ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

৪২০০ টাকার সারের কাজ হবে ২৩০ টাকায়: ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন


৪২০০ টাকার সারের কাজ হবে ২৩০ টাকায়: ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন

দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন লাভ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে।

কৃষিতে ন্যানো ইউরিয়ার ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেবে ফসলের উৎপাদন খরচ। ৪ হাজার ২০০ টাকার প্রচলিত ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা।

আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও আবেদনটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

পেটেন্ট অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন। দেশের মাটি, দেশের কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি।" ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, সারের অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে। দেশীয় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ পেটেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন উদ্ভাবনটির কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।

পেটেন্ট পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট প্রাপ্তি যবিপ্রবি পরিবারসহ সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।"

তিনি আরও বলেন, "এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন কেবল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে এক বিরাট বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।" প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমান পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি আমাদের কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে এটি সরকারের কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

তিনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ড. জাভেদের এই সাফল্য আমাদের অন্যান্য গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কাজে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।" যবিপ্রবি সবসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এমন সৃজনশীল এবং বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। আমি অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানকে এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।

সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: ডেমরায় ব্যাডমিন্টন খেলার সময় ছুরিকাঘাতে ৪ জন আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : এরশাদ উল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মাঠপর্যায়ে সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারি সহায়তা প্রকৃত দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাবে। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য এবং অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

আজ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ডের মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ উল্লাহ আরও বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো আজগরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক, সদস্য মুহাম্মদ শওকত আলম, মেহেদী হাসান সুজন, শাহীনুর আলম শাহীন।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পিপলু চন্দ্র নাথ।

এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যসংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় প্রযুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আমদানি বিকল্প তৈরির পাশাপাশি নিজেদের প্রযুক্তির মালিকানা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন ভারতের পরবর্তী লক্ষ্য।

বিজনেস টুডে এবং ডেলয়েট ইন্ডিয়ার একটি জরিপ অনুযায়ী, ভারতের তালিকাভুক্ত ২৬টি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মুনাফা ২০২১ অর্থবছরের ৭ হাজার ৫০৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ২৩ হাজার ১১১ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। পাঁচ বছরে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০৮ শতাংশ।

এসিই ইকুইটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে জেন টেকনোলজির নিট মুনাফা ৭ হাজার ৭৫৭ শতাংশ বেড়ে ২১৭ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের (এইচএএল) মুনাফা বেড়ে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং ভারত ইলেকট্রনিকসের মুনাফা ৬ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়, যার ৯৮ শতাংশ সরবরাহের কথা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। ২০২৫ অর্থবছর থেকে ২০২৭ অর্থবছর পর্যন্ত অনুমোদিত প্রস্তাবের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি।

গত এক দশকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বছরে গড়ে ১৩ শতাংশ এবং রপ্তানি ৪০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি রুপি, যা ২০২৭ অর্থবছরে বেড়ে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাবে।

২০২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি এবং রপ্তানি হয়েছে ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপির সরঞ্জাম। উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনভিত্তিক কর্মসূচি আইডেক্স ও আদিতির মাধ্যমে স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবকদের যুক্ত করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আইডেক্সের আওতায় ৬৭৬টি স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছেন। স্বাক্ষরিত হয়েছে ৫৫১টি নকশা ও উন্নয়ন চুক্তি।

ডেলয়েট ইন্ডিয়ার অংশীদার আলারিক দিনিজের মতে, পরবর্তী পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, রাডার ও অন্যান্য দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য প্রযুক্তি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের হাতে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি এবং ভারত ইলেকট্রনিকসের হাতে ৭২ হাজার ২৫৮ কোটি রুপি ক্রয়াদেশ রয়েছে। তবে দীর্ঘ উৎপাদন সময়, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বড় ক্রয়াদেশ সব সময় দ্রুত মুনাফায় রূপ নেয় না।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ভি রেড্ডির মতে, ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণই ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনা ও দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাচ্ছেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাচ্ছেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক

চার দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার রাত ১২.১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আরও যাচ্ছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও মিডিয়া টিম।

সফরের দ্বিতীয় দিন, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর), টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া, জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির ৩৫ জন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলা ২০২৫ সালে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর পাশাপাশি অভিযুক্তদের মধ্যে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও রয়েছেন, যারা দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

তুরস্কের প্রসিকিউটররা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটক রাখা, গুরুতর ডাকাতি, জাহাজ ছিনতাই এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। মামলায় ফিলিস্তিনে গণহত্যার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জুলাই মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং আগস্টে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য তুরস্কের অনুরোধের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বে প্রবেশ করে।

গাজামুখী ত্রাণবহরে হামলার অভিযোগ

মামলার মূল বিষয় ২০২৫ সালের গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানগুলোর ওপর ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান। গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভেঙে সেখানে আটকে পড়া মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ত্রাণবহর যাত্রা করেছিল।

২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ অংশগ্রহণকারী নিয়ে ৫০টির বেশি জাহাজ যাত্রা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে যে, পথে তিউনিসিয়া ও গ্রিসের উপকূলের কাছে বহরটির কয়েকটি নৌযানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী নৌযানগুলো আটক করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বহরে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। তাদের অভিযোগ, আটকের পর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অপমানজনক আচরণ এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

১০১ ভুক্তভোগীর পক্ষে বিচার

আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে তুরস্ক মধ্যস্থতা করে। পরে কয়েক শ অংশগ্রহণকারীকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী ও নোভারা মিডিয়ার এক অবদানকারীও ছিলেন।

ইস্তাম্বুলে তাদের সঙ্গে কাজ করেন আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দল। নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান মামলায় ১০১ জন ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আইনি দল বলেছে, এ বিচার শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নয়, বরং অপরাধের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আইনি দলের ভাষ্য, অনাহারে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্র সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগ করলে, সেই অভিযানের নির্দেশনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও বিচারিক জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক এখতিয়ারে মামলা

বিদেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার সুযোগ দেয় সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার বা ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন। তুরস্ক এই নীতির আওতায় মামলাটি পরিচালনা করছে।

এ নীতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কোনো দেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে সংঘটিত না হলেও করা যেতে পারে। তবে মামলার বিচারিক এখতিয়ার, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং অভিযুক্তদের দায় নির্ধারণ আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে।

ইতালিতেও তদন্তের মুখে ইসরাইলি কর্মকর্তারা

ইস্তাম্বুলে বিচার শুরুর পাশাপাশি ইতালির রোমেও গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ইতালীয় ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে বেন-গভির, কাৎজ, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির এবং আরো ১১ জন রয়েছেন।

তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অপহরণ, শারীরিক ক্ষতি, ডাকাতি, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং জাহাজডুবির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তুরস্ক ও ইতালিতে চলমান এসব আইনি পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগে বাধা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরু হওয়া মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; তাদের দায় আদালতের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%