০৬:০৬ পি.এম
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: “Standing with teachers: 60 years of protecting the profession, advancing its status and shaping our futures” (বাংলা অর্থ: “শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ রূপদান)। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ অডিটারিয়ামে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুনমুন সুলতানা।
পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস. এম তিতুমীরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পাকড়ী দিঘিরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইম আকতার খান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গোদাগাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী, উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মোহাম্মদ আবদুর রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ মাহাবুবুর রহমান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সভপতি এম.এন রিদওয়ান ফিরদৌস, হরিন বিকসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম, মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক নইরিদ্দিন বাবু, শাহ সুলতান (রহ) কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের অধ্যাপক মাও. মোঃ দুরুল হোদা প্রমূখ।
আরও পড়ুন: ইশরাকের মাদকবিরোধী অবস্থান সমর্থন করে সাংবাদিকদের সমালোচনা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, ১৯৪৮ সালে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে শিক্ষার অগ্রগতি, মানবজাতির ক্রমোন্নতি এবং আধুনিক সমাজের বিকাশ সাধনে শিক্ষক সমাজের অপরিহার্য ভূমিকা ও অবদানের কথা জোরের সাথে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকগণ যাতে এসব ভূমিকা পালনের জন্য উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা ভোগ করতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়েছে।
১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর উদ্যোগে শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বিশেষ আন্তঃসরকার সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের অধিকার, কর্তব্য ও মর্যাদা বিষয়ক আন্তর্জাতিক দলিল ‘ইউনেস্কো/আইএলও সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। ওই দিবসটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আপনাদের যদি মর্যদা না দেয়া হয়, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। এটি আংশিক সত্য।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের বাড়ীভাড়া বৃদ্ধি, ৫ ভাগ বৃদ্ধি, করেছেন। সকল প্রায়মারী স্কুল সরকারী করণ করেছেন। জাতীয় বেতন স্কেলের ব্যাপারে কাজ করছেন সরকার।” তিনি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যানের টাকা বছরের পর পর পাচ্ছেন না, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীর প্রতি অনুশাসন থাকতে হবে। শিক্ষক হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমার যেমন রাজনৈতিক নেই, আপনার থাকবে কেন?” প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন অফিসে আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কিন্তু সহকারী শিক্ষক, অধ্যাপক কেন উপজেলা, জেলায় আসবেন? তার ক্লাস কে করবে?” তিনি শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্র নষ্ট হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “স্কুল টাইমে কোন কোচিং, প্রাইভেট পড়া করা যাবে না।”
শিক্ষক কর্মচারী ও অফিসারদের একটি র্যালি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে গোদাগাড়ী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা পরিষদে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভায় যোগ দেন। উপজেলার শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী ও সুধিজন এতে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কক্সবাজারে এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন