০৯:২৯ এম
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, চান্দরা মোড়, প্রতিদিন হাজার হাজার দূরপথের যানবাহন এবং লাখো পথচারীর চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ, চান্দরা ফ্লাইওভারের নিচে অবৈধ কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে। বিশাল কংক্রিটের গার্ডার এবং বিমের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে প্লাস্টিকের ক্যারেট, কাঠের খাঁচা ও দড়ি। স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক বিভাগের নীরবতায় সরকারি স্থাপনার ঝুঁকি বাড়িয়ে ফেলেছে, যা সাধারণ যাত্রী, পথচারী এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সরেজমিনে চান্দরা ফ্লাইওভার এলাকা পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, উপরে বিকট শব্দে ভারী যানবাহন চলাচল করছে এবং ঠিক তার নিচেই বিমের সংযোগস্থলে ও গার্ডারের ফাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য প্লাস্টিকের ক্যারেট ও খাঁচা। খাঁচাগুলোর ভেতর কবুতর বসে থাকতে দেখা যায়। এই স্থানটি কার্যত কবুতরের কারখানায় পরিণত হয়েছে। দড়ি ও তার দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঝুলিয়ে রাখা এসব খাঁচা যেকোনো মুহূর্তে নিচে চলাচলরত মানুষ বা যানবাহনের ওপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
ফ্লাইওভারের নিচে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে প্রতিনিয়ত অসংখ্য যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করেন। ক্যারেট ও খাঁচা ঝুলিয়ে রাখার কারণে প্রতিনিয়ত বাতাসের ধাক্কায় বা গাড়ি চলাচলের কম্পনে তা নিচে পড়ে মারাত্মক জখম হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কবুতরের বিষ্ঠা পড়ে পুরো এলাকা নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি হলে এই বর্জ্য ধুয়ে নিচে চলাচলকারী মানুষের গায়ে পড়ে এবং সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের ফলে সৃষ্ট কম্পনে খাঁচা খুলে নিচে পড়ে যেকোনো সময় মানুষের মাথা ফেটে যাওয়া বা বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাঁচা বাঁধতে গিয়ে গার্ডার বা বিমে লোহার তার ও পেরেক ব্যবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদে কংক্রিট ও রডের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কবুতরের বিষ্ঠা অত্যন্ত অ্যাসিডিক, যাতে প্রোটিন ও ইউরিক অ্যাসিড থাকে, যা কংক্রিটের ওপর দীর্ঘদিন জমে থাকলে পৃষ্ঠের ক্ষয় ঘটায় এবং রডে মরচে ধরার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। পাশাপাশি ফ্লাইওভারের ভারী গাড়ি চলাচলের অনবরত কম্পনে ঝুলন্ত বস্তুগুলোর বাঁধন আলগা হয়ে নিচে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দিনের পর দিন দখল করে বিপজ্জনক উপায়ে কবুতর পালন করা হলেও তা নজর এড়িয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের। কার ক্ষমতায় বা কার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই অনৈতিক কাজ চালানো হচ্ছে এবং ফ্লাইওভারের তদারকির দায়িত্বে থাকা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কেন ব্যবস্থা নেননি—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কালিয়াকৈরের সচেতন নাগরিক সমাজ এটিকে জননিরাপত্তার ওপর প্রত্যক্ষ হুমকি হিসেবে দেখছেন। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এসব অবৈধ খাঁচা অপসারণ, স্থায়ী তদারকি জোরদার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন