ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে: মন্ত্রী


অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে: মন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সরকার নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সকলের বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক আয়োজিত এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়নের পথনির্দেশনা-বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের অংশ হিসেবে ‘ন্যায়সংগত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং এসডিজির ৩, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর লক্ষ্য অর্জন’ বিষয়ক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকি বহনকারী অন্যতম দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলাবদ্ধতা এবং লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জগুলি আমাদের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষির কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য পদ্মা ব্যারেজ অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত আসলে সহসাই অনুমোদন পাবে।

প্যানেল আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে সংসদ সদস্য আনা মিঞ্জ বক্তব্য রাখেন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন পার্থ হেফাজ শেখ (পরিচালক, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ), অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার (পরিচালক, নারীপক্ষ), সাইফুর রহমান (প্রোগ্রাম অফিসার, ইউনিসেফ বাংলাদেশ)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এভারটন-প্যালেসের ম্যাকনিল-জনসন অদলবদল চুক্তি সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


এভারটন-প্যালেসের ম্যাকনিল-জনসন অদলবদল চুক্তি সম্পন্ন

ব্রেনান জনসন এবং ডোয়াইট ম্যাকনিলের সরাসরি অদলবদলের বিষয়ে ক্রিস্টাল প্যালেস ও এভারটন সম্মতি দিয়েছে। ছয় মাস আগে চুক্তি থেকে সরে আসার পর, প্যালেসের বিরুদ্ধে ম্যাকনিল তার মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ উত্থাপন করার পর এই অদলবদল চুক্তি সম্পন্ন হলো।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, জনসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে টটেনহ্যাম থেকে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে প্যালেসে যোগ দিয়ে ক্লাবটির রেকর্ড সাইনিংয়ে পরিণত হয়েছিলেন। তবে কয়েক সপ্তাহ পরে উলভস থেকে প্রাথমিকভাবে ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইয়োর্গেন লারসেনের আগমনে সেই রেকর্ডটি ভেঙে ফেলা হয়। জনসন ও ম্যাকনিল উভয়ই চুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ বছরের জন্য চার বছরের চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘গুপ্তদের হুমকি-ধমকিতে পাগলও হাসে’: ইশরাক হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


‘গুপ্তদের হুমকি-ধমকিতে পাগলও হাসে’: ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, 'গুপ্তদের হুমকি-ধমকি দেখে পাগলও হাসে।' তিনি উল্লেখ করেছেন, '২০১৪ সালের পরে কোথায় ছিল জামায়াত। আজকে যারা নেতা, তারা তো ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় গুপ্ত ছিল। ওই সময় তারা গুপ্ত থেকে আমাদের উপর নির্যাতন করেছিল। আজকে যখন তারা হুমকি-ধমকি দেয় তখন পাগলও হাসে।'

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে স্যার জে. সি. বোস ইনস্টিটিউট ও কলেজে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের দ্বারা আয়োজিত বৃক্ষমূলক বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, 'আজকে যারা বিরোধী দলে, তারা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানব হত্যায় জড়িত ছিল, নারীদের উপর নির্যাতন পরিচালনা করেছিল। আজও নানাভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস বা নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। তাদের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'

গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধী দলের ভূমিকার ব্যাপারে ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা আমরা অস্বীকার করছি না, আমরা তাদের অবদানকে স্বীকার করি। তবে বিগত কয়েকদিনে কিছু বিতর্কিত নেতা সেই অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যারা জুলাইে যুদ্ধে আহত বা নিহত হয়েছে, তাদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন পরিকল্পনার ব্যাপারে তারা কী করেছে? এতদিন ধরে যাতে তারা নানা ইস্যুতে আন্দোলনের পায়তারা করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার নাটক করছে।'

শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দুর্ভোগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ছিল একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি। বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জে লোডশেডিংয়ে মানুষ যে অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছে, তা ওই চক্রের কারণে। শেখ হাসিনার আমলে যা হয়েছে, তার ফলই আমরা এখন ভোগ করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সাথে জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন।'

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'কোনো বিদেশি প্রভুদের দ্বারা পরিচালিত না হয়ে আমরা সব সময় একটি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি। আমাদের শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশ জনগণ। এই জনগণের শক্তিকে নিয়েই আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।'

অনুষ্ঠানে শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী বিক্রমপুর ভূইয়া মেডিক্যাল কলেজে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন। স্যার জে. সি. বোষ ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হলে শিক্ষকেরা এবং শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে ১৯ আগস্ট শুরু হচ্ছে ১৩তম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


ঢাবিতে ১৯ আগস্ট শুরু হচ্ছে ১৩তম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আগামী ১৯ আগস্ট শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশন্স’ (ডানমুন)। এই সম্মেলন চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আয়োজক সংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুমুনা) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডানমুনের সেক্রেটারিয়েট বোর্ড এসব তথ্য জানায়। আয়োজকরা বলেছেন, এবারের ১৩তম আসরে দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও পাঁচ শতাধিক তরুণ কূটনীতিক অংশগ্রহণ করবেন।

কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা সুসংহত করা’ (Consolidating Effective Multilateralism by Upholding Unity in Diversity in an Evolving Global Landscape)। আয়োজকরা আশা করেন, বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভাজন ভুলে বিভিন্ন জাতি যেন পারস্পরিক দৃঢ় সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনে মোট ১২টি কমিটি থাকবে। এর মধ্যে নতুন সংযোজন হিসেবে বাংলাদেশের কোনো ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে ‘ক্যাবিনেট বনাম শ্যাডো ক্যাবিনেট অব জাতীয় সংসদ’। এছাড়া ‘ফার্স্ট এক্সট্রাঅর্ডিনারি সামিট অন পেট্রোলিয়াম’ (ইএসপি) এবং সম্পূর্ণ নতুন ফরম্যাটের ‘দ্য ঢাকা ডায়ালগ’ নামক কমিটিগুলোও এবারের আসরের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সেক্রেটারিয়েট বোর্ড জানিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ সিমুলেশনটি সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক সম্পর্ক ও গতিশীলতা পর্যালোচনায় বিশেষ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

ডুমুনা নেতৃত্ব জানায়, ডানমুন ২০২৬ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে বিভিন্ন মত ও পটভূমি থেকে আসা প্রতিনিধিগণ এক ছাদের নিচে সংলাপে যুক্ত হতে সক্ষম হবেন। আয়োজকরা কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা এখনও সম্ভব, সেটিই এই সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
এনডিটিভির প্রতিবেদন

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন ভারতের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন ভারতের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে সংঘাত শেষ হওয়ার দুই মাসেরও কম সময় পরে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং বলেন, ভারতকে এক সীমান্তে তিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে ভারতদের প্রতিপক্ষ, যখন চীন রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে এবং পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক ভারতবিরোধী অভিযানে ব্যবহারের জন্য কৌশলগত ও কামিকাজে ড্রোন সরবরাহ করেছে।

এখন যদি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ, এই চুক্তির আওতায় যদি উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তান সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়, তাহলে সৌদি আরবও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হতে পারে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনও একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা তিনটি দেশে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতে রিয়াদ সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কাঠামো তৈরী হলো। তবে বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর হবে, তা চুক্তির কাজের ওপর নির্ভর করে।

এটি কি ভারতের জন্য কূটনৈতিক বার্তা? পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই চুক্তিকে ‘পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক’ বলছেন। কিন্তু সৌদি আরবের এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া ভারতের জন্য স্বস্তির বিষয় নয়।

এর অন্যতম কারণ হল ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দুই দেশের সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে বর্ণিত হয়। একটি যৌথ পরিষদের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক তেল, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি-সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত হয়েছে।

ভারত-সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার। ভারতের অপরিশোধিত তেলের মোট আমদানি প্রায় ১৪ শতাংশও সৌদি আরব থেকে আসে।

ফলে নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে সৌদি আরবকে পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় দেখা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে সৌদির অবস্থান বলাটা অতিরঞ্জিত হবে, কারণ ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরং চুক্তিটি ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে কীভাবে প্রয়োগ হবে, সেটিই হচ্ছে মূল প্রশ্ন।

পাকিস্তানের জন্য সৌদি আরব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। বেশ কয়েক দশক ধরে সৌদি আরব পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তাকারী। বিশেষ করে যখন পাকিস্তান বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও ব্যালান্স অব পেমেন্টসের সমস্যায় পড়ে, তখন রিয়াদ ইসলামাবাদকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে সৌদি আরব পাকিস্তানকে কয়েকবার বিলিয়ন ডলারের আমানত ও তেল আমদানির অর্থ পরিশোধে বিলম্বের সুবিধা দিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২১ সালে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা ও আর্থিক সুবিধার কথা উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে সৌদি আমানতের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তা কর্মসূচির শর্তগুলোর সম্পর্ক ছিল।

অর্থাৎ, পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য সৌদি আরব এক ধরনের আর্থিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে আসছে।

সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০-এর দশক থেকে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

সعودি আরবের সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাদের সম্পৃক্ততার ইতিহাস শুরু হয় বাদশাহ ফয়সাল ও পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সময়। ১৯৬৭ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার চুক্তি হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানি পাইলটরা সৌদি যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেছেন। ১৯৬৯ সালে ইয়েমেনের একটি সামরিক অনুপ্রবেশে পাকিস্তানি পাইলটদের অংশগ্রহণের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবে ১৫ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ছিল। তাদের কেউ সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮২ সালের একটি প্রটোকল চুক্তির মাধ্যমে এই ধরনের সেনা মোতায়েনের কাঠামো আরও আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়।

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও প্রায় ১৩ হাজার পাকিস্তানি সামরিক সদস্য সৌদি আরবে মোতায়েন হয়েছিল।

দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তান আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার সৌদি সামরিক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশনের কমান্ড গ্রহণ করেন।

এরপর দুই দেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়া নিয়মিত সামরিক সহযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সম্পর্কের ভিত্তি হলো অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। ইসলামাবাদ তুরস্কের কাছ থেকে বায়রাকতার টিবি-২ ড্রোন, মিলজেম শ্রেণির করভেট যুদ্ধজাহাজ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আধুনিকায়ন সহায়তা পেয়েছে।

পাকিস্তান নৌবাহিনী তুরস্কের নকশায় তৈরি চারটি মিলজেম শ্রেণির করভেট সংগ্রহ করেছে। এগুলো পাকিস্তানের নৌবাহিনীর আধুনিক সারফেস প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। সর্বশেষ যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস তারিক’ ২০২৩ সালের আগস্টে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তুরস্ক পাকিস্তানের ফরাসি নকশার আগোস্টা ৯০বি শ্রেণির সাবমেরিন আধুনিকায়নেও সহযোগিতা করেছে। ড্রোন প্রযুক্তিতেও দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত এগিয়েছে। পাকিস্তান ২০২৩ সালে তুরস্কের বায়রাকতার আকিঞ্চি উচ্চ-উচ্চতা সক্ষম যুদ্ধ ড্রোনের প্রথম চালান পেয়েছে। এর আগে দেশটি টিবি-২ ড্রোনও সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে এসব প্রযুক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তুরস্কের কেএএএন স্টেলথ যুদ্ধবিমানও পাকিস্তানের সম্ভাব্য আগ্রহের একটি ক্ষেত্র। ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিমানটির প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হয়। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে তুরস্ক নিজস্ব বাহিনীর জন্য বিমানটির সরবরাহ শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তান এই যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য ক্রেতা হিসাবে আলোচনা করছে। তবে এখনও কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। বরং পাকিস্তান চীনের জে-৩৫এ স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের দিকে তুলনামূলকভাবে বেশি এগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ৮৮ ঘণ্টার সংঘাতের সময় পাকিস্তান তুরস্কের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছিল বলে ভারতীয় পক্ষের অভিযোগ ছিল। এরপর ভারত তুরস্কের ‘চেলেবি এভিয়েশন’-এর নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করে। ভারতের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আজিও ও মিন্ত্রা তুরস্কের বিভিন্ন ব্র্যান্ডকে সরিয়ে দেয় বা তাদের প্রচার কমিয়ে দেয়।

তুরস্কে ভারতীয় পর্যটনেও এর প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম তুরস্কের পর্যটন প্রচারণা কমিয়ে দেয় এবং গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ভারতীয় পর্যটকদের আগমন ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, সামরিক সহযোগিতা এরই মধ্যে ভারত-তুরস্ক সম্পর্ককে অর্থনৈতিক ও জনপর্যায়ের প্রতিক্রিয়ার মুখে ফেলেছে।

চুক্তিটি কি সত্যিই ‘ন্যাটোর মতো’? এই চুক্তির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বক্তব্য। তিনি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে তুরস্কের এই তুলনা ভারতের জন্য স্বাভাবিকভাবে কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

তবে বাস্তবিক চিত্র এতটা সরল নয়। মক্কা চুক্তিতে এখনও ন্যাটোর মতো কোনও যৌথ সামরিক কমান্ডের কাঠামো নেই। যৌথ প্রতিরক্ষা কার্যকর করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা কোন পরিস্থিতিতে কোন দেশ কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তার বিস্তারিত কাঠামো স্পষ্ট নয়।

ফলে চুক্তিটি এখনই ন্যাটোর সমতুল্য একটি সামরিক জোটে পরিণত হয়েছে- এমন দাবি করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমার প্রেক্ষাপটে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? চুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিকল্প কাঠামো তৈরির একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

অর্থাৎ, চুক্তিটি কেবল ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে- এমনটা বলা যেমন কঠিন, তেমনি এর সম্ভাব্য ভারতীয় প্রভাবও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির একটি রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে।

ভারতের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনও সামরিক সংঘাত হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক বাস্তবিকভাবে কী ধরনের ভূমিকা নেবে। যদি চুক্তির ‘এক দেশের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা’ নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতকে শুধু ইসলামাবাদ নয়, আরও দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতা এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে আপাতত নয়াদিল্লির জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গা আছে। কারণ, চুক্তিটির কোনো যৌথ কমান্ড নেই, সম্মিলিত সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট ট্রিগার নির্ধারিত নয় এবং ন্যাটোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক সামরিক কাঠামোও গড়ে ওঠেনি।

তাহলে কাগজে-কলমে এটি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হলেও বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে। এরপরও ভারতের জন্য চুক্তিটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। যদি পাকিস্তান ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারাকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে, তাহলে তুরস্ক ও সৌদি আরবের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে পাকিস্তান যদি এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলগত প্রতিরোধ তৈরির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনই ন্যাটোর মতো শক্তিশালী সামরিক জোট না হলেও, এটি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সতর্কসংকেত। ভবিষ্যতে চুক্তিটি কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, যৌথ সামরিক সক্ষমতা কতটা বেড়ে যায় এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও তুরস্ক বাস্তবে কী অবস্থান নেয়—এসব বিষয়গুলোই নির্ধারণ করবে এই নতুন জোট ভারতের জন্য কতটা বড় ‘মাথাব্যথা’ হয়ে উঠবে।

সবচেয়ে বড় কথা, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে একাধিক নতুন অংশীদারত্ব দ্রুত গড়ে উঠছে। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভারতকে শুধু পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা নয়, ইসলামাবাদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান তুরস্ক-সৌদি নিরাপত্তা সম্পর্ককেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%