সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৭ পি.এম
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারের এই উদ্যোগ মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত আইন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অমিত শাহ মন্তব্য করেন যে, কিছু রাজ্যে ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যে এই আইন কার্যকর হবে।
ভারতে ফৌজদারি আইন সকলের জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব আইন ও রীতিনীতির আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব ব্যক্তিগত আইনকে এক আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে বিজেপি সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ভারতের অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হয়েছে। তবে এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তাদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন পালনের অধিকারকে সীমিত করতে পারে।
অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকরা দাবি করছেন, এই আইন বহুবিবাহের সুযোগ বন্ধ করবে, নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পত্তির অধিকারে সমতা নিশ্চিত করবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে, ভারতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম বাস করছেন। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। তাই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সখীপুর থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে, যাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার অভিযোগে মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘নিয়মিত অভিযানে বৈষম্যবিরোধী মামলার অজ্ঞাতপরিচয় নামের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর এখলাস হায়দার সরোয়ার, পৌর আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মজনু এবং যুবলীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক।
রবিবার রাতে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে রবিবার বিকেলে সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাড়িয়াপুর এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলের ভিডিও সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাতের অভিযানে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। পর্দায় নিজেকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি ‘বাল্কি’ মনে হচ্ছিল তাঁর। তাই তিনি ওজন কমানোর মিশন শুরু করেন।
নিয়মিত ব্যায়াম ও কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে দুই মাসের মধ্যে ছয় কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে তিনি এখানেই থামতে চান না এবং লক্ষ্য আরো চার কেজি কমানো।
একসময় দীঘি নিজেকে ‘ভেতো বাঙালি’ বলে পরিচয় দিতেন। ভাত ছাড়া যেন চলতেই পারতেন না। কিন্তু বর্তমানে তাঁর খাদ্য তালিকা থেকে প্রায় ভাত বাদ পড়ে গেছে। সপ্তাহে মাত্র এক দিন ভাত খান তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও করছেন।
নিজের ওজন কমানোর বিষয়ে দীঘি বলেন, ‘গত দুই মাসে ছয় কেজি ওজন কমিয়েছি। ইচ্ছা আছে আরো চার কেজি কমানোর। জীবন থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়েছি। আমি ছিলাম একেবারে ভেতো বাঙালি। কিন্তু দুই মাস ধরে ভাত জীবন থেকে নাই হয়ে গেছে বলতে পারেন। এখন সপ্তাহে একটা দিন ভাত খাই।’
ভাতের পরিবর্তে বর্তমানে তাঁর খাদ্যতালিকায় সিদ্ধ ডিম, সিদ্ধ সবজি ও তেলছাড়া রান্না করা চিকেন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দীঘির কথায়, ‘আমার জীবনটা এখন তেলছাড়া, সবজিময়। সিদ্ধ ডিম খাই, সিদ্ধ ভেজিটেবল খাই। ওভেনে রান্না করা তেলছাড়া সিদ্ধ চিকেন খাই।’
দীঘির ওজন কমানোর মিশন দুই মাস ধরে চলমান। আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই রুটিন বজায় রাখতে চান তিনি। তবে তাঁর পূর্ববর্তী ওজন কিংবা ছয় কেজি কমানোর পর বর্তমান ওজন জানাতে চান না।
দীঘি বলেন, ‘ফ্যাট ছাড়া যা আছে, সব খাচ্ছি। মাঝে আমি ভালো ওয়েট গেইন করেছিলাম। কত ছিল, তা বলতে চাই না। ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে স্ক্রিনে আমাকে এখনকার চেয়ে আরেকটু বাল্কি লাগত। তাই নিজের কাছে অন্য রকম লাগছিল।’
তবে শুধু নিজের ভালো লাগার জন্য নয়, কাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও নিজেকে ফিট করছেন দীঘি। সামনে নতুন একটি কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কাজের জন্য আরো ঝরঝরে ও ফিট লুকে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তিনি।
দীঘির বিশ্বাস, ফিট থাকলে পর্দায় নিজেকেও ভালো লাগে। আর পর্দায় নিজেকে ভালো লাগলে কাজের প্রস্তাবও বাড়ে।
এদিকে সম্প্রতি নতুন লুকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছেন দীঘি। ছবি দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বেড়াতে গেছেন অভিনেত্রী।
তবে জানা গেছে, তিনি অবকাশযাপনের জন্য নয়, শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পরিচিতি পাওয়া দীঘি পরবর্তী সময়ে নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত তাঁর অভিনীত ‘বিদায়’ এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এ ছাড়া সুমন ধর পরিচালিত একটি ওয়েব ফিল্মের শুটিংও শেষ করেছেন তিনি। এতে দীঘির বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বিমানের ভেতর পোশাক খুলে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে এক নারী যাত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনা আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঘটে। বিমানটি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুলিশ ওই নারীকে আটক করে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর বিমানবন্দর থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করা বিমানটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় ৯ নম্বর সারির এক নারী যাত্রীর আচরণ নিয়ে ককপিটে খবর দেন কেবিন ক্রুরা।
এয়ারলাইভের তথ্য অনুযায়ী, ৯-ডি আসনে বসা ওই যাত্রী তার পোশাক খুলে ফেলেন এবং সহযাত্রীদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিমানের প্রধান অ্যাটেনডেন্ট বিষয়টি এয়ারলাইন্সের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
এছাড়া, বিমান অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্লাইটটি মাঝপথে জরুরি অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিমানটি গেটে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে অভিযুক্ত নারী যাত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে ফ্লাইট চলাকালে কেবিন ক্রুরা ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। হঠাৎ করে ভিসা বাতিল হওয়ার কারণে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য দেশটির সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা বর্তমানে ৪ হাজার ৮০০-তে পৌঁছেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক থেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে এবং বিষয়টি এভাবে হওয়া উচিত নয়। যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, জুলাই মাস থেকে অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা যাচ্ছে। অনেকেই ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পেয়ে আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই জানান, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত অভিযোগ নেই। তারা আমিরাতে ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। অথচ হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ার কারণে দেশে এসে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে তাদের ব্যবসা ও জীবিকা—সবকিছু হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনায় দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা জরুরি।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, এ পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
তবে যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে, তাদের দূতাবাসের নির্ধারিত ইমেইলে তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ