ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্যারিসের কাছে দাবানলে পুড়ল ১,৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল


প্যারিসের কাছে দাবানলে পুড়ল ১,৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল

প্যারিসের দক্ষিণের একটি বনে দুইটি দাবানলে ১ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

এই ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে অগ্নিসংযোগকারী সন্দেহে গ্রেফতার করেছে।

রোববার রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ফঁতেরব্লো বনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এক সময় এটি ফরাসি রাজপরিবারের শিকারের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে বনের চারপাশে রয়েছে শান্ত ও নিরিবিলি গ্রাম।

আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে

ফ্রান্সের আরবোন-লা-ফোরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ ধরনের খবর প্রকাশ করেছে।

যখন নতুন তাপপ্রবাহের কারণে অঞ্চলটি তীব্র গরমে পুড়ছিল, তখন দেশের উত্তরাঞ্চলে বিরল এই দাবানল দ্রুত ইউন্সেকোর জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দীর্ঘ ছুটির ভ্রমণ মৌসুমে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে শুরু করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার দিনভর আকাশে বিমান এবং মাটিতে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে শক্তিসাধন করছেন।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরিদের রক্ষাকর্তা পাকিস্তান! সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ভারতে তোলপাড়

তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে আরও একটি দাবানলের সূত্রপাত হয়ে যায়, যার ফলে প্রায় ১০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। ফঁতে’ব্লো এবং আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া দুই সন্দেহভাজনের একজনের বয়স ১৮ বছর। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আটক করার সময় তার হাতে কালির দাগ ছিল এবং তার কাছে একটি লাইটার পাওয়া গেছে।

৩৭ বছর বয়সী ক্লেমঁ বোয়ের, একজন স্থানীয় বাসিন্দা, জানান, রোববার রাতে বনের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার সতর্ক ছিল।

তিনি বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের যানবাহন প্রস্তুত। একটি ব্যাগও গুছিয়ে রাখা হয়েছে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।’

আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আহমাদুল্লাহর সমালোচনা ও সতর্কতা

দাবানলের ব্যাপকতার কারণে বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে প্রথমবারের মতো চারটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করা হয়। এছাড়া দুটি ড্যাশ বিমান এবং তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়।

উদ্ধার অভিযানে থাকা কর্মকর্তা জ্যঁ-মার্ক সিকার সোমবার সন্ধ্যায় জানান, মোট ১৮৭ বার আকাশ থেকে পানি ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাত নামার পরও প্রায় ৬০০ দমকলকর্মী মোতায়েন ছিলেন। তারা পালাক্রমে মাটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন এখনও ছড়িয়ে পড়ছে।’ কারণ সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি 'খুব একটা অনুকূলে ছিল না’, যদিও কিছু সময়ের জন্য আগুনের তীব্রতা কমেছিল।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘ব্যতিক্রমধর্মী বড় এই দাবানল’ মোকাবেলায় সব ধরণের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।

নুনেজ বলেন, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘১ হাজার মিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ১০টি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে।’

এই ঘটনায় তিন মাসেরও কম সময়ে ফ্রান্সে এটি তৃতীয় তাপপ্রবাহ। গত এক সপ্তাহে দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: মসজিদ-মাদরাসা নৈতিকতা-মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই ধরনের প্রাণঘাতী চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই সন্তানের সামনে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করেন ছায়েদুল: র‌্যাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


দুই সন্তানের সামনে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করেন ছায়েদুল: র‌্যাব

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনের জন্য টাকা না পাওয়া নিয়ে পোশাক শ্রমিক নাসিমা আক্তারকে তারই স্বামী ছায়েদুল ইসলাম ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল দুই সন্তানের সামনে। হত্যাকাণ্ডের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত স্বামী ছায়েদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন র‌্যাব ১- এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম চৌধুরী।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, গত রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার সময় গাজীপুরের শ্রীপুরে নাসিমা আক্তার নামের এক পোশাক শ্রমিককে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেন তার স্বামী ছায়েদুল ইসলাম। এই ঘটনা ঘটেছিল তাদের ঘরের দুই শিশু সন্তানের সামনে।

মো. নেয়ামুল হালিম চৌধুরী আরো জানান, ঘটনার পরপরই র‌্যাব-১ তদন্ত শুরু করে। তারা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জানতে পারে অভিযুক্ত ছায়েদুল গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব ১- এর অধিনায়ক বলেন, ছায়েদুল এবং নাসিমা দম্পতি ভাড়া বাসায় শ্রীপুরে বসবাস করতেন। নাসিমা একজন গার্মেন্ট শ্রমিক ছিলেন এবং ছায়েদুল মাদকসেবী হওয়ায় বিশেষ কাজকর্ম করতেন না। তিনি মাদকের টাকা নিয়ে প্রায় সময় নাসিমাকে মারধর করতেন। ১২ জুলাই নাসিমা অফিস থেকে বেতন নিয়ে ফেরার পর, রাত আড়াইটার দিকে ছায়েদুল তিন হাজার টাকা দাবি করেন। নাসিমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ছায়েদুল ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নাসিমার পরবর্তী মৃত্যু ঘটে। পরে ছায়েদুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে ছায়েদুলকে গ্রেফতারের পর শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাসিমা আক্তারের অকালমৃত্যু এবং ছায়েদুলের গ্রেফতারের কারণে তাদের দুটো সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আপাতত এই দুই শিশু মামার হেফাজতে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমির পর্চা কেন জরুরি, অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


জমির পর্চা কেন জরুরি, অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে

জমির কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকির সময় যদি তা হাতে না থাকে, তাহলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে হয়। জমির মালিকানা যাচাই করা, কেনাবেচা বা আইনি প্রয়োজনের জন্য জমির দলিলের মতো পর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। আগে জমির পর্চা খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু এখন অনলাইনে এটি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

জমির পর্চা কী, এটি খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নথিটির গুরুত্ব নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলোচনা করেছেন। তাহলে প্রতিবেদনের মাধ্যমে জমির পর্চার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

জমির পর্চা হল খতিয়ানের প্রাথমিক বা খসড়া কপি, যা অফিসিয়াল কাগজ হিসেবে জমির বর্তমান মালিক বা দখলদারের প্রমাণপত্র। যেকোনো কারণে জমির ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ নেওয়া, নামজারি বা মিউটেশন এবং জমির সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতায় আদালতে এই কাগজটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পর্চা ছাড়া জমির মালিকানা আইনিভাবে দুর্বল হয়ে যায়।

বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বাড়িতে বসে সাধারণত অনলাইনেই জমির পর্চা পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট মৌজা, খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করা সম্ভব। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত ফি প্রদান করলে পর্চার কপি সংগ্রহ করা যায়, যা ডাকযোগেও পাওয়া যেতে পারে।

জমির পর্চা খোঁজার জন্য ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা বেছে নেওয়ার পর, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে সার্চ করতে হবে। যদি সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে এবং বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে।

অনলাইনে জমির পর্চা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান বা দাগ নম্বর, এবং মালিকের নাম জানলেই হয়। এছাড়াও আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি সচল ফোন নম্বর এবং অনলাইন ফি প্রদানের ব্যবস্থাও থাকা উচিত। প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা হলে, সহজেই পর্চা পাওয়া যাবে।

অনলাইনে পর্চার সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের জন্য প্রথমে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান খুঁজে বের করতে হয়। এরপর নির্ধারিত ফি দেওয়ার পর আবেদন করতে হয়। আবেদন সম্পন্ন হলে সার্টিফাইড কপি অনলাইনে ডাউনলোড করা যায় অথবা ডাকযোগে আবেদনকারীর ঠিকানায় প্রেরিত হয়। এই কপি আইনি কাজে গ্রহণযোগ্য।

পর্চা এবং খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য হলো, খতিয়ান জমির পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড, যার মধ্যে মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, অংশ এবং খাজনার বিস্তারিত তথ্য থাকে। অপরদিকে, পর্চা হচ্ছে ঐ খতিয়ানের একটি কপি, যা সাধারণত তথ্য যাচাই বা প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, খতিয়ান মূ্ল নথি এবং পর্চা হচ্ছে সেটির ব্যবহারযোগ্য কপি। উভয় কপিই জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

 মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি।

ইরানের প্রভাব কমাতে বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে তার এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে দুই দেশই ইরাককে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

এ খবর বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে ইরাক বহুদিন ধরে পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দেশটির ধারাবাহিক সরকারগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্মব্যস্ত সফরের অংশ হিসেবে সোমবার জাইদি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। তিনি এই এক সপ্তাহের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, মার্কিন কর্মকর্তাদের এবং তেল কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা জাইদি চলতি বছর ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতায় আসেন। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন নাকচ করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। জাইদি ইরাকের দুর্বল অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সফরের আগে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে জাইদি লিখেছেন, তিনি একটি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যে সরকার ‘রাষ্ট্রের হাতে বৈধভাবে শক্তি প্রয়োগের একচ্ছত্র অধিকার নিশ্চিত করতে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওয়াশিংটনের মতে, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা দিয়েছে তার সরকার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোটের মিশনও শেষ হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি রাজনীতিক এএফপিকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও ইতিবাচক অবস্থান নিলেও, ‘এর অর্থ এই নয় যে ইরাক ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ইরাককে তার দুই মিত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় তেহরানে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে। এসব শহরে শিয়া ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলো অবস্থিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে বরখাস্ত করার পর দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। এ সপ্তাহে এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, সরকারের কাজে নতুন চিন্তা ও নতুন গতি আনতেই এই পরিবর্তন করা হচ্ছে।

রবিবার এক ঘোষণায় তিনি জানান, মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের পর সভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

সমালোচকরা বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার আরো তীব্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে।

সংসদ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি, জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। দেনিস শ্মিহাল এর আগে ছয় মাস প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই তিনজনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে সরানোর ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের সঙ্গে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পদে একজনকে মনোনয়ন দিতে পারেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য নির্বাচন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদের অনুমোদন পেতে হয়।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার শীর্ষে পরিবর্তন আনতে চান। এর মাধ্যমে ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করতে পারবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিতে পারবে এবং আগামী শীতে রাশিয়ার সম্ভাব্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো হামলার জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎস্কিকে অনেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে মনে করেন। যদি তিনি নিয়োগ পান, তাহলে সরকারের নেতৃত্বে একজন অভিজ্ঞ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসক আসতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের অনেক শহর ও জনপদ প্রায়ই বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

কিয়েভভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কো বলেছেন, সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবেলায় দক্ষ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তাদের মধ্যে খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভের নামও আলোচনা চলছে। খারকিভ শহরটি নিয়মিত রুশ হামলার শিকার হয়।

বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বিশ্লেষক ফেসেঙ্কোর মতে, ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিলে সেনাবাহিনীর চলমান গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ নিয়ে বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউক্রেন বর্তমানে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে রাশিয়ার তেল খাত ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনবল সংকট মোকাবেলায় সেনা নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইন্না সোভসুন বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনায় তিনি উদ্বিগ্ন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আগে দেনিস শ্মিহাল ছয় মাস মন্ত্রী ছিলেন। তিনি কিছু পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদি মিখাইলো ফেদোরভের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে, তাহলে তা মোটেও ভালো হবে না।’

তার মতে, যুদ্ধ চলাকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এবং সামরিক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

যুদ্ধকালীন সরকারের মধ্যে নতুন রদবদলের পথে ইউক্রেন।

ইউক্রেনে নতুন সরকার গঠনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকেই শুরু হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘোষণা যুদ্ধ চলাকালে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক রদবদলের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে জেলেনস্কি দীর্ঘদিনের শীর্ষ কর্মকর্তা আন্দ্রি ইয়েরমাককে সরিয়ে জনপ্রিয় গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রধানকে নিয়োগ দেন। ইয়েরমাক একটি বড় দুর্নীতি তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় সরকারে এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করা।

ইউক্রেনে চলমান তথাকথিত ‘মাইডাস’ দুর্নীতি তদন্তে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। এই তদন্ত এখনো চলমান এবং তা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলেনস্কির প্রতি জনগণের আস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল থেকেছে এবং তা প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি আছ, তাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা রদবদল জেলেনস্কির হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপায়গুলোর একটি।

কিন্তু বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার দিমিত্রো রাজুমকভ মনে করেন, এই পরিবর্তন বড় কোন ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। রয়টার্সকে তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সংখ্যক ঘনিষ্ঠ ও অনুগত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে আসছে। তার মতে, বর্তমান রদবদলও মূলত একই ব্যক্তিদের মধ্যে পদ পরিবর্তনের ঘটনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%