০৬:৪০ পি.এম
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কাঠামোগত ত্রুটির কারণে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ২৯ জুন, সোমবার বিকালে ব্রিজটি ভাঙার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক এবং উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এটি জানা গেছে, রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনের স্থানে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ বানানো হয়। তবে, অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারি নকশার বিপরীতে ব্রিজের ঢালাই ৫ ইঞ্চির পরিবর্তে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি করা হয়। এর সঙ্গে, প্রতি ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৬ ইঞ্চি প্রস্থে রডের ব্যবহার নিশ্চিত করার নিয়ম থাকার পরেও ঠিকাদার মাত্র ১ ফুট পর পর রড বসান।
স্থানীয়রা যখন ঢালাইয়ের সময় এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, তখন ঠিকাদার ৫টি রড আরও এনে যোগ করেন। তবে, স্থানীয়দের উদ্যোগে কমপক্ষে ৫ বস্তা সিমেন্ট কেনা হয়েছিল কারণ ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ কম ছিল। অভিযোগ করা হয় যে, ১৩ এপ্রিল ব্রিজের উত্তর পাশে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়।
আরও পড়ুন: পুষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে বাকৃবি-নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের সমঝোতা
বাঁশ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের ঘটনাটি ১৬ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের নজরে পড়ে। তারপর থেকেই প্রশাসন জানিয়েছিল যে, ব্রিজটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া চলবে।
অবশেষে, সোমবার বিকালে ইউএনও লিখন বণিক ও উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে ব্রিজটি আংশিকভাবে ভাঙা হয়। ভাঙার সময় প্রমাণ হিসেবে ব্রিজের উত্তর পাশে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দেখা যায়। তবে, সম্পূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনায় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, "ব্রিজটি ভাঙার পর উত্তর পাশে রডের সঙ্গে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যারা এভাবে ব্রিজের ঢালাই করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: কামরুজ্জামান জুয়েলের উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন