০৩:২১ পি.এম
বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৭ অর্থবছরে ৩.৪ শতাংশ হবে, যা ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসের সমান। তবে, ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩.৯ শতাংশ হতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসটি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় ১.২ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাস ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তবে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির কারণে দেশের বহিঃখাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেছেন, "অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেছেন, "দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আরও বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।"
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা চাকরি হারিয়েছেন।
ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩.২ শতাংশ হয়েছে। রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। এর ফলে প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩.৫ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।
সংস্থাটি জানিয়েছে, উপকারভোগী নির্বাচনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রভাব বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করা এবং বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরও কার্যকর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন