০৮:০৫ পি.এম
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে দাঙ্গার কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের চারটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা এবং ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি, পারসা জেলায় সভা এবং সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকা সমূহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তের পাশে সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এই উত্তেজনা পরে সংঘর্ষে রূপ নিতে থাকে এবং ধীরে ধীরে আশপাশের জেলাগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় দুজন নিহত হন। কারফিউ চলাকালীন বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তবে, নিহতদের মৃত্যুর সঠিক পরিস্থিতে তদন্ত চলছে।
গত রবিবার সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা চিকিৎসকদের মতে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমতা দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
অন্যদিকে সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কিছু দোকান ও বিপণিবিতানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উত্তেজনা প্রশমনের জন্য রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন যে, কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
এই পরিস্থিতির মধ্যে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন