০৫:৪৩ পি.এম
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সড়কে ময়লা ফেলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি হচ্ছে বেতন ভাতা বৃদ্ধি, নতুন নিয়োগ বাতিল এবং চাকরির নিশ্চয়তা।
অভিযোগ উঠেছে যে, পরিচ্ছন্নতা শাখার কনজারভেন্সি পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদের উস্কানিতে এই আন্দোলনে নামেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে শহরের চকবাজারসহ বিভিন্ন সড়কে ক্ষুদ্ধ পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লা ফেলে এই কর্মসূচি পালন করেন। পরে পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসার হস্তক্ষেপে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়কের ময়লা সরিয়ে ফেলেন।
আরও পড়ুন: মহেশপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে জামাই আব্দুর রহমান হত্যার অভিযোগ
এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ জমে দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিক্ষোভকারী কর্মীদের অভিযোগ, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বল্প বেতনের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। বয়সের কারণে কয়েকজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। এরপর বাহির থেকে তুলনামূলক বেশি বেতনে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, প্রতিমাসে পরিচ্ছন্নতা শাখার কনজারভেন্সি পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদের মাধ্যমে শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য বেতন প্রদান করা হয়। কিন্তু ১০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী পৌরসভাতে নেই। এবার পৌরসভা একটি এনজিওকে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই সূত্রে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ব্যাংক হিসেব খুলতে বলা হয়েছে। তাদের বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এরপরই দায়িত্বরত পরিদর্শক পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উস্কে দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সড়কে ময়লা আবর্জনা ফেলে আন্দোলনে নামে।
পৌরসভার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্গন্ধে বাজারের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল। যে বা যার ইন্ধনে ঘটনাটি ঘটেছে, তাকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে, তাদেরকেও নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আ.লীগ নেতাকর্মীদের স্লোগান, কালকিনি-ডাসারে আলোচনা
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার কনজারভেন্সি পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদ বলেন, "সড়কে ময়লা ফেলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আন্দোলন করেছে। এ ঘটনায় প্রশাসক সবাইকে নিয়ে বসেছেন। পরে আমরা ময়লা পরিস্কার করে দিয়েছি। দূর-দূরান্ত থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসে এখানে কাজ করে। পৌর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ব্যাংক হিসেব খুলতে বলেছে। এনিয়ে কোন সমস্যা নেই।"
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা ও পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন