ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানসিক আঘাতজনিত চিকিৎসায় এমডিএমএ ব্যবহারের অনুমোদন নিউজিল্যান্ডের


মানসিক আঘাতজনিত চিকিৎসায় এমডিএমএ ব্যবহারের অনুমোদন নিউজিল্যান্ডের

নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ গুরুতর পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) বা মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের চিকিৎসায় ফার্মাসিউটিক্যাল-গ্রেড এমডিএমএ ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করেছে। শুক্রবার, দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডসেফ দুইজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে গুরুতর পিটিএসডি আক্রান্ত রোগীদের জন্য এমডিএমএ প্রেসক্রাইব করার অনুমতি দিয়েছে।

এটি অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে পিটিএসডির চিকিৎসায় এই মাদক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ২০২৩ সালে এ ধরনের অনুমোদন প্রদান করে।

নিউজিল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড সিমুর মন্তব্য করেছেন, ‘পিটিএসডি মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে এবং এর চিকিৎসা কঠিন।’ তিনি গত বছর গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ম্যাজিক মাশরুম ব্যবহারের অনুমোদনের পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা করেছি, আবারো হামলা চালাব: ট্রাম্প

সিমুর আরও বলেন, ‘সাইকেডেলিক-সহায়ক থেরাপির মাধ্যমে এমডিএমএ পিটিএসডির চিকিৎসায় খুবই কার্যকর হতে পারে।’ তিনি নিউজিল্যান্ডের ‘উদ্ভাবনী চিকিৎসার’ সুযোগ আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পিটিএসডি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মৃত্যু, যুদ্ধ বা যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর অথবা এমন ঘটনার হুমকির মুখে পড়ার পর তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এমডিএমএ নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ২০২৪ সালে চিকিৎসায় এমডিএমএ ব্যবহারের বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। সংস্থাটি তখন বলেছিল, এটি নিরাপদ ও কার্যকর—এমন যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে পিটিএসডির জন্য ওষুধভিত্তিক চিকিৎসার সুযোগ এখন পর্যন্ত সীমিত। সেখানে দুটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর কার্যকারিতা পেতে রোগীদের প্রায় তিন মাস নিয়মিত সেবন করতে হয়। তবে এসব ওষুধে রোগীদের সাড়া দেওয়ার হার একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম।

গত বছর ইসরাইলে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হামাসের হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার সময় সেখানে থাকা কিছু উৎসবপ্রেমী যে এমডিএমএ গ্রহণ করেছিলেন, তা তাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনার মানসিক প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

ওয়েলিংটনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমডিএমএ-সহায়ক চিকিৎসার সঙ্গে সাইকোথেরাপিও প্রদান করা হবে। রোগীদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো মাদক সরবরাহ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চিকিৎসা একটি নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল পরিবেশে অনুমোদিত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হবে।’ এ চিকিৎসা গ্রহণের জন্য রোগীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলা থেকে আরও তেল তুলবে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


ভেনেজুয়েলা থেকে আরও তেল তুলবে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন

মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন ভেনেজুয়েলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে কারাকাসের তেলসম্পদের উন্নয়ন ও সেই মুনাফায় পেন্টাগনকে অংশীদার করার জন্য একটি উচ্চাভিলাষী চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

পিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেভরন হল একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি, যাদের ভেনেজুয়েলায় উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির অরিনোকো বেল্টে তাদের জন্য আরও জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।

বর্তমানে ওই অঞ্চলে কোম্পানির কার্যক্রম চলছে। শেভরন আগামী পাঁচ বছরে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হল বর্তমান উৎপাদন দ্বিগুণ করে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা।

শেভরনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক ওয়ার্থ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ভেনেজুয়েলায় শেভরনের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের। সেখানে আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত দেশটির সম্ভাবনার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।”

খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের ২০২৫ সালের বার্ষিক বুলেটিন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুদ রয়েছে, যা ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে সৌদি আরবের মজুদ ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামোর মারাত্মক অবনতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেলের কিছু বেশি।

অন্যদিকে, সৌদি আরব প্রতিদিন ১ কোটি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল। শেভরন ১৯২৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, “ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিশন খুব সুনির্দিষ্ট। মিশনটি হল ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সুযোগ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসা।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আজ যে চুক্তিগুলো সই হয়েছে, সেগুলোতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আখেরে হাজার হাজার কর্মসংস্থান হবে। আর তা ভেনেজুেলার সবার জন্য শান্তি, সুযোগ ও সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে ট্রাম্পের প্রবেশ চেষ্টার অংশ হিসেবে সেখানকার তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যাওয়ার কথা সোমবার জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

তবে এ চুক্তির লক্ষ্য কতটা অর্জিত হবে, তা নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, বছরের পর বছর অবহেলার কারণে বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল মজুত তেলের ১৭টি ক্ষেত্রকে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে ১০০ বছরের জন্য তুলে দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকার এই চুক্তি বাতিল করবে কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক গবেষণাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান ভাসকেজ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে যে ধরনের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, তা ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এমন অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

ভাসকেজের মতে, “চুক্তিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ এটি এমন একটি স্বৈরশাসকের সঙ্গে করা হয়েছে, যে কয়েক দশক ধরে সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে এবং ২০২৪ সালে লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় নির্বাচনি জালিয়াতি করেছেন।”

তিনি আরও লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তরফে সামরিক ও অন্যান্য ধরনের ব্যাপক চাপের মধ্যে এই চুক্তি করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার যে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার এ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। তাতে বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করবে।”

এ বিষয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রদ্রিগেজের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে থাকা রাইট ওই সমালোচনার বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন, “এটি এমন একটি চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বিশাল বিজয় ও সুবিধা এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্যও বিশাল বিজয়।”

তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে ভূগর্ভে থাকা এমন সম্পদকে কাজে লাগানো হবে, যা এখন কারও উপকারে আসছে না। সেখানে পুঁজি, অর্থ ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ করে সেই সম্পদ মাটির উপরে আনা হবে।

“এতে ভেনেজুয়েলাবাসীর জীবনযাত্রার উন্নতি হবে এবং আমেরিকানদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ আরও ভালো হবে।”

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই দেশটির দিকে নজর দিয়েছেন ট্রাম্প এবং সেখানে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেরানোর চেষ্টা করছেন।

সেই মাসে তিনি বলেছিলেন, “এক্সন সেখানে যাচ্ছে, শেভরন সেখানে যাচ্ছে। আমাদের বড় তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাচ্ছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় তেল কোম্পানিগুলোও ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে শেভরন ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি ফিরে যাচ্ছে—এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই।

এক্সন মবিলের সিইও ড্যারেন উডস জানুয়ারিতে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করা ‘অসম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এক্সনের একজন মুখপাত্র এ সপ্তাহে বলেছেন, “কিছুই পরিবর্তন হয়নি।”

এ দ্বিধার কারণ হচ্ছে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল জায়ান্টগুলোর অতীত অভিজ্ঞতা।

পিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা ১৯৭৬ সালে তার তেলশিল্প জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেত্রোলেওস দে ভেনেজুয়েলা এসএ প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৭ সালে দ্বিতীয় দফায় জাতীয়করণ করা হয়।

সে সময় প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীন যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করেন। যারা এতে রাজি হয়নি, তাদের সম্পদ দখল করে নেওয়া হয়।

যৌথ উদ্যোগে যেতে রাজি হয়েছিল শেভরন। অন্যদিকে, এক্সন, কনোকোফিলিপসসহ কয়েকটি কোম্পানি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং ভেনেজুয়েলা তাদের সম্পদ নিয়ে নেয়।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে’।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেল অবকাঠামো ঠিক করতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েক হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল এনার্জি, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ল্যাবের পরিচালক অ্যামি জ্যাফে ইমেইলে বলেছেন, “অরিনোকো অঞ্চলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করে তা চালু করতে দুই থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।

“আর যেখানে কোনো পাইপলাইন এবং অন্যান্য ধরনের সহায়ক অবকাঠামো নেই, সেখানে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।”

এদিকে মোটর ক্লাব এএএ’র তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের জাতীয় গড় সাধারণ দাম রাতারাতি বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ৯৩ সেন্ট বেশি।

সূত্র:

এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিপিএলে শানাকার দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


সিপিএলে শানাকার দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ব্যাট হাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে তিনি মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ড নিজের নামে করেছেন।

সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্যাটিং শুরু করেই যেন ঝড় তুলতে শুরু করেন শানাকা। ইনিংসের শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলেও, ৩০ রান অতিক্রম করার পর তিনি সম্পূর্ণরূপে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ১২১ রানে অপরাজিত থাকেন ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। তার বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ১২টি ছক্কা।

শানাকার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় চমক আসে ৩৯তম বলে। ওই বলেই তিন অঙ্কে পৌঁছে যান এবং আগের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দেন। এতদিন ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে যৌথভাবে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন আন্দ্রে রাসেল, শিমরন হেটমায়ার এবং টিম সাইফার্ট। রাসেল ২০১৮ সালে এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন। পরে গত বছর একই দিনে ৪০ বলে শতক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান হেটমায়ার এবং সাইফার্ট।

শানাকার বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে আন্দ্রে ফ্লেচারের ৩৮ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে ভর করে প্যাট্রিয়টস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে সেন্ট লুসিয়া কিংসের ইনিংস মাত্র ৯৮ রানে থেমে যায়। ফলে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় প্যাট্রিয়টস।

ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে শানাকা জানান, শুরুতে তিনি বলের গুণাগুণ বুঝে খেলছিলেন। মাঠের ফিল্ডিং বিন্যাস এবং বোলারদের পরিকল্পনাও পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ৩০ রান করার পর পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য উপযুক্ত মনে করে, নিজের শক্তির জায়গায় বল পেলেই আক্রমণাত্মক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ভাগ্যও তার পক্ষে ছিল।

শানাকাকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ম্যাচ শেষে শানাকার প্রশংসা করে তিনি জানান, দাসুন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, তাই তার সামর্থ্যকে যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চেয়েছে দল।

সিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় শানাকা ছাড়াও আছেন আন্দ্রে রাসেল (৪০ বল), টিম সাইফার্ট (৪০ বল), শিমরন হেটমায়ার (৪০ বল)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের তিন পাইলট নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের তিন পাইলট নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তিনজন ইরানি পাইলট নিহত হয়েছেন। তবে হামলার স্থানের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই তথ্য জানায়।

নিহত পাইলটদের মধ্যে মোজতবা বাঘেরি, হামেদ ওকাতি এবং হোসেনই মাহদাভিয়ান অন্তর্ভুক্ত। প্রথম দুইজন নৌবাহিনীর পাইলট ছিলেন, যেখানে তৃতীয়জন বিমানবাহিনীর পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তেহরান উল্লেখ করেনি যে, তারা নিহত হওয়ার সময় যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছিলেন কি না, কিংবা কোনো হামলায় অংশগ্রহণ করছিলেন কি না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বোমাবর্ষণের ফলে মঙ্গলবার ও বুধবারে অন্তত ১৯ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন এবং কেরমানশাহ প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডের চার সদস্য মারা গেছেন।

গত ৩০ আগস্ট ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় এক মাস ধরে চলা আপেক্ষিক শান্তি ভেঙে পড়েছে।

উক্ত হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরীণ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে। এর প্রতিক্রিয়ায়, তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। বিশেষ করে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান এই সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা পুরো অঞ্চলকে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিটকয়েন নিয়ে সন্তুষ্ট আইএমএফ, এল সালভাদরকে ১৪ কোটি ডলার দেওয়ার অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


বিটকয়েন নিয়ে সন্তুষ্ট আইএমএফ, এল সালভাদরকে ১৪ কোটি ডলার দেওয়ার অনুমোদন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এল সালভাদরের ব্যয়সংকোচনমূলক সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দেশটিকে নতুন করে প্রায় ১৪ কোটি ডলার অর্থায়নের জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আইএমএফ জানায়, এল সালভাদর সরকারের কাছ থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বিটকয়েন কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থ সরকারি তহবিল থেকে আসেনি, বরং এটি ব্যক্তিগত অনুদান থেকে এসেছে। এই তথ্য পাওয়ার পর নতুন অর্থ ছাড়ের বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়।

এই চুক্তির আওতায় ৪০ মাস মেয়াদি ঋণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যালোচনা একসঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন এবং কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর বিটকয়েনের বিষয়টি এই চুক্তির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

আইএমএফের কর্মসূচিতে এল সালভাদরকে বিটকয়েন নিয়ে তার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সীমিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগের ফলে দেশটি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আইএমএফ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘এখন থেকে নথিভুক্ত অনুদানের বাইরে আর কোনো অতিরিক্ত বিটকয়েন কেনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।’

এছাড়া, বিটকয়েনের বিষয়টি ছাড়াও এল সালভাদরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। কয়েক বছর ধরে ধীরগতির অর্থনীতির পর বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি ভালো করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফ বলেছে, ‘এল সালভাদরের অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে চলেছে।’ গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ছিল এবং ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিনিয়োগ, ভোক্তাদের ব্যয়, প্রবাসী আয়, পর্যটন এবং দেশে পুঁজি প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্যও সরকারের প্রশংসা করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলেছে, এই কর্মসূচির কারণে দেশটিতে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।

এল সালভাদরের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে এই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে ধীর। তবে আইএমএফের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যয়সংকোচন নীতির ফলে সরকারি কর্মীদের ওপর বড় চাপ পড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার সরকারি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা ৪৭ হাজার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%