ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লার মানুষকে হাসিনা কেন দেখতে পারতেন না, জানালেন আসিফ মাহমুদ


কুমিল্লার মানুষকে হাসিনা কেন দেখতে পারতেন না, জানালেন আসিফ মাহমুদ

কুমিল্লার জনগণকে কেন শেখ হাসিনা দেখতে পারতেন না, তা জানালেন আসিফ মাহমুদ।

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, কুমিল্লার জনগণ কখনোই ফ্যাসিবাদকে গ্রহণ করেনি। তারা সবসময়ই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। এই কারণেই ২৪ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার জনগণকে দেখতে পারেননি এবং তাদের প্রতি অবিচার করেছেন।

আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, যাকে আমরা ২০২৪ সালে বিতাড়িত করবো, তিনিও কুমিল্লার জনগণকে দেখতে পারতেন না। কারণ কুমিল্লার জনগণ কখনোই ফ্যাসিবাদকে মেনে নেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে বাকশাল ও ফ্যাসিবাদের জন্য কুমিল্লা একটি ভীতির প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কুমিল্লার জনগণ প্রতিবাদ করতে কখনো ভয় পায়নি। জুলাই মাসে প্রথম প্রতিরোধ কুমিল্লায় গড়ে ওঠে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে রেখেছিল।

শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কুমিল্লার জনগণের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই কারণেই তিনি কুমিল্লার জনগণকে দেখতে পারতেন না। কুমিল্লার জনগণকে অবহেলা করতেন। তবে কুমিল্লার জনগণের প্রতিবাদই তাকে দেশ থেকে বের হয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করেছে।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘রাস্তায় নেমেছি ঘরে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দিতে’: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


‘রাস্তায় নেমেছি ঘরে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দিতে’: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য রাস্তায় নেমেছি। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্যও আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি সরকারের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং ওয়াদা ভঙ্গ করছে। তিনি বলেন, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান, গ্যাস পান? চাঁদাবাজি হয় কি না?’ তিনি দেশের মাদক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে সরকারকে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

লংমার্চের পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও বক্তব্য রাখেন। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে লংমার্চটি কুমিল্লায় পৌঁছে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পথসভা করে। পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চটি যাত্রা করে।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভাটি পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া পথসভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমালিয়ায় গোপন মার্কিন ঘাঁটি, বাড়তে পারে আইএসবিরোধী হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


সোমালিয়ায় গোপন মার্কিন ঘাঁটি, বাড়তে পারে আইএসবিরোধী হামলা

স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বন্দরনগরী বসাসোয় যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে। তাঁদের দাবি, এই ঘাঁটি উত্তর সোমালিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নির্মিত হচ্ছে।

৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পুন্টল্যান্ডের আল-মিসকাদ পর্বতমালার টোগা মিরালে ও টোগা বালাদে এলাকায় মার্কিন নজরদারি ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টোগা বালাদে এলাকায় একটি গাধার গাড়িতে আইএসের সদস্যদের চলাচল শনাক্ত করার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আশপাশে বিমান হামলা চালানো হয়।

একই দিনে উত্তর-পশ্চিম দিকে সানাগ অঞ্চলের আল-মাদো পাহাড়েও মার্কিন ড্রোন নজরদারি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় আল-শাবাবের সক্রিয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড বা আফ্রিকম এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধের জবাব দেয়নি। তবে পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান অভিযান আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বসাসোয় নতুন মার্কিন ঘাঁটি

গালফ অব এডেনের তীরে অবস্থিত বসাসো উত্তর সোমালিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। এই শহরটি মানব পাচার এবং শরণার্থী চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেও পরিচিত। পূর্ব আফ্রিকার অভিবাসীরা গালফ অব এডেন পাড়ি দিয়ে ইয়েমেন ও আরব বিশ্বের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এই অঞ্চলটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ গালফ অব এডেন দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এছাড়া, আল-মিসকাদ পর্বতমালায় প্রায় দুই বছর ধরে পুন্টল্যান্ডের মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আঞ্চলিক বাহিনী ও আইএসের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র উত্তর সোমালিয়ার শুষ্ক ও দুর্গম পাহাড়গুলোকে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আইএসবিরোধী অভিযানে সোমালি সরকারের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলা ও অভিযান বৃদ্ধি করেছে।

স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বসাসোয় নতুন ঘাঁটিটি চালু হলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও নজরদারি অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। তাঁরা জানিয়েছেন, সিআইএও সেখানে তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করবে।

বৈঠকের পর ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা

গত ২ আগস্ট আফ্রিকমের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল বসাসোয় পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আবদুল্লাহি দেনির সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর পুন্টল্যান্ডের স্টেট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য বসাসোয় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ করবে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় বসাসোয় তাদের সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদল পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করে।

তবে ড্রপ সাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঁচজন পৃথক পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ঘোষণাটিতে চুক্তিটির প্রকৃত গুরুত্ব পুরোপুরি তুলে ধরা হয়নি।

তাঁদের ভাষ্য, বসাসোয় এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না। সেখানে শুধুমাত্র একটি অফিস ছিল, যা আফ্রিকম ও সিআইএর গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমন্বয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই অফিসে থাকা আফ্রিকমের সদস্যরা বিমান হামলা বা আকাশপথে সহায়তার প্রয়োজন হলে পুন্টল্যান্ডের স্থলবাহিনী ও জিবুতিতে থাকা আফ্রিকমের প্রধান কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় করেন। নতুন ঘাঁটি নির্মাণ শেষ হলে বসাসো থেকেই সরাসরি বিমান হামলা চালানো হতে পারে বলে তাঁদের দাবি।

চুক্তি নিয়ে গোপন বৈঠকের দাবি

পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, ২ আগস্টের প্রকাশ্য ঘোষণার আগেই ২৭ জুলাই ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকম কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে চুক্তিটির বড় অংশ চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওই বৈঠককে মার্কিন ঘাঁটির চুক্তি তৈরির স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা একটি চুক্তির নথি নিয়ে আসেন এবং পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাঈদ দেনির সঙ্গে সেটি স্বাক্ষরিত হয়।

তবে ২ আগস্টের বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলা অনেক সোমালি কর্মকর্তা চুক্তিটির বিস্তারিত জানতেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বসাসোয় সিআইএর ভূমিকা

পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বসাসোয় বর্তমানে অবস্থানরত সিআইএর সদস্যরা আইএসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে আটক আইএস সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও বিদেশি যোদ্ধাদের জিজ্ঞাসাবাদও রয়েছে।

আবদিউয়েলি মোহামেদ ইউসুফ, যিনি আবদিউয়েলি ওয়ালালাক নামে বেশি পরিচিত, আইএস-সোমালিয়ার আটক হওয়া আলোচিত সদস্যদের একজন। পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, আটকের পর তাঁকে বসাসোয় থাকা সিআইএর ওই কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আবদিউয়েলিকে আইএসের সোমালি শাখার অর্থ কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং তাঁকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

গত বছরের ২৫ জুলাই একটি যৌথ মার্কিন-সোমালি অভিযানে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা যায়। তবে ড্রপ সাইটের সঙ্গে কথা বলা পাঁচজন পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, অভিযানটি মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছিল।

তাদের ভাষ্য, সোমালিয়ার বারি অঞ্চলের পাহাড়ে হেলিকপ্টারে অভিযান চালিয়ে আবদিউয়েলিকে আটক করা হয়। ওই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সোমালি দোভাষী এবং পুন্টল্যান্ড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির কমান্ডাররাও ছিলেন।

আটকের পর তাঁকে বসাসোর সিআইএ পরিচালিত কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে দুই কর্মকর্তা দাবি করেছেন। পরদিন তাঁকে প্রতিবেশী জিবুতিতে নেওয়া হয় বলেও তাঁরা জানান।

একজন পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তা সিআইএর প্রভাব বোঝাতে বলেন, ‘এখানে তারা বড় ভাইয়ের মতো। পুন্টল্যান্ডে আইএস-সংক্রান্ত নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে তারা যা বলে বা করে, তা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নেওয়া হয়।’

নতুন সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী

বসাসোয় মার্কিন ঘাঁটির চুক্তির অংশ হিসেবে স্থানীয় একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী স্ট্রাইক ফোর্স গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে ওই বাহিনীতে কতজন সোমালি সেনা থাকবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরিকল্পনাটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, সদস্যসংখ্যা এখনো ঠিক হয়নি। তবে মার্কিনরাই নতুন বাহিনীর সদস্যদের বেতন, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেবে।

সোমালিয়ায় এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী গঠিত হয়েছে। ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পুন্টল্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্স বা পিএসএফ গঠন করেছিল। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তারা অভিযান চালিয়ে গেছে।

এ বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানো এবং এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ডানাব নামে একটি মার্কিন সমর্থনপুষ্ট ও প্রশিক্ষিত বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।

ট্রাম্প আমলে বেড়েছে মার্কিন হামলা

ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়ের তুলনায় বেশি বিমান হামলা হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিন পর ট্রাম্প সোমালিয়ায় আইএসের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন হামলার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নিউ আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, এরপর সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মোট ২০৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ৫৩ শতাংশের লক্ষ্য ছিল আইএস।

২০১৫ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের প্রভাব যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল, তখন ব্রিটিশ-সোমালি ধর্মীয় নেতা আবদুলকাদির মুমিন আল-শাবাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আইএসের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন এবং সোমালিয়ায় সংগঠনটির নতুন শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।

পরের বছর গালফ অব এডেনের উপকূলীয় শহর কান্দালাও আইএসের সদস্যরা ৩৮ দিনের জন্য দখলে নিয়েছিল। পরে তারা আল-মিসকাদ পাহাড়ে ফিরে যায়।

পরবর্তী সময়ে সোমালিয়ায় সংগঠনটির আকার বাড়ে। বসাসোয় স্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডেও তারা জড়িত হয়ে পড়ে। প্রতিবেশী ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি যোদ্ধারাও সংগঠনটির সোমালি শাখায় যোগ দিয়েছে।

আল-মিসকাদে যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতি

প্রায় ১৮ মাসের সংঘাতের পর বারি প্রদেশের আল-মিসকাদ পাহাড় থেকে আইএসের বড় অংশকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বিশাল এই পাহাড়ি এলাকায় এখনো সংগঠনটির কিছু সদস্য অবস্থান করছে।

একজন কর্মকর্তা এলাকাটিকে আফগানিস্তানের ‘তোরা বোরা’ পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ওই এলাকায় একসময় ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার নেতারা অবস্থান করতেন।

আল-মিসকাদ পাহাড়ে আগে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত বেদুইন জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনো নিজেদের এলাকায় ফিরে যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আইএস সদস্যরা সেখানে গবাদিপশু লুট এবং বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘাঁটি নির্মাণে সাংবিধানিক প্রশ্ন

বসাসোয় নতুন মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠেছে।

সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পুন্টল্যান্ডের সম্পর্ক জটিল। পুন্টল্যান্ড নিজেদের কিছু বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুগত।

সোমালিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি সরকার বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের। ফলে পুন্টল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা চুক্তিটির বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র:

ড্রপ সাইট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে শাল্লায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় ও নবীন শিক্ষকদের বরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে শাল্লায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় ও নবীন শিক্ষকদের বরণ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যৌথ উদ্যোগে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথমে উপজেলা সদরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা এনামুল হক।

এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয় এবং একই সঙ্গে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোস্তাক মিয়া। বিদায়ী শিক্ষকদের সম্মানে মানপত্র পাঠ করেন আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিল্পী রাণী সরকার। পরে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে মানপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি মনোজ সরকার খোকন ও অরবিন্দু দাসের যৌথ সভাপতিত্বে এবং অনাদি তালুকদার ও পল্লবী চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেওয়া শিক্ষকরা শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁরা নবীন শিক্ষকদের প্রতি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও আদর্শ অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
উপস্থিত ছিলেন ,শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নগেন্দ্র চন্দ্র সরকার
গোবিন্দ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিপাল দাস মিল্টন
শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল
শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল, জাকির হোসেন ও আঃ করিম মাস্টার
এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
ধামাইল গান পরিবেশন ও খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালতলীতে সেতু ভেঙে ভোগান্তিতে পড়েছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী (বরগুনা)প্রতিনিধি

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


তালতলীতে সেতু ভেঙে ভোগান্তিতে পড়েছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে
 
 
বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি গত বুধবার গভীর রাতে আকস্মিক ভেঙে খালে পড়ে যায়। সেতু  ভেঙে পড়ায় তালুকদারপাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সেতু ভেঙে পড়ায় তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও  তালুকদারপাড়া সরকারী প্রাথমিক দ্যিালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পরেছে মহাবিপাকে। তারা এখন নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছে। তাই নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। 
 
তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে আমতলী উপজেলা (তৎকালীন) প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী গ্রামের সংযোগ স্থাপনের জন্য বগীরদোনা খালের ওপর  ৬০ ফিট দৈর্ঘ ও ৮ ফিট প্রস্তের একটি লোহার সেতু নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আকস্মিক সেতুটি ভেঙে খালে পরে যায়। সেতুটি ভেঙে খালে পড়ায় মৌরভী, পাওয়াপাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়াইতলীসহ চার গ্রামের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয় যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
 
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি, রেহেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা নৌকায় পার হচ্ছি। মৌরভিপাড়ার বাসিন্দা  জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত আমরা এখানে একটা সেতু নির্মাণ দাবী করছি।
 
তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন  নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে উপস্থিতির হার যেমন কমেছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পরেছে।
 
তালতলী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরী ভিত্তিতে আপদকালীন একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%