০৪:৪০ পি.এম
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা ও উপজেলা এলাকার বিস্তীর্ণ স্থান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং সড়কে জমে থাকা পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভা এলাকার হরিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, খাজার ডেক, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, আমতলা, মাইওয়ান, দিঘীরপাড় বটতলা, পূর্ব চান্দ্রা সহ ২০টিরও বেশি এলাকায় জলাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু স্থানে হাঁটুসমান আবার কিছু স্থানে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে, যা সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।
এটি জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভাটি কেবল নামেই প্রথম শ্রেণির। পৌরসভাটির গঠয হয়েছিল ২০০১ সালে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা গঠনের পর থেকে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর দোকানপাট, আবাসন ও শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার মতো নানা কারণে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। পৌরসভায় প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা বিদ্যমান রয়েছে। অনেক শিল্প কারখানা পানিতে ডুবে গেছে, ফলে ১০ থেকে ১৫টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিনহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ড্রেনের উপর দোকানপাট থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। অপরদিকে ৫ নং ওয়ার্ডের মাইওয়ান মোড় থেকে ওয়ালটন ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ড্রেনের ওপর দোকানপাট গড়ার ফলে টানা বর্ষণের জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এবং গার্মেন্টস শ্রমিকরা স্কুল ও কারখানায় যেতে পারছে না। নিচু জমি ভরাট করে মিলকারখানা নির্মাণের ফলে ফসলের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও খাবার পানির সংকটে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোনো অবস্থাতেই মানুষের দুর্ভোগ থামছে না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৃষ্টি হচ্ছে এবং রাস্তাঘাট এখনও জলাবদ্ধতায় রয়েছে। কিছু পানি নামলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে কালিয়াকৈর পৌরসভার ২০টির বেশি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন-খাল দখলের কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দী। ইউএনও খাল পুনঃখনন ও ড্রেন পরিষ্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
জলাবদ্ধতার কারণে সবথেকে বেশি ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিল্পকারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে যাতায়াতে। বহু পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে গেছে, ফলে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেক পরিবারে রান্না-বান্না বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন