০৯:১৭ এম
তিব্বতে চীনের নীতির বিরুদ্ধে এবং তিব্বতি কর্মী লোবগা রাংজেনের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো পদক্ষেপের দাবিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্টুডেন্টস ফর অ্যা ফ্রি তিব্বতের (এসএফটি) ৩ সদস্য।
তারা সদর দপ্তরের ফটকে নিজেদের শিকল দিয়ে বেঁধে এই প্রতিবাদ জানান।
তিব্বতি সংবাদমাধ্যম ফায়ুলের বরাতে এ তথ্য জানায় এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)। প্রতিবেদনে বলা হয়, লোবগা রাংজেন জাতিসংঘ ভবনের সামনে আত্মাহুতি দেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, খাদ্যপণ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাংজেনের আত্মাহুতির পর তিব্বতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা উল্লেখযোগ্য বিবৃতি দেয়নি।
যদিও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছিলেন।
তবুও তিব্বতি কর্মীদের দাবি, শুধু সমবেদনা জানানো যথেষ্ট নয়।
বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতি তিব্বতের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া, স্বাধীন তদন্তকারীদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং চীনের বিরুদ্ধে কথিত পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের বিষয়ে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান। এ সময় তিব্বতি সম্প্রদায়ের সমর্থকরাও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: হরমুজে হামলার শিকার কাতারের এলএনজি ট্যাংকার পাকিস্তানের দিকে যাচ্ছিল
জাতিসংঘ ভবনের একটি প্রবেশপথ অবরোধ করায় তেনজিন তসেতেন, তসেলা জোকসাং এবং তেনজিন কুনচক নামে ৩ বিক্ষোভকারীকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ আটক করে।
পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে এসএফটির ক্যাম্পেইন পরিচালক তসেলা জোকসাং বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল তিব্বতের পরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চীনের চলমান দমননীতির অভিযোগের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করা।
তার দাবি, চীনা শাসনের প্রতিবাদে গত কয়েক বছরে ১৭০ জনের বেশি তিব্বতি আত্মাহুতি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা আসবে না: বাদশাহ আবদুল্লাহ
এছাড়া বিক্ষোভকারীরা ১ জুলাই কার্যকর হওয়া চীনের ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রগ্রেস আইনের’ সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন তিব্বতে একীভূতকরণ নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
এর ফলে তিব্বতি শিশুদের মান্দারিন ভাষার আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো, যাযাবর তিব্বতি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা পরিবর্তন এবং তিব্বতি ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে দুর্বল করার মতো পদক্ষেপ আরও জোরদার হবে বলে তারা দাবি করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন