০১:৩৭ পি.এম
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন এবং তা পেয়েছিলেন। এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা দাবি করেছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই অভিযানকে ঘিরে সৌদি আরবের উদ্বেগ ছিল, কারণ হুতিদের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। এ কারণে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন নিশ্চিত করতে চেয়েছিল রিয়াদ।
সোমবার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের বিমান হামলা এবং তার পরপরই হুতিদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ২০২২ সালের পর দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সীমান্ত-অতিক্রমী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত আবার শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত সপ্তাহেই সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে জানায় যে তারা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং হুতিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।
এর ধারাবাহিকতায়, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরদিন রুবিও টেলিফোনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি করেছেন, ওই আলাপে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে সম্মতি জানান।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে সোমবার ফক্স নিউজে দেওয়া ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করে, যেখানে তিনি ইরানের ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়ার পরেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রায় ১০ দিন আগে ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ হুতি নিয়ন্ত্রিত সানায় অবতরণ করার পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই উড়োজাহাজে হুতি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন, যারা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিয়ে ফিরছিলেন।
এক দশকেরও বেশি সময় পর ইরান থেকে সানায় সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়ায় সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে হুতিদের কাছে অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ অথবা ইরানের সামরিক উপদেষ্টা পৌঁছানো হতে পারে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, মাহান এয়ার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিমান সংস্থা, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
হুতিদের অভিযোগ, সৌদি যুদ্ধবিমান প্রথমে ওই উড়োজাহাজকে সানায় অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। এরপর তারা সতর্ক করে জানায়, একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
সোমবার হুতি প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরান থেকে ফেরার পথে মাহান এয়ারের উড়োজাহাজটি যখন সানার দিকে অগ্রসর হয়, সৌদি বাহিনী বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালায়। ফলে বিমানটি গতিপথ পরিবর্তন করে লোহিত সাগর উপকূলের আল-হুদাইদাহ শহরে অবতরণ করে।
মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ওই উড়োজাহাজে হুতিদের জন্য অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সামরিক বিশেষজ্ঞ বহন করা হচ্ছিল।
এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান সংস্থারই সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করা উচিত হবে না।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন