবেন।' তিনি আরও বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক ও মুক্ত জীবনধারা রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কখনোই 'গণতান্ত্রিক তাইওয়ান'কে পুনরায় 'চীনের তাইওয়ান'-এ পরিণত হতে দেব না। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর লাইয়ের এ বক্তব্যের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে বেইজিং তাকে বরাবরই 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' অভিহিত করে আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন