ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদারীপুরে দেশি মাছের সরবরাহ কমেছে, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা


মাদারীপুরে দেশি মাছের সরবরাহ কমেছে, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা

মাদারীপুরের হাটবাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে ক্রেতাদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। নদ-নদী ও সাগরের মাছ বাজারে থাকলেও, সেগুলোর দামও বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশিত হচ্ছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে মাদারীপুর শহরের পুরান বাজারের পাইকারি মাছের আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, ভোর বেলা থেকেই শুরু হয়েছে মাছ কেনাবেচা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে ভিড় করেন আড়তে।

কয়েকদিন ধরে পুকুর, জলাশয় ও বিলের দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সুযোগে প্রায় সব ধরনের মাছই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পাইকারি বাজারের প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিপাকে পরেছে।

আরও পড়ুন: রুয়েটে জঙ্গল থেকে সাইকেল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করলেন আনসার সদস্য

বিক্রেতাদের মতে, নদ-নদীতে কারেন্ট জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশি মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সরবরাহ কম থাকলেও দেশি মাছের চাহিদা বেড়েছে, এ কারণেই দাম কিছুটা বেশি হয়ে গেছে।

সুমন হোটেল এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, মাছের দাম কখনোই কমে না, বরং প্রতিনিয়তই বাড়ছে। প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতির কারণেই মাছের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ফলে মাছের দাম অনেক ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

মাদারীপুরের পুরান বাজার পাইকারি মৎস্য আড়ত সমিতির সভাপতি মোসলেম মাতুব্বর জানান, দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম বেড়েছে। সরবরাহ যদি বৃদ্ধি পায়, তবে দামও কমে আসবে। বাজারে আসা অধিকাংশ ক্রেতা দেশি মাছ কিনতে চান, কিন্তু দিনের পর দিন এর সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ নদ-নদীতে কারেন্ট জালের ব্যবহার।

আরও পড়ুন: বেতাগীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে সীমান্ত ভেঙে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ এম


স্পেনে সীমান্ত ভেঙে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশ

মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ সমুদ্রপথে সাঁতরে, সীমান্তের পাথরের বাধা ঘুরে এবং সীমান্তের বেড়া অতিক্রম করে সেউতায় পৌঁছান।

এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে স্পেন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্প্যানিশ টেলিভিশনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন। তবুও, এ সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি রয়টার্সের পক্ষে। সেউতার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢুকে পড়ায় স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।

সেউতার কর্মকর্তাদের মতে, অনেক অভিবাসী সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কারো মধ্যে সামুদ্রিক উপকূলে পৌঁছানোর জন্য ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে সাঁতরে আসার চেষ্টা রয়েছে, আবার কেউ তারাহাল এলাকার সীমান্তের পাথুরে বাঁধ ও বেড়া পার হয়ে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।

সমুদ্রে থাকা অভিবাসীদের উদ্ধারে স্পেনের সিভিল গার্ড, মেরিটাইম রেসকিউ সার্ভিস ও রেড ক্রসের সদস্যরা নৌকা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কয়েক দিনের মধ্যে সমুদ্রপথে দেড় হাজারেরও বেশি অভিবাসী সেউতায় পৌঁছেছেন বলে এর আগে সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জানিয়েছেন।

বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রবেশ করায় সেউতার অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে সংকটজনক বলে বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত জনবল ও সহায়তার জন্য স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।

সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ভিভাস জানিয়েছেন, গত এক বছরে এই পথে সমুদ্রে প্রায় ৬০টি মরদেহ দেখা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেনের সরকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর পাশাপাশি সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সেউতা সফরের কথাও জানানো হয়েছে।

সেউতা, আফ্রিকার ভূখণ্ডে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার সঙ্গে একমাত্র দুটি স্থলসীমান্তের একটি। এর আগে ২০২১ সালেও মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ডজুড়ে তীব্র খরা, বিপাকে জনজীবন টানা তাপপ্রবাহে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৩ এম


ইংল্যান্ডজুড়ে তীব্র খরা, বিপাকে জনজীবন টানা তাপপ্রবাহে

 

মেঘ ও বৃষ্টির জন্য পরিচিত ঐতিহ্যবাহী দেশ ইংল্যান্ডে বর্তমানে মারাত্মক খরা দেখা দিয়েছে। প্রবল তাপপ্রবাহ এবং টানা বৃষ্টিহীন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নদীনালা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং এতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট।

দেশটির প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে গুরুতর খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকে বিজ্ঞানীরা ‘ওয়েদার হুইপল্যাশ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবের ফলস্বরূপ। দক্ষিণ, মধ্য এবং পূর্ব ইংল্যান্ডজুড়ে এই প্রাণঘাতী খরা ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পরিবেশ সংস্থা।

ইংল্যান্ডে বছরের এই সময় স্বাভাবিকভাবে যে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল, বর্তমান সময়ে তা মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে মাত্র ১ শতাংশ হয়ে গেছে।

জুন মাসে ইংল্যান্ডে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে উষ্ণতম জুন হিসেবে চিহ্নিত। পানির অভাবে নদীগুলোর পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৮% নিচে নেমে গিয়েছে।

বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খরার কারণে সবজি ও ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, ফলে বাজারে খাবারের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সাফোক উপকূলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মে ও জুন মাসে প্রখর দাবদাহে তাপজনিত কারণে ইতিমধ্যে ২৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যে কারণে এই খরা দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক সুরক্ষার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই চরম আবহাওয়ার ঘনঘন পরিবর্তন হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোর সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আপাতত স্বস্তিদায়ক কোনো বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢামেক হাসপাতালের আটতলা থেকে তরুণীর লাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


ঢামেক হাসপাতালের আটতলা থেকে তরুণীর লাফ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েছে রিয়া (২০) নামের এক তরুণী, যিনি মারা গেছেন।

এটি ঘটেছে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোর সোয়া ৫টার দিকে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। রিয়ার বাবা পাবনা সদরের বাদুর ডাংগি গ্রামের বাসিন্দা লতিফ মল্লিক এ বিষয়ে বলেন, "আমার মেয়ের মানসিক সমস্যা ছিল।" তাকে নতুন ভবনের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।

ভোরের দিকে সবার অজান্তে ওই ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণার বিষয়ে জানানো হয়।

রিয়ার চাচা রফিকুল ইসলাম জানান, রিয়াকে এসএসসি পাসের পরেই একটি সিঙ্গাপুর প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার স্বামী দেশে এসে আবার চলে যায়, এর পর থেকেই রিয়া ধীরে‌ ধীরে মানসিকভাবে অসুস্থ হতে শুরু করে। গত কিছুদিন ধরে সমস্যা বাড়তে থাকে এবং ঢামেক হাসপাতালে পাঁচদিন ধরে ভর্তি ছিল।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হামাস, সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ইস'রা'য়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৯ এম


গাজায় অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হামাস, সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ইস

গাজায় শান্তি এবং নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করার লক্ষ্যে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো একটি যৌথ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার আওতায় তারা তাদের অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে টেকসই শান্তির পথে একটি ‌‘স্মরণীয় অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে আসা চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তদারকি পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে হবে, যাহা সময়সীমা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো যেতে পারে।

হামাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য গাজী হামাদ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, এই আলোচনা অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল ছিল। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন যাতে ফিলিস্তিনিদের জন্য সম্ভাব্য সেরা শর্ত নিশ্চিত হয়। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না। তিনি আরো জানান, অস্ত্র সংবরণের সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত উপত্যকাটির পুনর্নির্মাণ কাজের অগ্রগতির ওপর। জানা গেছে, এই চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের এবং নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর সাফল্য হিসেবে এই চুক্তিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প একটি বার্তায় লিখেছেন, এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে গাজা অবশেষে একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এটি জনগণের কল্যাণে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে, ইসরায়েলও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাবে এবং গাজাকে আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, অস্ত্র সমর্পণ হলে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ছেড়ে যাবে এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী, যা একটি ‘নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী’-র সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে।

আল জাজিরার প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, গাজায় একটি জাতীয় কমিটি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীর প্রবেশের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর জাতীয় কমিটি অস্ত্রগুলোর তালিকা তৈরি এবং তা সংরক্ষণ কাজ করবে, যেখানে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি কমিটি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো অস্ত্রই ইসরায়েল বা কোনো অ-ফিলিস্তিনি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া যাবে না; কেবল জাতীয় কমিটিই এই অস্ত্রের একক রক্ষক হবে।

‘বোর্ড অব পিস’-এর একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্রথম দফায় পুলিশের কাছে থাকা সাধারণ অস্ত্র এবং পরবর্তীতে ভারী অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে গাজায় সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে, তবে পুরো বিষয়টি বাস্তবে রূপ নিতে কিছুটা সময় লাগবে।

এদিকে, গত অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যস্থতা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে এই সংবরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরেও ইসরায়েল একের পর এক তা লঙ্ঘন করে চলেছে, যার ফলে দুই শিশুসহ আরও ১,২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি হামলায় ৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কায়রোতে গত সপ্তাহের শেষ থেকে ফিলিস্তিনি নেতারা আলোচনা চালাচ্ছেন। খুব শিগগিরই কায়রোতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার আয়োজন করা হবে। ফিলিস্তিনের অন্য একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ চুক্তির খসড়া নিয়ে কিছু আপত্তি প্রকাশ করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাস আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে এই প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ দুই দশক পর গাজায় একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর পথ সুগম হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%