ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

গোমস্তাপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত


গোমস্তাপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

"করবো সমবায়, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় রহনপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন— উপজেলা সমবায় অফিসার মতিউর রহমান, রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমদ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য তরিকুল ইসলাম বকুল, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আসাদুল্লাহ আহমেদ, আম আড়তদার সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দীন এবং স্বাস্থ্য সমবায় সমিতির সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রমুখ।

আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী চিকিৎসক নাবিলা নুসরাত নিহত

বক্তারা দেশের অর্থনীতিতে সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমবায় ভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে মূল্যবৃদ্ধির চাপ: মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও পণ্যের দাম বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


জাপানে মূল্যবৃদ্ধির চাপ: মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও পণ্যের দাম বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : জাপানের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো, যা ‘সাশ্রয়ী মূল্যের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত, গত মাসে তাদের সাধারণ মোজার দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত আগের অবস্থানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

এটি জানানো হয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।

ইতালীয় ধাঁচের পারিবারিক রেস্তোরাঁ চেইন সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় খাবার ‘মিলানিজ ডোরিয়া’র দাম ২০ ইয়েন (প্রায় ১৩ সেন্ট) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় ক্ষমা চাওয়ার সুরে বিবৃতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির জন্য নিজেদের যথেষ্ট চেষ্টা না করার বিষয়টিও স্বীকার করে।

বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পোশাক ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অস্বস্তি থেকে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা চাপের মধ্যে রয়েছে। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের অভিজ্ঞতায় দেশটির ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।

গত মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ব্যাংক অব জাপান) ঘোষণা দেয়, দেশটির মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। এর আগে টানা ১৩ বছর দেশটিতে অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ২০১৩ সালে ঘোষিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে চলতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যহ্রাসের প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা।

তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট তৈরি হওয়ার পর জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। জাপান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, কারণ দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত।

পরবর্তী সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যায়। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

- ক্রেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ-

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম বাড়াতে পারলেও জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। দেশটিতে পণ্যের দাম বাড়ানোকে অনেক ক্রেতা এখনো নেতিবাচকভাবে দেখছেন।

ক্রেতাদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কায় বড় ও ছোট—সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়াতে দ্বিধায় রয়েছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা অনেকাংশে দীর্ঘদিনের নিয়মিত ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল।

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওকায়ামা এলাকার ৬৮ বছর বয়সী রামেন দোকানের মালিক সাচি উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও এখনো খাবারের দাম বাড়াননি।

সম্প্রতি টোকিও সফরকালে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে যদি ২০০ ইয়েন দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিই, তাহলে বছরের পর বছর ধরে যাঁরা আমার দোকানকে সমর্থন দিয়ে আসছেন, তাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। তাদের কাছে দুঃখিতও মনে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাই আমার চিন্তা হলো, আমি নিজেই কষ্ট করে পরিস্থিতি সামলে নেব। আমার ধারণা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীই এভাবে চিন্তা করেন।’

স্থানীয় গণমাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই ইউনিক্লো মোজার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

অন্যদিকে, সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় ডোরিয়াসহ মেন্যুর প্রায় সব খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন একটি বিবৃতি দেয়, যাকে অনেকেই নিজেদের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখেছেন।

এমনকি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যতে দাম আবার কমানোর সম্ভাব্য সব উপায় খুঁজে দেখার অঙ্গীকার করেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিস্মিত করে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। এর মধ্যে প্রতি গ্লাস মাত্র ১০০ ইয়েনের ওয়াইনও রয়েছে। এ বিষয়ে সাইজেরিয়ার জনসংযোগ বিভাগ এএফপিকে জানায়, ‘আমরা চাই মানুষ যেন সহজেই এটি উপভোগ করতে পারেন।’

‘অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে’

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য পণ্য কেনা কিংবা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য আগের তুলনায় কম অর্থ থাকছে। অন্যদিকে, এসব খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও শ্রমিকের মজুরি ও কাঁচামালের বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছে।

যদিও দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে প্রকৃত মজুরি টানা আট মাস ধরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

টোকিওর এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কাজুহিকো সাতো বলেন, ‘খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাই এখন আমাকে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। কারণ, দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম আরও বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে বাইরে খাওয়াদাওয়াও কমিয়ে দিয়েছি।’

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। দেশটিতে ঋণের সুদের হার ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুতোমু ওয়াতানাবে বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া এ সুবিধা সবাই পাচ্ছেন না।’

তিনি এএফপিকে বলেন, জি-৭-এর অন্যান্য দেশেও মূল্যস্ফীতির হার জাপানের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি। তবে সেসব দেশে মজুরি তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট বেড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয় করার প্রবণতা তেমন দুর্বল হয়নি।

অর্থনীতিবিদের মতে, জাপানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর মূল পার্থক্য এখানেই। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশটির অর্থনীতি।

তিনি বলেন, জাপানে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখনো ক্রেতাদের মনোভাবই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।

ওয়াতানাবে মনে করেন, মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতিকে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে জাপানের ক্রেতাদের মানসিকতা পরিবর্তনে আরও তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, ‘টানা ৩০ বছর মূল্যহ্রাসের পরিস্থিতিতে থাকার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল ভিলেজ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


রাজশাহীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল ভিলেজ’

রাজশাহী, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ও আদর্শ রক্ষা এবং বছরের পর বছর সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে ‘নজরুল ভিলেজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৮ জুলাই রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিপরীতের উন্মুক্ত স্থানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এই পরিবেশবান্ধব ও ব্যতিক্রমী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘নজরুল ভিলেজে’ একটি উন্মুক্ত ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ভারী বা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না, যাতে এটি একটি সম্পূর্ণ খোলামেলা ও সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই মঞ্চে বছরজুড়ে নজরুলের সাহিত্য, নাটক, পালাগান ও নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, যা নজরুল গবেষক ও নজরুল প্রেমীদের জন্য একটি স্থায়ী চর্চাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ গঠনে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শিল্পী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রাঙ্গণটি ছায়াঘেরা ও নির্মল রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বছরজুড়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে সারা বছর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, ‘রাজশাহীর মাটিতে জাতীয় কবির স্মৃতি ও বিপ্লবী চেতনার বিস্তার ঘটাতে এই ‘নজরুল ভিলেজ’ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। আমাদের নতুন প্রজন্মকে নজরুল সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক ও দ্রোহের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এই উন্মুক্ত কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে এই উদ্যোগকে ঘিরে বিপুল উদ্দীপনা দেখা গেছে।

স্থানীয় তরুণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, চার দেয়ালের আবদ্ধতা এড়িয়ে উন্মুক্ত স্থানে এমন একটি মঞ্চ তৈরি করায় এখানে যেকোনো সময় কবিতা পাঠ, চর্চা বা নাটকের মহড়া চালানো সম্ভব হবে, যা সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও তরুণ সমাজকে যুক্ত রাখতে কার্যকর অবদান রাখবে।

সুমাইয়া নামের এক নারী বলেছেন, ‘আমাদের এই এলাকায় একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চের ভীষণ অভাব ছিল। বিশেষ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের এই মনোরম পরিবেশে যখন ‘নজরুল ভিলেজ’ ও ‘নজরুল মঞ্চ’ পুরোপুরি চালু হবে, তখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি জায়গা পাবে। এটি আমাদের এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়।’

শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী জাহিন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তাঁকে শুধু বইয়ের পাতায় বা বিশেষ দিবসে স্মরণ না করে, বছরব্যাপী চর্চা করার জন্য এমন একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ দরকার ছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো চার দেয়ালের বন্দী দালান না করে এটি উন্মুক্ত রাখায় আমরা যেকোনো সময় এখানে এসে কবিতা পাঠ বা নাটকের মহড়া করতে পারব, যা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের দাবি ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের দাবি ধ্বংস

রিয়াদের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

রোববার রিয়াদে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর এই তথ্য প্রকাশ করে জোটটি। এরপর রিয়াদ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে আরো দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের খবরও জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কিছু সময় আগে রিয়াদ অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।

হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নতুন সংঘাতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথিরা। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি আরব দেশ সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে।

নতুন সংঘাতটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে ওই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

জুলাইয়ে শত্রুতা নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

সর্বশেষ এ ঘটনার এক দিন আগে হুথি পরিচালিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করে, সৌদি বিমান হামলায় রাজধানী সানার কাছে অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় গণবিয়ের জন্য ১১৬২২ আবেদনকারী, ৫০০ বর-কনে বাছাই যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


গাজায় গণবিয়ের জন্য ১১৬২২ আবেদনকারী, ৫০০ বর-কনে বাছাই যেভাবে

ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দারা যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবেলা করে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন সময় পার করছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে কিছুটা আনন্দ ও স্বস্তির উপলক্ষ হয়ে এসেছে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ৫০০ বর-কনে এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন হাজারো স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা।

গাজা সিটির ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত মেরিন ক্লাব প্রাঙ্গণে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন গ্যালান্ট নাইট-৩’ বা ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’-এর আওতায় ‘থৌব আল ফারাহ-৩’ (আনন্দের পোশাক) উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেরা সাদা বিয়ের পোশাক পরে এবং হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। বরদের মধ্যে অনেকেই কালো বা গাঢ় রঙের স্যুটের সঙ্গে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক কেফিয়াহ পরেছিলেন। সাজানো গাড়িতে করে নবদম্পতিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সংগীত ও নানা আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই গণবিয়েতে অংশ নিতে ১১ হাজার ৬২২ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৩৩৫ জনকে চূড়ান্ত লটারির জন্য নির্বাচিত করা হয়। সেখান থেকে ২৫০ জন বরকে বেছে নেওয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে ২৫০ কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

যুদ্ধের কারণে অনেক তরুণ-তরুণীর বিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। বাস্তুচ্যুতি, বাড়িঘর হারানো এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে গণবিয়ের আয়োজন নবদম্পতিদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বর তাদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। তাদের একজন সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরাইলি হামলায় তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে তাঁবুতে বসবাস করছেন।

আরেক বর মুহাম্মদ কুওয়াইদির জানান, বাড়ি হারানোর পর নতুন করে বাড়ি ভাড়া নেওয়া কিংবা কেনার সামর্থ্য তার নেই। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তাঁবুতেই থাকবেন।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিয়ের আনন্দকে জীবনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ইউএইর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, "বিশ্বের মনোযোগ অন্য সংকটের দিকে সরে গেলেও গাজা ও সেখানকার মানুষ ইউএইর মানবিক সহায়তার অগ্রাধিকারেই থাকবে।" তার মতে, মানবিক সহায়তা শুধু মানুষের দুর্ভোগ কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ফিরিয়ে দেওয়াও এর অংশ।

উল্লেখ্য, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’ শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর আওতায় খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী, আশ্রয় উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউএইর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গাজায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার টনের বেশি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে।

এটি উদ্যোগটির আওতায় তৃতীয় গণবিয়ের আয়োজন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪ যুগল এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেইর আল-বালাহতে ৩০০ যুগলের গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, দ্য ন্যাশনাল, রোয়া নিউজ ও গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%