০৫:৪৩ পি.এম
পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থে এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের প্রেক্ষাপটে এটি পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এজন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আজ সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ১৬৯০ ইবতেদায়ি শিক্ষকের অনুদান ছাড়ের দাবি জানাল শিক্ষক কল্যাণ কমিটি
পানি সম্পদ মন্ত্রী জানালেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নতুন কোনো ধারণা নয়। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে মোট চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়। এরপর, ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) কর্তৃক চলানো প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয়। এই সারা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়। সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশাকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাই করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনা ও মতামতের আলোকে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীরের স্থিতিশীলতা বিদ্যমান। একইসঙ্গে চর গঠনের ফলে এখানে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত অবস্থান অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, জয়েন্ট রিভার্স কমিশন (জেআরসি) থেকে পাওয়া ১৯৯৭ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চরম পরিস্থিতিতেও প্রকল্প এলাকার প্রধান নদী ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেই প্রকল্পটি জাতীয় স্বার্থে গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে দূতাবাসের ভূমিকা স্পষ্ট করুক সরকার
পানি সম্পদ মন্ত্রী আরো জানান, পদ্মার মতো একটি বৃহৎ নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এজন্য নকশা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করার জন্য দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা প্রকল্পের শুরুতেই অনুমোদিত নকশা পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং বাস্তবায়নকালে সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সকল কার্যক্রম স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগকে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন