ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করেছে নাসা


‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করেছে নাসা

মানুষ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চাঁদে ফেরার স্বপ্ন দেখে আসছে। কিন্তু এবার লক্ষ্য শুধু চাঁদে গিয়েই ফিরে আসা নয়।

বিজ্ঞানীরা সেখানে একটি গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তুলে, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করার এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য চাঁদকে একটি যাত্রা ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে নাসা। সংস্থাটি আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে এবং নাসা এই দলকে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

আর্টেমিস কর্মসূচি নাসার দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার একটি অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানো এবং ভবিষ্যতে আরো গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা।

আর্টেমিস-৩ মিশন কী?

অনেকে ধারণা করেছিলেন, আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামবে। কিন্তু নাসা সেই পরিকল্পনার মধ্যে পরিবর্তন এনেছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ উৎক্ষেপণ হতে চলেছে। কিন্তু এই মিশনের নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং এটি হবে একটি বড় ধরনের পরীক্ষামূলক অভিযান। মিশনের সময় নভোচারীরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করবেন। সেখানে বিভিন্ন মহাকাশযান ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ, সমন্বয় এবং পরিচালনা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

নাসা চায় যে, ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের আগে সকল প্রযুক্তির কার্যকরীতা বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মিশন?

এই মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানকে ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে কক্ষপথে একাধিক মহাকাশযান নিরাপদভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজে বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-৩ ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করবে। এটি আর্টেমিস-২ এবং চাঁদে অবতরণ মিশনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে। নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর চেষ্টা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

কারা থাকছেন আর্টেমিস-৩ দলে?

আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

চার সদস্যের এই দলে রয়েছে অভিজ্ঞ মহাকাশচারী, যারা দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার রেকর্ডধারী, একজন নতুন নভোচারী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধি। মিশনের নেতৃত্ব দেবেন র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর সাবেক কর্নেল এবং একজন অভিজ্ঞ নভোচারী। এর আগে তিনি ১৫০ দিনেরও বেশি সময় মহাকাশে কাটিয়েছেন। দলের পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মহাকাশচারীদের একজন এবং আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারীও। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকবেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। তিনি টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে অবস্থান করে একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন। দলের চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস, যিনি একজন প্রকৌশলী, রোবট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা। এটি হবে তাঁর প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ।

নাসার মতে, ভবিষ্যতে চাঁদের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ কেন?

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান আর্টেমিস-৩ দলের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ (আর্থস ফার্স্ট স্টারফ্লিট) এর কথাটি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেন, যেখানে মহাকাশ অনুসন্ধান শুধু এক দেশের সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করছে। আর্টেমিস কর্মসূচিও এই বৈশ্বিক সহযোগিতার ফল। স্পেসএক্স চাঁদে মানুষের অবতরণের জন্য স্টারশিপ প্রযুক্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে ব্লু অরিজিনও নিজেদের অবতরণযান উন্নয়নের কাজ করছে।

আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও নভোচারী দিয়ে এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব

চন্দ্র পোশাকে 'প্রাডা'?

সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের চন্দ্র পোশাক তৈরিতে ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'প্রাডা'র সম্পৃক্ততার খবর আলোচনায় এসেছে। তবে বিষয়টি ফ্যাশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রাডা সরাসরি নাসার জন্য পোশাক তৈরি করছে না। তারা নাসার চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠান 'অ্যাক্সিয়ম স্পেস'কে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। প্রাডা উন্নত কাপড়, বিশেষ উপকরণ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করছে। এই সহযোগিতার ফলে তৈরি হয়েছে নতুন অ্যাক্সইএমইউ স্পেসস্যুট। নতুন এই পোশাক নভোচারীদের চাঁদের চরম তাপমাত্রা, ধুলা ও বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেবে। পোশাকটিতে বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে নভোচারীদের শরীর ঠান্ডা রাখা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে

আর্টেমিস-৩ মিশনের ঘোষণা এসেছে আর্টেমিস-২ এর সফলতার পর। ২০২৬ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। সেই মিশন প্রমাণ করেছে, নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান গভীর মহাকাশে মানুষকে নিরাপদে বহন করতে সক্ষম। এখন আর্টেমিস-৩-এর দায়িত্ব হলো যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি মহাকাশযান ও প্রযুক্তি একসাথে কাজ করতে পারে তা প্রমাণ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাপটি চাঁদে অবতরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপোলো কর্মসূচি প্রমাণ করেছে মানুষ চাঁদে পৌঁছাতে পারে, আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেখানো যে মানুষ সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, ঘাঁটি তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই আর্টেমিস-৩ চাঁদে না নামলেও এর গুরুত্ব কম নয়। বরং এই মিশনের সফলতা নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতের চন্দ্র ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা এবং মঙ্গল অভিযানের পথ।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, মানুষ আবার চাঁদে ফিরবে। আর সেই পথ ধরেই একদিন শুরু হতে পারে মঙ্গল গ্রহে মানুষের যাত্রা।

আরও পড়ুন: রংপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, জঙ্গি গোষ্ঠীটি তাদের দেশকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে।

লেবাননের জনগণের উদ্দেশে নেতানিয়াহুর দেওয়া একটি ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলছেন, ‘ইসরায়েল আপনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেই। আমরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে আছি। তারা আপনাদের দেশকে জিম্মি করে রেখেছে... আমরা আপনাদের সঙ্গে, লেবাননের সঙ্গে শান্তি কামনা করি।’

নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেছেন, ‘ইসরায়েল আপনাদের সঙ্গে শান্তি চায়। নিজেদের ভবিষ্যৎকে নিজের হাতে তুলে নিন। ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিন। আমাদের সকল সন্তানের জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি গড়ে তুলুন। আর একবার হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা গেলেই, সম্ভাবনার কোনো শেষ থাকবে না এবং তা হবে আকাশচুম্বী।’

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ক্রমেই আরো গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব পুরো অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য আরো গভীর সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে এবং এর পরিণতি শুধু এই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

গুতেরেস আরও বলেন, ‘এই সপ্তাহে হামলার পরিধি বেড়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি রয়েছে, তা অনেকটা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে কম মাত্রার সংঘাতের মতো।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কম মাত্রার এই সংঘাত যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ঝুঁকিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’ সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর কোনো হামলা নয়, আর কোনো অজুহাত নয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো মাদক কারবারিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো মাদক কারবারিরা

নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক কারবারিদের হামলায় নিহত হয়েছে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র। এই ঘটনার পর আরও ৪ জন আহত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংহপুর গ্রামে আঞ্জু মিয়াজী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ফাহিমের বাড়ি পাশ্বর্বতী বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। সে স্থানীয় পৌর হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং সেনবাগে নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

স্থানীয় লোকজন ও নিহত ফাহিমের স্বজনেরা জানায়, ফাহিমের নানার বাড়ি আঞ্জু মিয়াজী বাড়ির উঠান ও চলাচলের পথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে হারুনসহ তার সহযোগীরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হারুন ও তার সহযোগীরা ওই বাড়ির পাশে মাদক সেবন করছিল। ঘটনাস্থলে তাদের ধাওয়া দিলে তারা প্রথমে পালিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী হারুন, মমিন ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আঞ্জু মিয়াজী বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় বাড়ির লোকজনও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

অন্ধকারে মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে ফাহিম, শাকিব, রিফাত এবং হারুনসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। এর মধ্যে ফাহিম, শাকিব ও রিফাতকে দ্রুত ২৫০ শয্যা নোয়াখালী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে হারুনকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে।

সেনবাগ থানার ডিউটি অফিসার শিমুল স্কুল ছাত্র ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, মাদক কারবারিদের হামলায় ওই ছাত্র নিহত হয়েছে। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হারুন নামক একজনকে আটক করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বর্তমানে বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বর্তমানে বন্ধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বর্তমানে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানিয়েছে যে, কারিগরি ত্রুটির কারণে এই রুটের যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে নৌপথে চলাচলকারী হাজারও যাত্রী চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন।

গত ১০ জুন সাগরে সতর্ক সংকেতের কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর নৌ রুটে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে জাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আজ সকালে নির্ধারিত সময়েও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মালিণ্চ ছেড়ে যায়নি। যাত্রা বাতিল করে জাহাজটি ঘাটে রেখে মেরামতের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

এমভি মালিণ্চের মাস্টার আমির হোসেন জানিয়েছেন, ‘জাহাজের গিয়ারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আজকের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ জাহাজটি পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌরুটে জাহাজের পাশাপাশি ফেরির মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন পরিবহন করা হয়।

এছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট ও ট্রলারের মাধ্যমেও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্পিডবোট ও ট্রলারে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে অধিকাংশ যাত্রী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য জাহাজ এবং ফেরির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে, ফেরিতে যানবাহন পরিবহনের কারণে যাত্রী ওঠানামায় বিলম্ব ঘটছে এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়সূচিও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। এ কারণে জাহাজে যাতায়াতকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক ও নিরাপদ মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বর্ষার এই বৈরী মৌসুমে সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌপথে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জাহাজটির মেরামত সম্পন্ন করে নৌপথে স্বাভাবিক যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুরিয়ারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়তি ভাড়া আদায়ের আম পরিবহনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


কুরিয়ারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়তি ভাড়া আদায়ের আম পরিবহনে

ঢাকাসহ সারা দেশের সাতক্ষীরার আম পাঠানোর সুযোগে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে আম চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।

জলবায়ু ও মাটির গুণে সাতক্ষীরার আম আগেভাগেই পাকে। এর সুমিষ্ট স্বাদ, জেলার আমের চাহিদা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বাড়িয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিবহনের নামে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।

প্রতি কেজি আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে খরচ নেয়া হচ্ছে ১৩ থেকে ২৪ টাকা। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কার্টন প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকার প্লাস্টিকের বস্তা ৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে গ্রাহকদের। এই সবকিছুর ওপর অনেক সময় কর্মচারীদেরও বকশিশ দিতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে চাষিরা সাতক্ষীরার সুমিষ্ট আমের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানান সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সাতক্ষীরার আমের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্বল্প খরচে আম পরিবহনের সুযোগ দিচ্ছে ডাকঘর বা পোস্ট অফিস। সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার জানান, সরকারিভাবে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম পরিবহনে নেয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের তদারকির অভাব নিয়ে অভিযোগ থাকলেও নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ् কাওসার আজিজ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আম শুধু ফল নয়, এটি এখন অর্থকরী ফসল।’ কুরিয়ার সার্ভিস, আম চাষি ও কৃষি বিভাগকে নিয়ে বসে এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের কথা জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরায় এবার ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে, যার বেশিরভাগই জেলার বাইরে পরিবহন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%