(নীলফামারী) প্রতিনিধি: রায়হান আলী
০৪:৫৪ পি.এম
নীলফামারী জেলার ডিমলায় একটি জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো পরিদর্শনে উপস্থিত থাকার সময় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই জরাজীর্ণ সাঁকোটি পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন যখন হঠাৎ করেই সাঁকোর একটি অংশ ভেঙে পড়ে যায়।
পরে জানা যায়, ভেঙে পড়ার ফলে নদীতে পড়ে যান সেখানকার সাথে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র থেকে উঠে এসেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা কাঠের সাঁকোটির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গিয়েছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। যখন তিনি সাঁকোটি পার হয়ে অন্য পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন অতিরিক্ত ওজনের কারণে কাঠের পাটাতন ও কাঠামো ভেঙে পড়ে। ফলে, মুহূর্তের মধ্যে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী নদীতে পড়ে যান।
এই দুর্ঘটনার কারণে এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তবে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিত অন্যান্য নেতাকর্মীদের দ্রুত কার্যকরী তৎপরতার মাধ্যমে নদী থেকে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনায় কেউ মারাত্মকভাবে আহত হননি বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর, সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার মন্তব্য করেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটির কারণে স্থানীয় মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার ফলে তিনি এই দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছেন যা সেতু নির্মাণের জরুরীতা প্রমাণ করে। তিনি দ্রুত উক্ত স্থানে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহের কারণে ঘুমন্ত অবস্থায় ৭ ও ৪ বছরের দুটি শিশু হত্যা করার পর, হাওরের পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কামরুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে এবং পরবর্তীতে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শিশু দুটির নাম হলো— ৭ বছরের মুহাদ্দিস এবং ৪ বছরের তুলনা। তাদের বাড়ি দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামে অবস্থিত এবং কামরুল ইসলাম তাদের পিতা।
থাকা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী এবং শাশুড়ির ঝগড়া-বিবাদে বিরক্ত হয়ে কামরুল গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে চার সন্তানের মধ্যে বড় দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে চলে যান।
ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের বারান্দায় দুই দিন থাকার পর, রোববার (৯ আগস্ট) রাতে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্টে প্রথমে ছোট মেয়ে তুলনাকে এবং পরে সদর উপজেলার মদনপুর পয়েন্টে বড় ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে দেখার হাওরে ফেলে দেন তাদের বাবা।
তারপর, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জের ‘দেখার হাওরের’ বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনার এবং বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর সংলগ্ন একই হাওর থেকে মুহাদ্দিসের মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি সামনে আসে।
লাশ ভেসে ওঠার পর পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে আটক করে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের চার সন্তান রয়েছে। যখন সন্তানদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হতো, তখন তাদের মা তাদের মারধর করতেন। এ নিয়ে পরিবারে শাশুড়ি ও স্ত্রীর সঙ্গে কামরুলের প্রায়ই ঝগড়া ও কলহ সৃষ্টি হতো। এই পারিবারিক কলহের ক্ষোভ থেকেই তিনি নিজের সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সন্তানদের হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেন, ইরানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক এবং নিরাপত্তা জোট গঠন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে কিইভ যৌথভাবে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ও বিশেষ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়। রিয়াদের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এটি আনাদোলু এজেন্সির খবর।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে টেলিফোনে এ নিয়ে কৌশলগত আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজেই এই যৌথ জোটের ইঙ্গিত নিশ্চিত করেছেন।
জেলেনস্কি টেলিগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ড্রোন চুক্তির বিষয়ে তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে রিয়াদ ও কিইভ উভয়ের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে দুই নেতা একমত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোন বিধ্বংসী নতুন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে কথা হয়েছে। অচিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা চুক্তি হতে পারে।
এর আগে, গত ২৬ মার্চ রিয়াদ সফরের সময় জেলেনস্কি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চলাকালে ইউক্রেনীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং জর্ডানের মতো দেশে ড্রোন প্রতিরক্ষায় সরাসরি কাজ শুরু করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন প্রতি নিয়ত ইরানি ড্রোনের আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এখন ড্রোন প্রতিরক্ষায় বিশ্বে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ইরানি প্রযুক্তি ধ্বংস করতে তাদের নিজস্ব এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বিশ্বজুড়ে অনন্য হিসেবে সমাদৃত। এই যৌথ জোটের মাধ্যমে রিয়াদ তাদের আকাশসীমার সুরক্ষা আরও জোরদার করার বড় সুযোগ দেখতে পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৩ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে গাজীপুর, খুলনা ও কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে রদবদল আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) করা হয়েছে।
সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের সরকার ওমর ফারুককে খুলনার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
একই আদেশে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে হাইওয়ে পুলিশে পদায়ন করা হয়েছে। আর খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এছাড়া আলাদা একাধিক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের অন্তত ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অন্তত ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা এ তথ্যটি জানিয়েছেন। পেন্টাগনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, বিগত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে মার্কিন অভিযানে মাত্র দুই নাগরিক নিহত এবং দুজন আহত হওয়ার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছিল।
মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা পেন্টাগনের মূল্যায়নে জানানো হয়, ২০২৫ সালের নথিবদ্ধ বেসামরিক হতাহতের সবকটি ঘটনাই মূলত ইয়েমেনে পরিচালিত তিনটি পৃথক মার্কিন হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইয়েমেনে চালানো ওই তিন অভিযানের বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব হামলায় বেসামরিক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল ‘অত্যন্ত প্রবল’। তবে ইয়েমেনে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সেন্টকম জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থাগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে সংঘটিত আরও অন্তত ১৫টি ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। মূলত লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করেই ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
তবে পেন্টাগনের প্রকাশিত এই নতুন পরিসংখ্যানে কিছু উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানবিরোধী নামে মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের চালানো বিতর্কিত হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকলেও সেগুলোকে এই বেসামরিক হতাহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন ওই লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ ও ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ ইতিমধ্যেই পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে চালানো সামরিক অভিযানের বৈধতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে পেন্টাগনের এই খণ্ডিত প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও বিশ্বজুড়ে শক্তির অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ