০৫:০৩ পি.এম
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার (গর্ভপাত) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে, সুস্থ ঘোষণা করার পর হাসপাতাল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশেষ মেডিকেল বোর্ড জিসানকে পুরোপুরি সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল থেকে সরাসরি আদালতে নিয়ে গেছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, চিকিৎসক কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর জিসানকে হাসপাতাল থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
এর আগে গ্রেপ্তার জিসানের শারীরিক অবস্থার নিয়ে সুস্থতা এবং অসুস্থতার বিতর্ক এড়াতে রোববার কুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।
কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিসানের বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তার অসুস্থতার কোনো প্রমাণ না মেলায় এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ প্রমাণিত হওয়ায়, মঙ্গলবার তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ (ছাড়পত্র) দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারীর সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে জিসান মিয়ার পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের এক স্তরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে, জিসান তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে, গত ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার আগের দিন, ১১ জুন রাতেই জিসান এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে, পুলিশ জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসান মিয়াকে প্রধান আসামি এবং ধর্ষণের সহায়তা করার অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর, জিসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
অভিযুক্ত জিসান মিয়া দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। এই ঘটনার পর বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের দায়ে জিসানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আ. বারী জানিয়েছেন, এই মামলায় জিসান মিয়া ছাড়াও অপর তিন সহযোগী আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীবকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই নারীকে জিসানের ধর্ষণে সহায়তা এবং ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন