মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৮ পি.এম
জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে।
জেলার ৫৪ হাজার জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। জেলেরা মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছে, যাতে তারা জাল ও নৌকা সহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, "গত বছরের তুলনায় এবার মাছের উৎপাদন বাড়বে।"
মৎস্য বিভাগ ও জেলেরা জানাচ্ছে, লক্ষ্মীপুরে ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল, যা জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
এই নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনে ২শ’ ২৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ৭৭ জেলেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিয়মিত ১শ’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় সাড়ে ৪ টন ইলিশ ও ২০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে, যা পরে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কমিটি।
এদিকে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাতে। এরপর থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। ফলে মাছ শিকারের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাছঘাটগুলোতে তারা জাল ও নৌকা সহ সব ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যস্ত রয়েছে।
এবার লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এই সময় সব ধরনের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে ১ হাজার ১শ’ ৫৩ মে.টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জেলে এখনও বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
মতিরহাট হাট ঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি বলেছেন, "সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ শিকারে যাইনি। তবে গত বারের তুলনায় এবার অভিযান খুবই কড়াকড়ি ছিল। প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে নদীতে নামতে সাহস করেনি জেলেরা।" তারা আরও জানান, "যারা আইন না মেনে নদীতে মাছ শিকারে গেছে, তাদেরকে প্রশাসনের হাতে আটক হতে হয়েছে।"
এদিকে, মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ জানাচ্ছেন, "প্রতিবছর নদীতে অভিযান চলে। এবারের অভিযান সফল হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ২৯ অক্টোবর মধ্য রাতে। এরপর থেকে আবারও পুরোদমে নদীতে মাছ ধরা শুরু হবে।"
মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আড়ৎদার মিন্টু জানিয়েছেন, "২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। তাই ঘাটে আড়ৎতের সব ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। আশা করি বন্ধের পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।"
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আবদুর রহমান বলেছেন, "দিনরাত নদীতে অভিযান চালিয়েছি। অনেক সময় বিভিন্ন বাধা সম্মুখীন হলেও অভিযান থেকে সরে যায়নি।" তিনি জানান, "এবার অভিযান পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে।"
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, "গত দুই বছর মাছের উৎপাদন কম ছিল। তবে এবার মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।" ২২ দিনের অভিযানে দেড়শ জেলেকে জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মে.টন, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার মে.টন বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের ও শিল্পায়নে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশটির বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে জাপান সফর করছেন উল্লেখ করে আতিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি শিল্পায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে।
আতিকুর রহমান আরও জানান, দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। জাপান সফরের কর্মসূচিগুলোও বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই পরিকল্পিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামীকাল বুধবার জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশননের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা এবং বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টায় জেবিআইসির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এই সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠককক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টোকিওর আরিয়াকে এলাকায় ইউনিক্লো কম্পানি লিমিটেডের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১১টায় সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
সকাল সাড়ে ১১টায় জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে সকাল পৌনে ১২টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত জেট্রোর প্রেসিডেন্টের আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুর ১টায় জাপানের তিনটি বড় কম্পানি—মিৎসুই অ্যান্ড কম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা (জেইআরএ)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। প্রতিটি বৈঠকের জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুপুর পৌনে ২টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত জাপানের ১৪টি বিশিষ্ট কম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি গ্রুপ বৈঠকে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রতিটি গ্রুপে সাতটি করে কম্পানির প্রতিনিধি থাকবেন।
সফরসূচিতে এসব বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল থেকে জেট্রো ভবনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
জাপানের বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক এসব বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিমাপে কম জ্বালানি তেল বিক্রি, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকা এবং ওষুধ বিক্রি ও ফার্মেসি পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের দায়ে সদরপুর ফিলিং স্টেশনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার জ্বালানি তেল বিক্রিতে প্রায় ১০ থেকে ১২ মিলিলিটার কম দেওয়ার বিষয়টি অভিযানে উঠে আসে। একই অভিযানে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকায় সদরপুর উপজেলার সাড়ে সাতরশি এলাকার দাস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় চারটি ফার্মেসিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে খান ফার্মেসিকে ১০ হাজার, ভোলানাথ ফার্মেসিকে ৫ হাজার, লোকনাথ ফার্মেসিকে ৮ হাজার এবং মেসার্স চৌধুরী মেডিকেল হলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় ড্রাগ লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে ফরিদপুর ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের সময় সদরপুর বাজারের কয়েকটি ওষুধের দোকান বন্ধ ছিল। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও কিছু দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তবে সদরপুর ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান হিরু (রাহাত) বলেন, ওই দিন অনেক দোকানের সাপ্তাহিক বন্ধ ছিল।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ