ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিজ দেশের বিমানবন্দরে ইয়েমেন সরকারের হামলা, নেপথ্যে কী?


নিজ দেশের বিমানবন্দরে ইয়েমেন সরকারের হামলা, নেপথ্যে কী?

সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের সরকারি বাহিনীর হামলার পর একটি ইরানি বিমান অবতরণ করেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলের হুদায়দাহ বিমানবন্দরে।

সোমবার (১৩ জুলাই) হুতি নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে ইয়েমেনি বাহিনী বোমা হামলা চালানোর পর ইরানি বিমানটি সেখানে অবতরণ করতে না পেরে হুদায়দাহে চলে যায়। এই তথ্যটি ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, দিনের শুরুতে সানা বিমানবন্দরের রানওয়েকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে বিমানটির পথ পরিবর্তন করে হুদায়দাহে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে যে, হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের নিজস্ব বিমানগুলোকে সানায় অবতরণ করতে বাধা দিচ্ছে, কিন্তু এর বিপরীতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানি বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে আক্রমণ চালিয়েছে।

অন্যদিকে, হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে সানা বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনাটি কোনোভাবেই প্রতিশোধ এবং শাস্তি ছাড়া পার পাবে না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোসাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত, আইআরজিসির জালে বন্দি আহমেদিনেজাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ এম


মোসাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত, আইআরজিসির জালে বন্দি আহমেদিনেজাদ

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে গোপন আঁতাত এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা এই পদক্ষেপ কার্যকর করে, তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চারজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইল দীর্ঘ সময় ধরে আহমেদিনেজাদকে একটি বড় গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে দলে টানার জন্য অত্যন্ত গোপন অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। ইসরাইলের মূল পরিকল্পনা ছিল, বর্তমান ইরানি শাসনের পতন ঘটিয়ে আহমেদিনেজাদকে দেশটির পরবর্তী শীর্ষ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় বসানো।

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বুদাপেস্টের লুদোভিকা ইউনিভার্সিটির রেক্টর গেরগেলি ডেলির মাধ্যমে জলবায়ু বিষয়ক একটি সম্মেলনের অজুহাতে আহমেদিনেজাদকে হাঙ্গেরিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মূলত, এই সম্মেলনটি ছিল আহমেদিনেজাদ এবং ইসরাইলি গোয়েন্দাদের গোপন বৈঠকের একটি ছদ্মবেশ বা কভার। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তৎকালীন মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নিজে আহমেদিনেজাদের সাথে দেখা করতে বুদাপেস্টে সফর করেছিলেন। এর পরবর্তী বছরগুলোতে ইসরাইলি এজেন্টরা আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেক্রকে একাধিকবার বড় অঙ্কের গোপন অর্থ প্রদান করে এবং তাদের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় থাকে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে আহমেদিনেজাদের ব্যক্তিগত বাসভবনে একটি ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল তার দেহরক্ষী ও সাঁজোয়া গাড়ি। পরে মোসাদ এজেন্টরা তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর, সম্প্রতি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের জানাজায় তাকে শেষবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। তবে এর পরপরই আইআরজিসি পুরো নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে এবং তাকে নিজেদের জালে বন্দি করে গৃহবন্দি অবস্থায় পাঠায়।

আহমেদিনেজাদের সাবেক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদোলরেজা দাভারি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আহমেদিনেজাদ অর্থের জন্য নয়, বরং ক্ষমতার লোভেই ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনবার অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর বর্তমান ব্যবস্থার ওপর থেকে তার আস্থা উঠে যায়। তিনি মনে করতেন, বিদেশী শক্তির সহায়তায় তিনি আবার ইরানের শাসনভার গ্রহণ করতে পারবেন। পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে, তিনি অব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও তার ছিল। তবে মোসাদ ও আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ এম


হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, তার নিয়ন্ত্রণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে তুলে নেবে। তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য পথটি নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনকে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।

সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "আমরা এই প্রণালিটি আমাদের নিজেদের জিম্মায় রাখতে যাচ্ছি এবং সম্ভবত আমরাই এটি পরিচালনা করব। আমরা এই প্রণালির অভিভাবক হতে চলেছি। সম্ভবত আমরা এটিকে ‘গার্ডিয়ান অ্যান্জেল অব দ্য স্ট্রেট’ নাম দেব। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ বা অর্থ প্রদান করা উচিত।"

অপরদিকে, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি দিয়ে বিশ্ব市场ের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তেজনা চলছে। তেহরান থেকে জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা এড়াতে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিতর্কিত মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: আল-আরাবিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতপার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ এম


মতপার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, বিগত ১৭ বছরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে। তিনি এ বিষয়ে বলেছেন যে, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ঐক্য নষ্ট হলে চলবে না। যেভাবে তারা বিগত সময়ে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, সেভাবে আগামীতেও ঐক্য ধরে রাখতে হবে। বিগত নির্বাচনে দলকে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে জিতিয়ে আনা হয়েছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেরকমই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে জিতিয়ে আনতে হবে। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা গুপ্ত কেউ ঢুকতে পারবে না বা সুবিধা নিতে পারবে না। কিন্তু যদি ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি হয়, তাহলে তাদের সুযোগ তৈরী হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় তিনি এইসব কথা বলেন।

বিগত ১৭ বছরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, ‘আপনারা গত ১৭ বছরে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়ে আপনাদের সবাইকে দলের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই সময় আপনারা নিজের পরিবারের চেয়ে বেশি সময় এবং উৎসর্গ করেছেন। টেনশন ও যন্ত্রণা সকলেই পেয়েছেন, কিন্তু নিজের জন্য কি তা করেছেন? না। এভাবে দেশে সব বিএনপি নেতাকর্মী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন সেই নির্যাতনের ভয় নেই। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

এ সময় তিনি হাইব্রিড ও গুপ্তদের বিষয়ে সতর্ক করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন যে, নির্বাচনের আগে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং তারা এখনও সক্রিয়। আরেকটি গ্রুপ দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাই দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। হাইব্রিড ও গুপ্তদের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারা দলের নেতৃত্বে ঢুকতে না পারে।

নেতাকর্মীদের ত্যাগের জন্য বিএনপি সরকার গঠন করতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘আপনাদের কি চান? আপনাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকুক? তাহলে তৃণমূলে ঐক্য থাকতে হবে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে। আপনারাই বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলীয় প্রধান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কিন্তু সেটি কি আপনাদের আছে? নেই। প্রস্তুতি ছাড়া জিততে পারবেন? না। তাই সরকার চলতে পারবে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই হবে। বর্ষার পর আলোচনা করে ঠিক করা হবে। এর আগে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন কে চেয়ারম্যান, কে সদস্য হবেন এবং কে দল চালাবেন। আমরা দল নিয়ে সামনে চলতে চাই।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েকদিন পর হিন্দুদের এই বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যারা এখানে আছেন তাদের বলছি, আর যারা আসেননি, আপনারা তাদেরও বলবেন— তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেকোন মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে। কেউ যেন সেই সুযোগ না পায়।

বক্তব্যের শুরুতে বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও উন্নয়নের নামে লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে এত উন্নয়ন, উন্নয়ন বলতে শুনতাম। কিন্তু আসলে উন্নয়ন কোথায় হয়েছে? হয়েছে, তবে সেটি যারা ক্ষমতায় তারা নিজেদের পকেটে। সেসব উন্নয়ন কোনো কাজে আসছে না। সব ক্ষেত্রেই তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।’

উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে ৫৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, অথচ পদ্মা সেতুর সমমানের ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা। রূপপুর প্রকল্পেও অস্বাভাবিকভাবে খরচ বেড়ে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে দেখা গেছে, গত ১৭ বছরে প্রতি বছর ১৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।’

‘উন্নয়ন মানেই কি শুধু রাস্তা-ঘাট করা?’ এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? ঢাকা শহরে বড় বড় ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু ড্রেন ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। তাই সব জায়গায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। উন্নয়ন হবে, আমরা করব। কিন্তু উন্নয়ন মানেই কি শুধু রাস্তা-ঘাট? আমরা উপজেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছি। উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে খালেদা জিয়ার সরকার সেগুলো ৫১ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন। আমরা এগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করব। বিশেষ করে অসুস্থ হলে শিশুদের খুব কষ্ট হয়, তাই সারা দেশে এক হাজারটি শিশু হাসপাতাল তৈরি করব। উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা-ঘাট নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, খাল খনন—সবই উন্নয়ন।’

দেশের চরম সংকটকালীন সময়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর আরও কয়েকটি জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। এসব প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, সে সম্পর্কে আপনাদের খুব ভালো ধারণা আছে। ব্যাংকিং খাত দুর্বল করা হয়েছে, চিকিৎসা খাতও নাজুক। মহানগর ও জেলায় যারা আছেন, তারা কিছুটা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে আমাদের সনদের বিদেশে কোনো মূল্য নেই। শিক্ষিতরাই সবচেয়ে বেশি বেকার। অল্প শিক্ষিতরা তবুও কিছু কাজ করতে যাচ্ছে। এসব কাজ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এগুলো না হওয়ার কারণ হল জবাবদিহির অভাব। জবাবদিহি বলতে নির্দিষ্ট সময় পর পর নির্বাচন হবে, মানুষ ভোট দিয়ে তাদের শাসক নির্বাচন করবে। গত ১৭ বছরে সেই জবাবদিহির ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড দেব, দিয়েছি। কৃষক কার্ড দেব, সেটিও শুরু করেছি। যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেসব বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা ছিল বলেই কাজ শুরু করতে পেরেছি। আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি ফেব্রুয়ারিতে। তার একদিন পরই রমজান শুরু হয়। সেই রমজানে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে দিইনি। মানুষ তুলনামূলক স্বস্তিতে রমজান কাটিয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেল, সরবরাহ কমে গিয়েছে। ফলে আমাদের অতিরিক্ত আড়াই বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় করতে হয়েছে।’

উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক পরিবারে পাঁচজন বিভিন্ন কাজ করলে একজনের দায়িত্ব যদি ঘর গুছিয়ে রাখা হয়, কিন্তু সবাই মিলে ঘর নোংরা করে, তাহলে সেই একজন সবার ময়লা পরিষ্কার করতে সক্ষম হবেন না। সবাই মিলেই পরিষ্কার রাখলে ময়লাও কম হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পরিবার যেমন, দেশও তেমন। আপনারা বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তাই আপনাদের বুঝেশুনে কাজ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ এম


ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

গত জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া রেকর্ড-ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান থেকে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অর্থায়নে পরিচালিত নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’ এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া উপাত্তের অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মৃত্যুর সিংহভাগই—অর্থাৎ প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি—৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণদের মধ্যে ঘটেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে সাধারণত হিট স্ট্রোক ছাড়াও হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যার বড় শিকার হন মূলত বয়োবৃদ্ধরা।

ডেনমার্কের স্টেটেন্স সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড, ইউরোমমো-এর আয়োজক সংস্থা, রয়টার্সকে বলেন, “বছরের এই সময়ে এসে এ ধরনের এবং এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যু একেবারেই অস্বাভাবিক।” এই উচ্চ মৃত্যুহারের পেছনে তীব্র দাবদাহ ছাড়া অন্য কোনো কারণ দেওয়ার ব্যাখ্যা কঠিন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া জুনের শেষের এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা কার্যত অসম্ভব ছিল, বিজ্ঞানীদের মতে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এখন বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র রূপ নিচ্ছে।

ইউরোপের ২৭টি দেশের জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান থেকে সংগৃহীত এই উপাত্তে মূলত ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই ফ্রান্স, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে গরমের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছিল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহে কোনো বড় ধরনের কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব বা অন্য কোনো বিশেষ মহামারি ছিল না। ফলে ১০,৬৫০ জনের এই অতিরিক্ত মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ যে তীব্র তাপপ্রবাহ, তা অনেকটাই স্পষ্ট।

এর আগে টানা আট সপ্তাহজুড়ে এই দেশগুলোতে মৃত্যুর গড় হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০০ জন কম ছিল। জুনের শেষ সপ্তাহের এই তীব্র দাবদাহে ইউরোপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল স্কুল এবং ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছিল।

ইউরোমমো আলাদাভাবে প্রতিটি দেশের অতিরিক্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বেলজিয়ামের পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট ‘সায়েনসানো’-এর মতে, ২০০০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা যেকোনো তাপপ্রবাহের তুলনায় এবারই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত পৃথক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহের কারণে শুধুমাত্র ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসেই আনুমানিক ২,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউকে মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এর যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে এই মৃত্যুর প্রায় ৪২ শতাংশেরই মূল কারণ ছিল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপমাত্রা।

সূত্র: রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%