০২:৪৯ এম
আল্লাহর আল-আউয়াল ও আল-আখির নাম দুটি নির্দেশ করে তাঁর অস্তিত্বের অনাদিত্ব ও স্থায়িত্বের পূর্ণতা। এই নামগুলোর অর্থ হচ্ছে সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ। তিনিই আল-আউয়াল, যিনি আগে কিছুই ছিলেন না। আবার তিনি আল-আখির, যিনি পরে কিছুই রাখবেন না। তাঁর অস্তিত্ব চিরন্তন, যার কোনো সূচনা নেই; আর তাঁর স্থায়িত্ব অনন্ত, যার কোনো সমাপ্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুই সৃষ্ট; অস্তিত্ব ও স্থায়িত্বের জন্য সবকিছুই তাঁর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গোপন। আর তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’
(সুরা আল-হাদিদ, আয়াত : ৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি প্রথম, আপনার আগে কিছুই নেই। আপনি শেষ, আপনার পরে কিছুই নেই...।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪০০)
আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬
আল্লাহর নাম আল-আউয়াল
এর অর্থ হলো তিনি এমন সত্তা, যাঁর আগে কিছুই ছিল না। তিনি সবকিছুর পূর্ববর্তী। সব সৃষ্টিই তাঁর সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দানের মাধ্যমে তাঁর পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ছিলেন, তাঁর আগে কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর। তিনি লাওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রেখেছিলেন। এরপর তিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেন।’
(বুখারি, হাদিস : ৭৪১৮)
আল্লাহর নাম আল-আখির
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
এর অর্থ হলো তিনি এমন সত্তা, যাঁর পরে আর কিছু নেই। সৃষ্টিজগতের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও তিনিই অবশিষ্ট থাকবেন। তিনি যা অবশিষ্ট রাখবেন, তা ছাড়া অন্য সবকিছুই ধ্বংসশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাঁর সত্তা ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই এবং তোমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।’
(সুরা আল-কাসাস, আয়াত : ৮৮)
আল-আউয়াল ও আল-আখির নাম দুটির প্রতি ঈমানের প্রভাব
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মুখাপেক্ষিতা উপলব্ধি করা: কারণ তিনিই আল-আউয়াল, তাঁর আগে কিছুই ছিল না। সৃষ্টিজগতের সূচনা তাঁর থেকেই। তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই নতুনভাবে সৃষ্ট এবং অস্তিত্ব, স্থায়িত্ব ও রিজিকের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানুষ! তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, সব প্রশংসার অধিকারী।’
আরও পড়ুন: বৃষ্টির নামাজে অংশগ্রহণ করলেন কাতারের আমির
(সুরা ফাতির, আয়াত : ১৫)
একমাত্র আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ
করা: কারণ প্রত্যেক সৃষ্টিরই একটি সূচনা ও সমাপ্তি রয়েছে। পক্ষান্তরে আল্লাহই প্রথম, যাঁর আগে কিছুই নেই; আর তিনিই শেষ, যাঁর পরে কিছুই নেই। অতএব, একমাত্র তিনিই চিরস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে, সবই ধ্বংসশীল। আর অবশিষ্ট থাকবেন আপনার মহিমাময় ও সম্মানিত প্রতিপালকের সত্তা।’
(সুরা আর-রহমান, আয়াত : ২৬-২৭)
আরও পড়ুন: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াতুস সুন্নাহ মহিলা উইংয়ের কার্যক্রম শুরু
প্রত্যাবর্তন ও চূড়ান্ত গন্তব্য আল্লাহর
কাছেই: মানুষের উচিত ঈমান, আনুগত্য ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কারণ আল্লাহই আল-আখির, সব সৃষ্টি শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালকের কাছেই সবকিছুর চূড়ান্ত গন্তব্য।’
(সুরা আন-নাজম, আয়াত : ৪২)
আল্লাহর চিরস্থায়িত্ব ও পূর্ণতার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করা: বান্দা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহ কখনো বিলুপ্ত হবেন না এবং ধ্বংস হবেন না। ফলে সে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হবে, দুনিয়ার অবস্থার পরিবর্তনে তার অন্তর প্রশান্ত থাকবে এবং দুনিয়ার চাকচিক্যে সে প্রতারিত হবে না। কারণ সে জানে—চিরস্থায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা স্থায়ী থাকবে।’
আরও পড়ুন: বিপথগামী যুবসমাজকে আলোর পথে ফেরাতে ইসলামি অনুশাসন জরুরি: ড. খন্দকার মারুফ
(সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৯৬)
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গোপন। আর তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’
(সুরা হাদিদ, আয়াত : ৩)
আরও পড়ুন: ৪১ দিনের নামাজ আদায় করে পুরস্কার পেলেন ১৩ শিশু কিশোর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন