মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৪ পি.এম
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের পেশেন্ট টলি হুইল চেয়ার ব্যবহার করে রোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন ভুক্তভোগী আপু জানান, তার অসুস্থ আম্মাকে হাসপাতালের পুরান ভবনের দো'তালায় উঠানোর জন্য পেশেন্ট টলি নেওয়ার সময় সেখানে দায়িত্বে ছিলেন দুইজন।
তিনি বলেন, পেশেন্টকে দো'তালায় বহন করার জন্য বকশিস হিসেবে ৫০ টাকা দেওয়ার পর মহিলা এবং সাদা শার্ট পরিহিত ব্যক্তি ১০০ টাকার নিচে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি আরও বলেন, "এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সদর হাসপাতালে তো কেউ বিয়ের দাওয়াত খেতে আসে না, যে যেভাবে খুশি বকশিস দেওয়া হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, সদর হাসপাতালে লোকেরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসে রোগীদের নিয়ে।
এরা যখন দায়িত্বেই থাকবে,
তিনি বলেন, সৌজন্য বজায় রেখে রোগীর স্বজন যা দিবে, তাই নিতে হবে। অন্যথায় টলি ছেড়ে দিতে হবে। "এত টাকাই দিতে হবে, এটা কি বিয়ের গেইট পেয়েছে?"
তিনি জানেন না, এরা সদর হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত আয়া বা ঝাড়ুদার কিনা। যদি আয়া বা ঝাড়ুদার হয়ে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই তারা দৈনিক মাফিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা হাসপাতাল কর্তৃক পায় বা বেতনও পেতে পারে।
কিন্তু পেশেন্ট টলি বা হুইল চেয়ার নিয়ে কেন এত তালবাহানা?
তিনি প্রশ্ন করেন, তাদের হাতে পুরোটা দায়িত্ব কে দিয়েছে?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দেখার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ফের ১৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান চালিয়ে ১৬৩ জনকে আটক করা হয়।
থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে সুধারাম মডেল থানায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ২৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৭ জন, সেনবাগ থানায় ৯ জন, চরজব্বর থানায় ৭ জন, সোনাইমুড়ী থানায় ৫ জন এবং কবিরহাট থানায় ৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হাতিয়া থানায় ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার, পাঁচজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ। সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই মহাপরিকল্পনার মূল প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মতে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত তিস্তা-সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পূরণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ শুরু করেছে। মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এই উদ্যোগ অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। এর ফলে মেগা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন স্বচ্ছ ও টেকসই হবে।
সরকারের মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা।
সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ২২৪ কিলোমিটার শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণ, নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার ও কৃষি-শিল্প কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন মন্তব্য করেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা কেবল নদী রক্ষাই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর তৈরি সড়ক উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে। বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানে সরকারের এই বহুমুখী বাঁধ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ জানান, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে।
বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে এ সমীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। এরপরেই প্রকল্পের কাজে গতি এসেছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মতো প্রান্তিক জেলাগুলোর অর্থনীতি যুগ যুগ ধরে তিস্তা নদীর খেয়ালিপনার শিকার। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব এবং বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনে গৃহহীন হতো লাখো মানুষ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার উদ্ধারকৃত জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিএনপি সরকারের উদ্যোগে সূচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মত বিশেজ্ঞদের। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দেশে আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হবে। আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের পর অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পর্যায়ে লেনদেনের খরচ কমানোর জন্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট ও ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নিরাপদ, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য এটি অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই দেশের একক আন্তঃসংযোগযোগ্য কিউআর পেমেন্ট মান হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক মূল্য ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, ১ জুলাই থেকে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণমূলক সহজীকরণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করেছে। পাশাপাশি বাংলা কিউআরের কার্যকারিতা, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটির পাশাপাশি গভর্নরকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করছে।
মার্চেন্টের হিসাবে তাৎক্ষণিক টাকা:
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে।
ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এতে বাংলা কিউআর ব্যবহারে মার্চেন্টদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কমছে লেনদেনের খরচ:
আগামীকাল থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের জন্য বিনা চার্জে অথবা স্বল্প চার্জে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।
২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা:
বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আগামীকাল থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। সব মার্চেন্ট পয়েন্টে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন:
বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর চালু হবে। এর ফলে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃসংযোগযোগ্যভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
এর মাধ্যমে শুধু মার্চেন্ট পর্যায়ে পেমেন্ট নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগযোগ্য অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যর্থ লেনদেনে দ্রুত অর্থ ফেরত:
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে বাংলা কিউআর লেনদেন ব্যর্থ হলে গ্রাহকের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বা দ্রুততম সময়ে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
লেনদেন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগের ফলে দেশজুড়ে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়বে এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের পর থেকে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন নামকরণ ট্রাম্প নিজেই করেছেন।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্সের যুগের সূচনা’ শিরোনামের এই নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন যতটা অনুমতি দেয়, সরকারি কাজে ‘এআই’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
নির্দেশনার অধীনে, ফেডারেল সরকারের সব বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের সরকারি চিঠিপত্র, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং নীতিমালার নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি নথি ও যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য নতুন পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই নির্দেশনার কারণে আগের সরকারি নিয়ম, চুক্তি, অনুদান বা পুরোনো নথিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ নতুন এই পরিভাষা পূর্ববর্তী নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের কারণও নির্বাহী আদেশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। বর্তমানে এর সক্ষমতা প্রচলিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক এআই প্রযুক্তি শুধু মানুষের বুদ্ধিমত্তার কিছু কাজ অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করে না, বরং এটি মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই সরকারি কাজে ব্যবহৃত পরিভাষাতেও এই নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরা উচিত বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপাতত দেশটির আইনে থাকা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সংজ্ঞাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। এই সংজ্ঞা মার্কিন আইনের ১৫ নম্বর শিরোনামে রয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর জন্য নতুন একটি সরকারি সংজ্ঞা তৈরির প্রস্তাব কংগ্রেসে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশও করতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। এতে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিকে মানবজাতির জন্য একটি অভূতপূর্ব নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয়—সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড়। এটি ইন্টারনেটের চেয়েও অনেক বড়। এটি আমাদের দেশের জন্য এক অসাধারণ অগ্রগতি।’
বৈঠকের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি নিরাপদে উন্নয়নের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘আমরা আমেরিকার জনগণ ও আমাদের গ্রাহকদের এই নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, প্রযুক্তিটি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে।’
অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোডি বলেন, নিরাপদভাবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও বৈঠকে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে নিরাপদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জে ক্লেটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ