ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস


আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

আজ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সারা দেশে সাধারণ ছুটির ঘোষণা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে আজকের দিনে, অর্থাৎ ৫ আগস্ট।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

সেদিন ছাত্র-জনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

এই ত্যাগ ও সংগ্রামের দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

অভ্যুত্থানের পূর্বে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন।

বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনা উন্মোচিত হয়।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ বাসে, কেউ মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করতে থাকেন। দুপুর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে ওঠে। একদফার স্লোগানে মুখরিত হয়ে রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।

এ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৫ বছরের শাস্তির অবসান ঘটে। পরে সরকার ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। সাধারণভাবে ঐ তারিখ ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন যতক্ষণ না রক্তস্রোত বন্ধ হচ্ছে।

আন্দोलনের সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ৫ জুন। ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন। ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা সংস্কারের দাবি তুললেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের অধীন বলে উল্লেখ করে।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হিসেবে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং পরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে এসব উদ্যোগ আন্দোলন থামাতে সক্ষম হয়নি; বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে তা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্মুখীন হন। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম গণআন্দোলন বলা হয়।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ এবং পরে মাহফুজ আলম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে राष्ट्रीय নির্বাচন আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ঐ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো যাবে।

এদিন সকালে ৯ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১ টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

আরো আয়োজন হিসেবে, এই উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ সকালে সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।

এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ নিয়ে ইরান-মার্কিন চুক্তি হতে পারে আজ : মার্কিন অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ এম


হরমুজ নিয়ে ইরান-মার্কিন চুক্তি হতে পারে আজ :  মার্কিন অর্থমন্ত্রী

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, "আমার মনে হয় আজ বা কালকের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া এবং এই সংঘাতকে আরো স্বাভাবিক অবস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।"

চুক্তির অধীনে তেহরানকে কোনো টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, "এই চুক্তি প্রণালিতে অবাধ চলাচলের অনুমতি দেবে।" তিনি বলেন, "এটি অবাধ চলাচলের সুযোগ তৈরি করবে।" গত কয়েক দিনে সেখানে পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও তিনি উল্লেখ করেন যে, "আমরা এখনই বেশ কিছু জাহাজ বের হতে দেখছি।"

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি হলে জ্বালানি তেলের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, "সেখানে শত শত জাহাজ বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।"

সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, "পরিস্থিতি এখনো কিছুটা অনিশ্চিত হলেও বর্তমানে বেশ কিছু জাহাজ বেরিয়ে আসছে। তাই আমি আশা করি জ্বালানি পণ্যের মূল্য আবার কমে স্বাভাবিক হবে, যা পুরো বিশ্বের জন্যই হবে ভালো।"

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরো বেশি জাহাজ চলাচলের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি।

রুবিও পররাষ্ট্র দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, "ওই আলোচনাগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই তা সম্পন্ন হবে।"

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দিন কড়া নিরাপত্তায় থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ এম


দুই দিন কড়া নিরাপত্তায় থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা করেছে। একইসাথে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপাচার্য বলেছিলেন, আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পরদিন ৬ আগস্টেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। ইতোমধ্যে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল আহতদের দেখতে গেছে। আজকের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা যে সংগঠনেরই হোক।

ড. মো. রইছ উদ্‌দীন আরো জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য।

এর আগে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল সেন্টারের সেবা উন্নয়নের দাবিতে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের বাধা দেওয়া হলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে বাগবিতণ্ডা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের জাতীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে ছাত্রশিবির এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্বশুরবাড়ির ‘নাস্তা’ নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বাবাকে হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ এম


শ্বশুরবাড়ির ‘নাস্তা’ নিয়ে বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর বাবাকে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘটনায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা বাদশা মিয়া (৫০)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে মহিউদ্দিন, শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের কাইল্লা মিস্ত্রির বাড়িতে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করেন।

নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম এবং তার স্বজনদের অভিযোগ, এক বছর আগে সামাজিক এবং ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। তবে, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম এবং ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন। সেই সময় পঞ্চমাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাদশা মিয়াকে মারধর করা হয় এবং মতিন মিয়া তার তলপেটে লাথি মারেন। এর ফলস্বরূপ, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অঞ্চলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ময়নার বান্ধবী ও প্রতিবেশী তাসমিম জাহান নির্জনা বলেন, "এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ন্যাক্কারজনক। আমি জানি, আমার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।

তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে আজ তার বাবার হত্যার খবর পাই। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে ময়নার জীবনের নিরাপত্তা এবং তার গর্ভের শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের যৌতুক জনিত নির্যাতন এবং সহিংসতার শিকার না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

ব্রাহ্মণপাড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার স্থান থেকে শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
অরুন্ধতী রায়ের মন্তব্য

মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ, ককরোচদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ এম


মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ, ককরোচদের দুই সপ্তাহের আন্দোলনে

ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় দাবি করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রায় বলেন, এই রাজনৈতিক অভিঘাত যেকোনো নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড়।

রাজনৈতিক মন্তব্যের অংশ হিসেবে,

সোমবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই মাদার মেরি কামস টু মি-এর হিন্দি অনুবাদ মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে শুধুমাত্র নির্বাচনই সবকিছু নয়; কখনও কখনও জনতার আন্দোলন বহু বছর ধরে নির্মিত রাজনৈতিক বয়ান ও ভাবমূর্তিকেও অল্প সময়ের মধ্যে নড়িয়ে দিতে পারে।

রায়ের ভাষায়, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ২৪ বছরে যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ তাকে বিষ্ণুর অবতার বলেও আখ্যা দিয়েছেন, সেই ভাবমূর্তি মাত্র দুই সপ্তাহে ভেঙে দিয়েছে ককরোচরা। এক অর্থে, ককেরোচদের এটি নির্বাচনি জয়ের চেয়ে বড় বিজয়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলনের এই সাফল্য সত্বেও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। সরকারের হাতে যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এ সময় তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের পরিপক্বতার প্রশংসা করে বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে।

একটি সংগীত দলের উদাহরণ টেনে রায় বলেন, বেস গিটারবাদক গায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন না, গায়ক ড্রামার হতে পারেন না। প্রত্যেকে নিজের নিজস্ব ভূমিকা পালন করেই একটি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখে। এখন প্রাপ্তবয়স্কদেরও সেই পরিপক্বতা দেখাতে হবে।

অনুষ্ঠানে, অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার তাঁর আত্মজীবনী বা তাঁর মা মেরি রায়ের জীবনী নয়; বরং মা ও মেয়ের জটিল সম্পর্কের কাহিনি। বইয়ে মাকে 'গ্যাংস্টার' বলে উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল রূপক নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

আলোচনায় ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বুকারজয়ী এই লেখক। তিনি বলেন, যখনই তাঁকে পুরস্কৃত বা সম্মানিত করা হয়, তখন তাঁর মনে হয় কোথাও না কোথাও অন্য কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাঁর মতে, গাজা থেকে শুরু করে কোনো গ্রামের প্রান্তিক মানুষ কিংবা জন্তর মন্তনের আন্দোলন—সব জায়গাতেই এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের দুর্ভোগ সমাজের চোখের আড়ালে থাকে।

অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ। এখন নাগরিকদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আর নির্যাতন মেনে নেবে না।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%