১০:১২ পি.এম
কুড়িগ্রামে চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ হাটে দোকানপাট এবং বাড়িঘর ভাঙ্গচুরের সঙ্গে জড়িত মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার (২১ জুন) বিকালে কুড়িগ্রাম শহীদ মিনার চত্বরের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হলো। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিলমারী উপজেলার রমনা জোড়গাছ হাটে দীর্ঘ এক যুগ ধরে হোটেল ব্যবসা করছেন একই এলাকার মরহুম হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল শেখের ৪ পুত্র। রমনা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক, আবু তালেব, রঞ্জুসহ পৃথক তিনটি হোটেল ও একটি ফলের দোকানের আলাদা ব্যবসা করে আসছেন তারা। গত ১৭ জুন বুধবার দোকানের পাওনা টাকা চাইতে গেলে কুদ্দুস গংরা চড়াও হয়। সিদ্দিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রথমে সিদ্দিকের হোটেল ভাঙ্গচুর করা হয়, পরে একে একে বাকী তিনটি দোকান ভাঙ্গচুর ও লুটপাট চালানো হয়। প্রতিবাদ করার পর কুদ্দুস গংরা আরো সংগঠিত হয়ে বাজারের পাশে ওয়াবদা বাঁধে থাকা দুইটি বাড়ি ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করে। তারা এলাকা থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় এবং হত্যার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীরা চিকিৎসার জন্য চিলমারীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে সেখানেও সন্ত্রাসীরা চড়াও হয়। পরে জীবনের ভয়ে পালিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে আছে ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্য সদস্যরাও বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুচতুর কুদ্দুস গংরা ভুক্তভোগীদের এলাকা ছেড়ে দিতে মিথ্যা মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
হোটেল ব্যবসায়ী সিদ্দিক বলেন, "পৈতৃক সূত্রে হোটেল ব্যবসা করছি দীর্ঘ এক যুগ ধরে। আমরা কেমন ব্যবসায়ী বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানে। আমাদের পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো প্রতি হাটে হাটে চাঁদা দাবি করে। নিয়মিত চাঁদা না দিলে এই বাজারে ব্যবসা না করার হুমকি দিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে।"
আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
সন্ত্রাসীরা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। দোকান হাটের দোকান ব্যবসায়ীরা ছাড়াও হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে নিয়মিত চাঁদা তুলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ও ইজারাদার জানান, "চাঁদার প্রতিবাদ করলেও আমাদের সাথে কুদ্দুস গংদের একাধিকবার বাকবিতণ্ডা হয়।"
সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেটের কাছে জুলুম নির্যাতনের শিকার হলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। কেউ প্রতিবাদ করলে জুলুম নির্যাতন ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজানো নানান প্রচারণা নেমে আসে। শুধুমাত্র রমনা হাঁটে নয়, গোটা এলাকায় রাজত্ব ও ত্রাস সৃষ্টি করেছেন ওই সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগী আহতরা গতকাল চিলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার জানান, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন