০৬:১৫ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ প্রশাসনের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে। হল সংসদের ভিপি অমিত বণিক এবং জিএস মাহমুদুল হাসান ইমনের নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাঠ সংস্কারের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্র ছাড়াই লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্কারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্তের জন্য অধ্যাপক ড. মাহবুব কবীরকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তবে প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে মাঠে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়। এ সময় একটি বুলডোজার দিয়ে মাঠের মাটি সমান করা হচ্ছিল। পাশাপাশি ট্রাক্টরে করে মাটি এনে মাঠে ফেলা হচ্ছিল। কয়েকজন শ্রমিককে কোদাল ও ঝুড়ি দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করতেও দেখা যায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোটিশ পাওয়ার পরই তিনি ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করে সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোটিশ পাওয়ার পরই আমি ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করার এবং সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কাজ চালু রাখার বিষয়ে আমি অবগত নই। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে কি না, হলে গেলে বিষয়টি জানতে পারব।’
তবে হল সংসদের ভিপি অমিত বণিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হলের শিক্ষার্থীরা মাঠের সংস্কারকাজ চালু রাখার পক্ষে। তাই কাজ চলছে। বৈধ কারণ ছাড়া প্রশাসন মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ করতে পারে না।’
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হল সংসদের জিএস মাহমুদুল হাসান ইমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও কিভাবে কাজ চলছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত চলাকালে মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলাকালীন কাজ সাময়িক বন্ধ থাকবে। তদন্তের পরে দ্রুত কাজটি শেষ করে দেওয়া হবে। অনিয়মের জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অসমাপ্ত খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য ৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন