ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কাউখালী উপজেলা পোস্ট অফিসের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ: ৮ বছর ধরে ভাড়া ঘরে ধুঁকছে ডাকসেবা, চরম ভোগান্তি


কাউখালী উপজেলা পোস্ট অফিসের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ: ৮ বছর ধরে ভাড়া ঘরে ধুঁকছে ডাকসেবা, চরম ভোগান্তি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা পোস্ট অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ এই নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং কবে নাগাদ নিজস্ব ভবনে ডাকসেবা চালু হবে, তা নিয়ে স্থানীয় গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে কাজ বন্ধ থাকার কারণ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পোস্ট অফিসের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর ২০১৮ সালের ১ জুন থেকে কাউখালী বাজারের দুটি ছোট কক্ষ ভাড়া নিয়ে কোনোমতে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এই সংকীর্ণ ও জরাজীর্ণ জায়গায় অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র, নথিপত্র এবং সরকারি ফাইলপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবহেলা ও অযত্নের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আধুনিক ও নিজস্ব ভবন না থাকায় উপজেলার সামগ্রিক ডাক সেবার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ডাক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের গ্রেড বিম ও কলামের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার পর হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় পার হলেও আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পোস্টমাস্টার পারভেজ হাওলাদার বলেন, ভাড়া করা ছোট দুটি কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আমাদের দাপ্তরিক কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মালামাল রাখার মতো নিরাপদ জায়গা নেই। আধুনিক ভবন না থাকায় ডিজিটাল ডাকসেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোঃ জালাল হোসেন বলেন, আমাদের কাজের কোনো গাফিলতি নেই। ডিপার্টমেন্টের কিছু অভ্যন্তরীণ ও কারিগরি জটিলতার কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। সমস্যাগুলোর সমাধান হলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে পারব।
এ ব্যাপারে বরিশাল অঞ্চলের ডাক বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। আমরা সার্বিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত কাজ চালুর চেষ্টা চলছে।
উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা পোস্ট অফিসের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজ এভাবে ঝুলিয়ে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি বিষয়টি  সংশ্লিষ্ট ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবগত করেছি।যাতে দ্রুততম সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে এবং জনগণের ভোগান্তি দূর হয়।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৯ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৯ জন

 রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আজ (মঙ্গলবার) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

গ্রেফতারকৃতদের নাম হলো-মো. মহিউদ্দিন কাজল (৩৫), মো. সেলিম (৩৫), মোসা. আমেন (২৩), জামিরুল ইসলাম (৩৪), হিরা ওরফে চাঁদ (২৭), মো. আকাশ ওরফে মোহন (৩২), মো. আলী হোসেন (১৯), মেনন আহমেদ (২২) ও মো. জাহিদ মিয়া (৩০)।

এতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজনকে পরোয়ানামূলে, তিনজনকে মোবাইল কোর্ট মোতাবেক এবং তিনজনকে পুরাতন মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্র উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্র উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

 

দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্র উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘ এক সতর্কবার্তা জারি করেছে।

 জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) মঙ্গলবার সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সমুদ্র উষ্ণায়ন, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ক্রমশ বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, সংস্থাটির “দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জলবায়ুর অবস্থান ২০২৫” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল জলরাশি ক্রমাগত উষ্ণ ও অম্লীয় হয়ে উঠছে, যার প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়ছে। একইসঙ্গে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর ২০২৫ সাল ছিল রেকর্ড ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর, যেখানে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাবলি ব্যাপক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রাণহানির কারণ হয়েছে। ভূমি ও সমুদ্র মিলিয়ে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সালের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে প্রায় ০.৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

ডব্লিউএমও-প্রধান সেলেস্তে সাউলো বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশ ও ভূখণ্ডের জীবিকা, অর্থনীতি এবং টিকে থাকার সক্ষমতা মূলত সমুদ্রকেন্দ্রিক। তার ভাষ্যে, ২০২৫ সালে এই অঞ্চল একযোগে উষ্ণ সমুদ্র, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ, সমুদ্রের অম্লীকরণ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং ক্রান্তীয় হিমবাহের ক্ষয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

হিমবাহ ধ্বংসের পথে

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের কথা, যেখানে ১৯৮৮ সালের তুলনায় বর্তমানে অবশিষ্ট পার্বত্য বরফের পরিমাণ মাত্র প্রায় দুই শতাংশে নেমে এসেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এই অঞ্চলের শেষ অবশিষ্ট ক্রান্তীয় হিমবাহটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

সমুদ্রের তাপ ও অম্লীকরণ

ডব্লিউএমও জানায়, ২০২৫ সালে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি আগের বছরের তুলনায় কম হলেও, এল নিনো ছাড়া কোনো বছরে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ছিল এটি — যা ২০২৬ সালের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে, কারণ একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বার্ষিক গড়ে ৩.৭ মিলিমিটার হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ক্রমবর্ধমান পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের ফলে সমুদ্রের পানি ক্রমশ অম্লীয় হয়ে উঠছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, আবাসস্থল এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থার আঞ্চলিক প্রতিবেদনগুলোর মূল লক্ষ্য নীতিনির্ধারণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


গাজীপুরে কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় অর্ধশতাধিক পোশাক শ্রমিক একযোগে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের গণ-অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের নিঃশ্বাস স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে থাকে। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে জানায়নি, কতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকদের ওপর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে অবস্থিত ওই কারখানায় এই অঘটনটি ঘটে।

শ্রমিক জেসমিন আক্তার আতঙ্কভরে বলেন, 'কিছুদিন আগে এই কারখানার যে ফ্লোরে অসুস্থ লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক কর্মস্থলে মারা গিয়েছিলেন, আজ সেই একই ফ্লোরে শ্রমিকরা হঠাৎ করে একের পর এক অসুস্থ হতে থাকেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবে সর্বসম্মতিক্রমে আমরা জানি না, কেন সবাই একসাথে অসুস্থ হচ্ছেন।'

অপর এক শ্রমিক মনিরা বলেন, 'সকালে কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ করেই সবার মধ্যে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরানোসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। একটি ফ্লোরের প্রায় সব শ্রমিকই অসুস্থ হতে শুরু করেন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন।'

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় সংবাদকর্মীরা কারখানার সামনে এসে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী সবুজ মিয়া অভিযোগ করেন, 'শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর আমরা কারখানার সামনে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাই। এ সময় কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করে এবং আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।'

অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া আলহেরা হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আবুল হোসাইন বলেন, 'হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর আলহেরা হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি রেখে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের মধ্যে মূলত অনবরত বমি ও মাথা ঘোরানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।'

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, 'কারখানায় শ্রমিকদের গণ-অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া এবং সার্বিক বিষয়টির গভীর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।'

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। অসুস্থ শ্রমিকদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন শ্রমিকরা হঠাৎ অসুস্থ হয়েছেন, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ৩৭ বিলিয়ন ডলার, সহায়তা জোরদার করছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ৩৭ বিলিয়ন ডলার, সহায়তা জোরদার করছে জাতিসংঘ

 

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তার কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক মূল্যায়নে সরাসরি ভৌত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, সোমবার নিউইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, ‘আমরা এবং আমাদের সহযোগী সংস্থাগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করছি।’

গত ২৪ জুন ভেনেজেলার উত্তর-মধ্যাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনডিআরআর)-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ভৌত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এর মধ্যে বিভিন্ন ভবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার), যাতে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সরকারি স্থাপনাসহ অন্তর্ভুক্ত।

অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার), যাতে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫০০ কোটি ডলার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সড়ক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ হিসাব মাঠপর্যায়ের সরাসরি পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়নি; বরং ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেওয়া হয়নি সেবা ব্যাহত হওয়া, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষতি, জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যয়, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন কিংবা পুনর্গঠনের ব্যয়ের হিসাব। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশুরা উল্লেখযোগ্য। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যার মধ্যে ২ লাখ ৩৪ হাজারই শিশু।

রাজধানী কারাকাসসহ ক্যাপিটাল ডিস্ট্রিক্টের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

ইউনিসেফ জরুরি সাড়া প্রদানকারী দল মোতায়েন করেছে এবং ৬৮ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাসামগ্রী, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী।

সংস্থাটি স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, শিশুসুরক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (৫২০ মিলিয়ন টাকা নয়, ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার) তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।

মাঠপর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিশেষজ্ঞ দলগুলো ধারাবাহিকভাবে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাচ্ছে। মানবিক চাহিদা নিরূপণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটির ভিত্তিতে হালনাগাদ ত্রাণ পরিকল্পনা ও অর্থায়নের নতুন আবেদন তৈরি করা হবে।

ভেনেজেলা সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে। ১৬ হাজার ৭৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

দুজারিক বলেছেন, কারাকাসের কর্তৃপক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তা এবং জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানোর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অন্তত ৭৯টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। সেখানেই বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে তিনটি আশ্রয়শিবিরে সরাসরি সেবা দিচ্ছে এবং আরও কয়েকটি শিবিরে সহায়তা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করছে।

স্বাস্থ্যখাতের অংশীদার সংস্থাগুলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে।

মানবিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত কিট বিতরণ এবং স্যানিটেশন অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজও চলছে।

ভেনেজেলার জন্য জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার আওতায় এ পর্যন্ত ২৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (২৭৪ মিলিয়ন ডলার) অর্থ পাওয়া গেছে। তাছাড়া বেসরকারি খাতের দাতাদের কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের (৩২ মিলিয়ন ডলার) বেশি সহায়তা এবং বিভিন্ন পণ্য ও সেবার আকারে অতিরিক্ত অনুদান পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%