ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৪:৩৩ পি.এম
পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভার আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাজার তদারকি, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার মানোন্নয়ন।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহিম মোল্লা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুদেব সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, ২নম্বর নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন আরিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাংবাদিক শাহজাহান হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হলে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থী হতে কোন বাধা থাকবে না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আসলাম চৌধুরীর শপথ নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, একজন ব্যক্তির অযোগ্যতা তো সারাজীবন থাকবে না। তাই যদি তিনি পুনর্নির্বাচনে অযোগ্যতা (যেমন ঋণখেলাপি) কাটিয়ে ওঠেন এবং যোগ্য হন, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোন বাধা থাকবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেলের আরও ঘোষণা ছিল যে, সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। বলেন, কোন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট সময়ের অযোগ্যতা তো আর সারাজীবন থাকবে না। পূর্ববর্তী নির্বাচনে যে কারণে আপিলটি মঞ্জুর হয়েছিল, ফলে নির্বাচিত হলেও তিনি সেই নির্বাচনের ফল ভোগ করতে পারলেন না। তবে পরবর্তী নির্বাচনে, যদি তিনি সেই অযোগ্যতা কাটিয়ে যোগ্য হন, তাহলে আইনগতভাবে তার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোন বাধা থাকার কথা নয়।
এদিকে, ঋণ খেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এদিন এই রায় ঘোষণা করেন।
এটির আগে, গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সর্বোচ্চ আদালত রায় প্রদান করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামি মো. মিঠুনসহ মোট নয়জন আসামির পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ৩০ জুন ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেছেন।
একই সাথে তাদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। রায় শুনার সময় আদালতে উপস্থিত থাকা মিঠুনের মামা আইয়ুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান জানান, এই মামলার নয় আসামির মধ্যে শুধুমাত্র মিঠুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে উপস্থিত থাকা মিঠুনের মামা অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার পর মারা যান।
সাজাপ্রাপ্ত অপর আট আসামিরা হলেন মুরাদ, ছাবির, রাজা, মাসুম হোসেন, মিঠুন, বিল্লাল, রাজা, ওয়াহিদুল সনু এবং জুম্মন মিয়া। তাদের সবাই পলাতক থাকায় সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদে অভিযান চালায় র্যাব-২। এ সময় এক হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এই ঘটনার দিন পুলিশ পরিদর্শক ইকরামুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে একই সালের ২২ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক সাজেদুল হক।
এতে আসামি মিঠুনসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন। এখন তিনি বর্তমান পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ ও অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) স্থগিতের শর্তে তিন বছরের জন্য এ নিয়োগ পাওয়া।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সহকারী সচিব সফি উল্লাহ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৯৭২-এর আর্টিকেল ১০(৪) অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরোয়ার হোসেন যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি এবার নতুন একটি প্রদেশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, স্থানীয়দের অবিশ্বাস এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭৭ জন।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতুরি, উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভাইরাসটি এখন চতুর্থ প্রদেশ ওত-উয়েলেতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের (আইএনআরবি) সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে এক সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত এবং তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
ওত-উয়েলে প্রদেশের সঙ্গে দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত থাকায় সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গত মে মাস থেকে সংঘাতকবলিত ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যগত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করার কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাস। নিরাপদ দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বারবার বাধার মুখে পড়ছেন। অনেক পরিবার এখনো প্রচলিত নিয়মে মৃতদেহ স্পর্শ করে শেষ বিদায় জানাচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইতুরির রুয়ামপারা এলাকার একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন ওয়ামবুয়া-সোই জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী, ওষুধ, দ্রুত শনাক্তকরণ কিট এবং মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগের অভাবে কাজ করছেন। এছাড়া কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র হামলারও শিকার হয়েছে। গত মাসে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি একটি চিকিৎসা শিবিরের তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কঙ্গো সরকার। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশা, এই পদক্ষেপ ভাইরাসের বিস্তার কমাতে সহায়ক হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ