১০:৪১ পি.এম
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন লাভ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে।
কৃষিতে ন্যানো ইউরিয়ার ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেবে ফসলের উৎপাদন খরচ। ৪ হাজার ২০০ টাকার প্রচলিত ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা।
আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, ফি ৮-১০ হাজার টাকা
ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও আবেদনটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।
পেটেন্ট অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন। দেশের মাটি, দেশের কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি।" ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, সারের অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে। দেশীয় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ পেটেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন উদ্ভাবনটির কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।
পেটেন্ট পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট প্রাপ্তি যবিপ্রবি পরিবারসহ সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।"
তিনি আরও বলেন, "এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন কেবল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে এক বিরাট বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।" প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমান পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি আমাদের কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে এটি সরকারের কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন
তিনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ড. জাভেদের এই সাফল্য আমাদের অন্যান্য গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কাজে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।" যবিপ্রবি সবসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এমন সৃজনশীল এবং বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। আমি অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানকে এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।
সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: ডেমরায় ব্যাডমিন্টন খেলার সময় ছুরিকাঘাতে ৪ জন আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন