ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজশাহীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল ভিলেজ’


রাজশাহীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল ভিলেজ’

রাজশাহী, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ও আদর্শ রক্ষা এবং বছরের পর বছর সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে ‘নজরুল ভিলেজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৮ জুলাই রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিপরীতের উন্মুক্ত স্থানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এই পরিবেশবান্ধব ও ব্যতিক্রমী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘নজরুল ভিলেজে’ একটি উন্মুক্ত ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ভারী বা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না, যাতে এটি একটি সম্পূর্ণ খোলামেলা ও সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: কালাইয়ে ‘ইত্যাদি’ শুটিংয়ে দুই শতাধিক দর্শকের মোবাইল চুরি

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই মঞ্চে বছরজুড়ে নজরুলের সাহিত্য, নাটক, পালাগান ও নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, যা নজরুল গবেষক ও নজরুল প্রেমীদের জন্য একটি স্থায়ী চর্চাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ গঠনে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শিল্পী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রাঙ্গণটি ছায়াঘেরা ও নির্মল রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বছরজুড়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে সারা বছর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।

আরও পড়ুন: সাপাহারে ১০ জন হাফেজকে সংবর্ধনা

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, ‘রাজশাহীর মাটিতে জাতীয় কবির স্মৃতি ও বিপ্লবী চেতনার বিস্তার ঘটাতে এই ‘নজরুল ভিলেজ’ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। আমাদের নতুন প্রজন্মকে নজরুল সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক ও দ্রোহের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এই উন্মুক্ত কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে এই উদ্যোগকে ঘিরে বিপুল উদ্দীপনা দেখা গেছে।

স্থানীয় তরুণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, চার দেয়ালের আবদ্ধতা এড়িয়ে উন্মুক্ত স্থানে এমন একটি মঞ্চ তৈরি করায় এখানে যেকোনো সময় কবিতা পাঠ, চর্চা বা নাটকের মহড়া চালানো সম্ভব হবে, যা সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও তরুণ সমাজকে যুক্ত রাখতে কার্যকর অবদান রাখবে।

সুমাইয়া নামের এক নারী বলেছেন, ‘আমাদের এই এলাকায় একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চের ভীষণ অভাব ছিল। বিশেষ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের এই মনোরম পরিবেশে যখন ‘নজরুল ভিলেজ’ ও ‘নজরুল মঞ্চ’ পুরোপুরি চালু হবে, তখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি জায়গা পাবে। এটি আমাদের এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়।’

আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী জাহিন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তাঁকে শুধু বইয়ের পাতায় বা বিশেষ দিবসে স্মরণ না করে, বছরব্যাপী চর্চা করার জন্য এমন একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ দরকার ছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো চার দেয়ালের বন্দী দালান না করে এটি উন্মুক্ত রাখায় আমরা যেকোনো সময় এখানে এসে কবিতা পাঠ বা নাটকের মহড়া করতে পারব, যা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের দাবি ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের দাবি ধ্বংস

রিয়াদের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

রোববার রিয়াদে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর এই তথ্য প্রকাশ করে জোটটি। এরপর রিয়াদ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে আরো দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের খবরও জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কিছু সময় আগে রিয়াদ অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।

হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নতুন সংঘাতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথিরা। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি আরব দেশ সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে।

নতুন সংঘাতটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে ওই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

জুলাইয়ে শত্রুতা নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

সর্বশেষ এ ঘটনার এক দিন আগে হুথি পরিচালিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করে, সৌদি বিমান হামলায় রাজধানী সানার কাছে অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় গণবিয়ের জন্য ১১৬২২ আবেদনকারী, ৫০০ বর-কনে বাছাই যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


গাজায় গণবিয়ের জন্য ১১৬২২ আবেদনকারী, ৫০০ বর-কনে বাছাই যেভাবে

ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দারা যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবেলা করে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন সময় পার করছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে কিছুটা আনন্দ ও স্বস্তির উপলক্ষ হয়ে এসেছে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ৫০০ বর-কনে এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন হাজারো স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা।

গাজা সিটির ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত মেরিন ক্লাব প্রাঙ্গণে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন গ্যালান্ট নাইট-৩’ বা ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’-এর আওতায় ‘থৌব আল ফারাহ-৩’ (আনন্দের পোশাক) উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেরা সাদা বিয়ের পোশাক পরে এবং হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। বরদের মধ্যে অনেকেই কালো বা গাঢ় রঙের স্যুটের সঙ্গে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক কেফিয়াহ পরেছিলেন। সাজানো গাড়িতে করে নবদম্পতিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সংগীত ও নানা আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই গণবিয়েতে অংশ নিতে ১১ হাজার ৬২২ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৩৩৫ জনকে চূড়ান্ত লটারির জন্য নির্বাচিত করা হয়। সেখান থেকে ২৫০ জন বরকে বেছে নেওয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে ২৫০ কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

যুদ্ধের কারণে অনেক তরুণ-তরুণীর বিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। বাস্তুচ্যুতি, বাড়িঘর হারানো এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে গণবিয়ের আয়োজন নবদম্পতিদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বর তাদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। তাদের একজন সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরাইলি হামলায় তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে তাঁবুতে বসবাস করছেন।

আরেক বর মুহাম্মদ কুওয়াইদির জানান, বাড়ি হারানোর পর নতুন করে বাড়ি ভাড়া নেওয়া কিংবা কেনার সামর্থ্য তার নেই। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তাঁবুতেই থাকবেন।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিয়ের আনন্দকে জীবনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ইউএইর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, "বিশ্বের মনোযোগ অন্য সংকটের দিকে সরে গেলেও গাজা ও সেখানকার মানুষ ইউএইর মানবিক সহায়তার অগ্রাধিকারেই থাকবে।" তার মতে, মানবিক সহায়তা শুধু মানুষের দুর্ভোগ কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ফিরিয়ে দেওয়াও এর অংশ।

উল্লেখ্য, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’ শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর আওতায় খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী, আশ্রয় উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউএইর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গাজায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার টনের বেশি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে।

এটি উদ্যোগটির আওতায় তৃতীয় গণবিয়ের আয়োজন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪ যুগল এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেইর আল-বালাহতে ৩০০ যুগলের গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, দ্য ন্যাশনাল, রোয়া নিউজ ও গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বার্নি স্যান্ডার্স, মামদানি ও আল-সাইয়েদ সোচ্চার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বার্নি স্যান্ডার্স, মামদানি ও আল-সাইয়েদ সোচ্চার

পরিচয়, বিশ্বাস অথবা রাজনৈতিক চাপ—কোনো কিছুই ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের বাধা দিতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলছেন বার্নি স্যান্ডার্স, জোহরান মামদানি ও আবদুল আল-সাইয়েদ।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ একক কোনো মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি রয়েছে, তেমনি কিছু রাজনীতিক রয়েছেন যারা নিজেদের অবস্থান থেকে যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনজন হলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগান থেকে নির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ।

তিনজনের জন্ম, বেড়ে ওঠা, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক পথ আলাদা হলেও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির পরিবর্তনের দাবিতে তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মিল রয়েছে। পরিচয় নিয়ে সংকোচ না করে এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তারা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন।

বার্নি স্যান্ডার্স: ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে তিনি সোচ্চার। ৮৪ বছর বয়সী বার্নি স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে সিনেটে ককাস করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র রাজনীতিক।

গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘকাল ধরে কথা বলে আসছেন। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞে নিজেদের সম্পৃক্ততা শেষ করা।

স্যান্ডার্স শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি ইসরাইলে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধে সিনেটে একাধিকবার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ তিনি প্রায় ৬৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের মার্কিন বোমা ইসরাইলের কাছে বিক্রি ঠেকাতে তিনটি প্রস্তাব জমা দেন।

গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

জোহরান মামদানি: পরিচয় আড়াল না করে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে

উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচয় ও ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০২৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র।

রাজনীতিতে তার উত্থানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্য অবস্থান। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের প্রচারেও ইসরাইলি সামরিক অভিযান, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির সমালোচনা করেছেন।

মামদানি ইসরাইলকে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে বিডিএস আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি আদায়ে অহিংস আন্দোলন হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ বৈধ।

২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে দেওয়া বিবৃতিতেও তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেন। হামাসের হাতে নিহত ইসরাইলিদের স্মরণ করেন এবং হামাসের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলি অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে একে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তাকেও তিনি এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেন।

তবে তার অবস্থান নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। ইহুদি সংগঠনগুলোর কয়েকটি তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে দেওয়া বিবৃতিতে ইহুদিদের অভিজ্ঞতা ও শোক যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেছে অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল)। অন্যদিকে ফিলিস্তিনপন্থি কিছু কর্মীও দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আবদুল আল-সাইয়েদ: মুসলিম পরিচয় নিয়ে রাজনীতির চাপের মুখেও অটল

মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে রয়েছেন।

তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ৪২ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার শপথের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটরের অভিষেক ঘটবে।

মিশিগানে মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠা আল-সাইয়েদ ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে ডকটরেট এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করা, নির্বাচনে বড় অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরাইলের নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলেছিলেন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়েও তিনি ছিলেন সরব। ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা ও বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

তার নির্বাচনী প্রচারে ইসরাইলপন্থি লবিগোষ্ঠীর ব্যয় ও প্রভাবও বড় বিতর্ক হয়ে ওঠে। রিপাবলিকান প্রার্থীর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিনেটর টেড ক্রুজও তাকে আক্রমণ করেন। তার মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুরা যেন নিজেদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে বেড়ে উঠতে পারে এবং মার্কিন করের অর্থে তাদের হত্যা করা না হয়—এ কথা বলা ঘৃণা নয়। এটি ভালোবাসার প্রকাশ। তার এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতির জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

একই দেশের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান

এই তিনজনের রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মক্ষেত্র এক নয়। স্যান্ডার্স দীর্ঘদিনের সিনেটর, মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র আর আল-সাইয়েদ নতুন নির্বাচিত সিনেটর। তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কৌশলেও পার্থক্য রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার, গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং মার্কিন অস্ত্র সহায়তার ভূমিকা নিয়ে তাদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ককে সামনে এনেছে।

এখানেই আমেরিকান সমাজের বহুমাত্রিক চরিত্রটি স্পষ্ট হয়। একই দেশে ট্রাম্পের মতো রাজনীতিক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন স্যান্ডার্স, মামদানি ও আল-সাইয়েদের মতো ভিন্ন অবস্থানের মানুষ। সেখানে ক্ষমতাসীনদের নীতির সমালোচনা করার, নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রকাশের এবং মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সমাজের শক্তি শুধু ক্ষমতাসীনদের অবস্থানে নয়; বরং ভিন্নমত প্রকাশ, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ক্ষমতার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার সুযোগের মধ্যেও নিহিত। এই তিন রাজনীতিকের কর্মকাণ্ড সেই বাস্তবতারই একটি দৃষ্টান্ত।

সূত্র: বার্নি স্যান্ডার্সের সরকারি বিবৃতি, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের সরকারি ওয়েবসাইট, সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস ডেট্রয়েট ও আল-মনিটর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে।

গত শুক্রবার স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার আওতায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুই বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করবে।

ইতোমধ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ও স্নাতক পর্যায়ের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল ফান্ডেড) বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানাচ্ছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা লাভের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলো।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, কারিকুলাম ও সিলেবাস সংস্কার, অকুপেশনাল সায়েন্স, ক্লিনিক্যাল ল্যাব সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি), বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সাইবার সিকিউরিটি, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োগসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় বিষয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%