১১:২৮ এম
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনার কারণে ভুক্তভোগীর পরিবার খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার (১৩ জুন) এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার (১২ জুন) রাতেও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে চট্টগ্রামে ফিরে নাঈম বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার সময় এই হেনস্তার শিকার হন।
এতে জানা গেছে, নাঈম রাতের সময় বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এ সময় তার গলা চেপে ধরা হয়েছে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
গণমাধ্যমে নাঈম বলেন, ‘রাত ১০টা ২০ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট চট্টগ্রামে পৌঁছে। তখন গাড়ি না পেয়ে আমি সিএনজিতে করে বাসায় ফেরার চেষ্টা করছিলাম। টোল প্লাজার কাছে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামান। তিনি লালখান বাজার পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে আসেন। এরপর একজন পুলিশ পোশাকে এবং আরেকজন সিভিল ড্রেসে এসে আমাদের গাড়ি তল্লাশি করতে চান। আমি ভাবছিলাম তারা শুধুমাত্র ব্যাগ চেক করবেন।’
মারধরের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দেন। আমি জানতে চাইছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে। তখন আমি ভয় পেয়ে যাই। তিনি আমাকে বলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটি কথাও বলবি না।’ এরপর তিনি আমার কলার চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে নির্যাতন করেন। শারীরিকভাবে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে।’
নাঈম আরো দাবি করেছেন যে, উপস্থিত লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে চিনলেও পুলিশ তাদের কথা গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, ‘আমার গলা চেপে ধরা হয়েছিল। আমি চিৎকার করে বাবাকে ফোন দিই। পরে আমার মোবাইলও নিয়ে নেয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন, কিন্তু তারপরও তারা আমার গলা চেপে ধরে রাখেন।’
এরপর নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি অফিসার ইনচার্জকে নিজের পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘ওসি আমাকে বলেন, ‘চোখ নিচু করে কথা বলো।’ পরে যখন ফোন আসতে শুরু করে, তখন তার আচরণ বদলে যায়।’
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
এসআই শফিকের বিরুদ্ধে সরাসরি মারধরের অভিযোগ এনে নাঈম বলেন, ‘তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছেন। আমি বলেছি, আপনার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার নেই। তবুও তিনিই মারধর করেছেন।’
এদিকে, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পরিবারের দেয়া মামলায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন