ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর


গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর

কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর, মালিক ও শ্রমিকের সম্মতির ঘোষণায় মজুরি বোর্ড কর্তৃক বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে শ্রমিকরা কাজে ফিরে এসেছেন। শ্রমিকদের খুশি মনে কাজে ফিরে যাওয়ার ফলে কলকারখানার চাকা আবার ঘুরতে শুরু করেছে, এবং উৎপাদন পুরোদমে চলছে। ফলে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকালবেলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন।

এদিন সকাল থেকেই গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, যেমন কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলা বাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাসে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে ফিরে এসে কাজে যোগ দিয়েছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি মাস থেকে তা পাবেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি। শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানিয়েছেন, আজও শিল্প কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন, এসআরবি ৮ প্লাটুন ও ৫ প্লাটুন আনসার মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গাজীপুর জেলা পুলিশের সদস্যরাও মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করবে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের সাবেক জলদস্যুদের অপরাধীর তকমা পিছু ছাড়ছে না, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোশাকশিল্পকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখতে হবে: বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


পোশাকশিল্পকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখতে হবে: বিশেষজ্ঞরা

উদ্যোক্তারা কারখানা নির্মাণ করেন, কিন্তু রাজনৈতিক ঐক্য, নীতির ধারাবাহিকতা এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য একটি দেশকে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে। অর্থনীতির উন্নত দেশগুলোতে দলীয় রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটে কারখানার প্রবেশদ্বারে। কারণ, রাজনীতিকেরা উপলব্ধি করেন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতগুলোই জাতীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে এসব খাতকে ব্যবহার করা মানে নিজের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে অবশ্যই সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হস্তক্ষেপের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। সম্প্রতি ডেইলি অবজার্ভারের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতার সম্মুখীন। দেশের অর্থনৈতিক অস্তিত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প ক্রমেই এক বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংঘাতের ময়দানে পরিণত হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের চলমান অস্থিরতার নেপথ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে সক্রিয় কিছু শত্রুভাবাপন্ন চক্র তৈরি পোশাকশ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পরিকল্পিতভাবে শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য।

এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে একটি পরিকল্পিত নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং পুলিশের সাবেক দুই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা উসকে দেওয়া ও অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে একটি মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করেছে এবং সহিংসতা ও নাশকতার আড়াল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। মিরপুরে গত ৩ নভেম্বর এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্তের দাবি।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে যখন উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই রাজনৈতিক সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এক বিরল উদ্বেগ ও ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে।

দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানা, বিশেষ করে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রসমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিকে কোনো ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না।

শিবু মার্কেট ও কাথারপুল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে, যখন শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন আজাদ জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন—সরকার ও কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও একটি অদৃশ্য মহল সেই ন্যায্য আন্দোলনকে জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

দলীয় রাজনৈতিক সংঘাত থেকে এই শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১০ শতাংশেরও বেশি। রাজনৈতিক নাশকতা ও অস্থিরতার কারণে মাত্র ৯০ দিনের জন্যও যদি এই শিল্পের উৎপাদনব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, টানা তিন মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য আমদানির সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং অতিমূল্যস্ফীতির চাপে টাকার বিনিময়মূল্য ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তবে এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আঘাত গিয়ে পড়বে কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর। ৯০ দিনের জন্য পোশাকশিল্প বন্ধ হয়ে গেলে সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান, যাঁদের অধিকাংশই নারী। তাঁদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ২ কোটিরও বেশি পরিবারের সদস্য চরম খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়বেন। এর ফলে মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক ফ্যাশনবাজার অপেক্ষা করবে না। উৎপাদন ও সরবরাহে একটি মৌসুমের ব্যর্থতাই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ স্থায়ীভাবে ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে সরিয়ে নিতে প্ররোচিত করতে পারে। এমন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের এক দশকও লেগে যেতে পারে।

একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত দেশের ব্যাংকিং খাতও বড় ধরনের সংকটে পড়বে। কারখানাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের বিপুল ঋণ ও অর্থায়ন সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাপক ঋণখেলাপির ঝুঁকি তৈরি হবে, ব্যাংকের তারল্য সংকট বাড়বে এবং পুরো বেসরকারি অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

তিন মাসের অচলাবস্থা কোনো সাময়িক বিরতি নয়; এটি হতে পারে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কয়েক দশকের শিল্পোন্নয়নের অর্জনকে স্থায়ীভাবে বিপর্যস্ত করার সূচনা।

সরকার যখন শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা ও ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কমিশনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখা এখন আর নিছক কোনো বিকল্প নয়। এটি দেশের অর্থনৈতিক অস্তিত্ব, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা রক্ষার অন্যতম শেষ প্রতিরক্ষা প্রাচীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাহি জিতলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের মুকুট, পুয়ের্তো রিকোয় প্রতিনিধিত্ব করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


মাহি জিতলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের মুকুট, পুয়ের্তো রিকোয় প্রতিনিধিত্ব করবেন

শিরিন শিলা, আনিকা আলম এবং তানজিয়া জামান মিথিলার পর, এবার মডেল ও অভিনয়শিল্পী সামিরা খান মাহি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। তিনি মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫-এর মুকুট অর্জন করেছেন।

২৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় দ্বীপাঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত হবে মিস ইউনিভার্সের ৭৫তম আসর। সেখানে সামিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) মিলনায়তনে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫-এর আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সামিরাকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। আয়োজকদের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণ করবেন।

এ সময় মঞ্চে উত্তেজনা ছিল তীব্র। নাম ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মাহি। এরপর গত বছরের ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন। পরে দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। তাদের একসঙ্গে মঞ্চে হাঁটার সময় পুরো মিলনায়তন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে মাহির পরনে ছিল শ্যাম্পেন-গোল্ড রঙের ঝলমলে মারমেইড গাউন। এই অফ-শোল্ডার পোশাকটিতে ছিল ভারী পাথরের কাজ। অন্যদিকে বিদায়ী বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলার পরনে ছিল হালকা নীল ও সিলভার রঙের গাউন, যার কাঁধের নকশা ছিল পাখার মতো। বিজয়ী ঘোষণার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমা মির্জাও।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ১১ নভেম্বর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী অঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন সামিরা খান মাহি।

ছোট পর্দার দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সামিরা খান মাহি। অভিনয়ের পাশাপাশি তার সাবলীল উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাস তাকে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এবার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ে সেরার স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহি বলেন, "বাবা-মা আমাকে বলেছে ‘যাও, বিশ্ব জয় করে আসো।’ সবার কাছে দোয়া চাই, যেন আমি বিশ্ব জয় করে ফিরতে পারি। বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি। আমি জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে।"

২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তানজিয়া জামান মিথিলা বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেন। এটি ছিল মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো প্লেসমেন্ট অর্জন। পাশাপাশি পিপলস চয়েস বিভাগেও শীর্ষস্থান অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন তিনি।

মিথিলার পর এবার ‘মিস ইউনিভার্স’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মাহি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সংঘাতের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সংঘাতের আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজে হামলা করছে, অন্যদিকে ইরানও ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ আটকে দিচ্ছে অথবা সেগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। দুই পক্ষের ধারাবাহিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। আলজাজিরার সাংবাদিক রেসুল সেরদার আতাস এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি সংস্থাটি।

ইরনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের মতো শব্দগুলো সামরিক পরীক্ষা, মহড়া কিংবা সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কেশম, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরান কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

রেসুল সেরদার আতাস বলেন, হামলার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা দিচ্ছে অথবা সেগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।

তাঁর মতে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এসব হামলা ও পাল্টা পদক্ষেপ নতুন করে যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ৩৩ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ৩৩ জন নিহত

ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিকটবর্তী বানি হুশাইশ শহরের একটি গ্রামে সৌদি বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়েছে এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে। এই তথ্যটি হুতি-পরিচালিত সাবা সংবাদ সংস্থার সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে। গত জুলাই মাসে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই বিমান হামলাটি সানার পূর্বে অবস্থিত হুতি নিয়ন্ত্রিত বানি হুশাইশ এলাকার বাড়িঘরগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় সেহাতুনা হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল-আজিজ আল-দাইলামি জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই আবারও বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে অনেক উদ্ধারকর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মীও হতাহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে আছেন এবং হাসপাতালে গুরুতর আহত বহু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সংঘটিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর জুলাই মাসে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে এবং প্রতিক্রিয়ায় রিয়াদও ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে।

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই দফায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যে দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%