ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও হবে দেশের সম্পদ : ডিসি ফরিদা


সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও হবে দেশের সম্পদ : ডিসি ফরিদা

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন ‘মায়ার বাঁধন’-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ফরিদা খানম বলেন, প্রতিবন্ধকতা কখনোই মানুষের মেধা, প্রতিভা ও সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করতে পারে না। এর উজ্জ্বল উদাহরণ বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তার জীবন আমাদের শেখায়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের মেধা ও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই শিশুদের মধ্যেও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি তাদের সীমাবদ্ধতার পরিবর্তে সক্ষমতা ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দিই এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করি, তাহলে তারাও একদিন পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি করুণা নয়, প্রয়োজন সম্মান, ভালোবাসা ও সুযোগ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একটি শিশুর প্রতিবন্ধকতা তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না; বরং সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগই তার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

‘মায়ার বাঁধন’-এর এক দশকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ফরিদা খানম বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মমতা ও যত্নে আগলে রেখে সংগঠনটি যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব শিশুর পাশে থেকে সংগঠনটি শুধু সেবা নয়, তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কাজও করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অনেক অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে— তারা না থাকলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে। সেই উদ্বেগ দূর করতে ‘মায়ার বাঁধন’-এর স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

এ সময় জেলা প্রশাসক, অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘মায়ার বাঁধন’-এর সভাপতি মোসা. ফওজিয়া ইয়াসমীন সভাপতিত্ব করেন। এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, সংগঠনের সদস্য ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ৯৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন এতিম এবং ১১ জনের শুধু মা রয়েছেন। শিশুদের মাঝে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

‘মায়ার বাঁধন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে গত এক দশক ধরে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ‘মায়ার বাঁধন’-এর স্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা-হেরোইন-গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা-হেরোইন-গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মৃত রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)।

এর মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে যা বললেন আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে যা বললেন আইনমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যম অঙ্গনে চলা আলোচনার মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবিধান মেনেই শপথ গ্রহণ করেছেন এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।

একই সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘ক্যাজুয়াল’ ও ‘ইনফরমাল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে খুব বেশি গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছেন। এই বিষয়ে জানতে হলে সরাসরি তার সঙ্গেই কথা বলা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বক্তব্যটি যেভাবে এসেছে তার চেয়ে সেটি কীভাবে বলা হয়েছে তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। উনি কিছুটা ক্যাজুয়াল ও ইনফরমাল ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন। এটিকে সিরিয়াসলি না নেওয়াটাই সমীচীন হবে। তবে প্রয়োজন মনে করলে সরকার বিষয়টি পরবর্তীতে খতিয়ে দেখতে পারে।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাগরিকত্ব বিষয়ে পরোক্ষ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি... কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার?’ প্রতিমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরই মূলত এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

ঢাকা, ২৫ আগস্ট. ২০২৬ : সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাত ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলাগুলোতে মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুদকের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আরামিট সিমেন্ট পিএলসি সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে কোনো প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, জুবলী রোড শাখা থেকে অর্থ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক জানায়, প্রথম ঘটনায় ২০১৮ সালের ২০ মার্চ আরামিট সিমেন্ট পিএলসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনায় ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, কামাল বাজার শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ১৭টি ডিলের মাধ্যমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তৃতীয় ঘটনায় ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, সদরঘাট শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে নয়টি ডিলের মাধ্যমে গ্রাহকের ইকুইটি ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের মালিক ও তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন। পরে আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী দেখিয়ে ডিল অনুমোদন করানো হয়। অনুমোদিত ঋণের অর্থ বিভিন্নভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের পর নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং ইউএইতে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পাচার করা অর্থ দিয়ে ইউএইতে সম্পদ কেনা হয় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে অর্থ আত্মসাতের ‘আলটিমেট বেনিফিশিয়ারি’ ও অন্যতম হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুকমীলা জামানকে আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদন এবং ভুয়া সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডিল অনুমোদন করিয়ে অর্থ আত্মসাত ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

আরামিট সিমেন্টের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলমের বিরুদ্ধে মালামাল সরবরাহ না হলেও ভুয়া ও মিথ্যা আবেদন করে ডিল অনুমোদন করানো এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর, নগদ উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ ও ইউএইতে পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরামিট সিমেন্টের এজিএম মো. আব্দুল আজীজের বিরুদ্ধে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক সেজে ভুয়া সরবরাহকারী হিসেবে আবেদন করা এবং ডিল অনুমোদন করানোর অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি আরামিট গ্রুপের এজিএম এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পিএস হিসেবেও কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব খোলা, ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল এবং অর্থ পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

আরামিট সিমেন্টের এজিএম একেএম মারুফের বিরুদ্ধেও মালামাল সরবরাহ না হলেও ভুয়া ও মিথ্যা আবেদন করে ডিল অনুমোদন করানোর অভিযোগ রয়েছে।

মামলাগুলোতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির জুবলী রোড শাখার একাধিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মুহাম্মদ তানভীর হাসান, মো. আবদুল কাদের, মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মোহাম্মদ আখতার হোসেন, মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, মো. আশরাফ উদ্দীন, মোহাম্মদ রাশেদ সাদাত, আকতারুল আজীম, মো. মহিউদ্দীন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, মো. শহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ, মোহাম্মদ মহসীন আলী, আবুল কালাম আজাদ ও শেখ মনিরুজ্জামান।

এ ছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, কামাল বাজার শাখার মো. রুবেল উদ্দিন, কে এ এ এম ইয়াসির হেলালী ও ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আগ্রাবাদ শাখার মো. এমদাদুল হাসান ও খোরশেদ আলমকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা ডিলের বিপরীতে কোনো মালামাল সরবরাহ না হলেও অফিস নোট, পে-অর্ডার ইস্যু ইন্সট্রাকশনসহ বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আব্দুল আজীজ আরামিট গ্রুপের এজিএম ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পিএস হওয়া সত্ত্বেও তাকে সরবরাহকারী দেখিয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল এবং ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। পরে অর্থের প্রকৃত গন্তব্য অনুসন্ধান না করে অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং ইউএইতে পাচারে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইল ঢাকা ক্লিনিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক হেনেস্তার শিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


টাঙ্গাইল ঢাকা ক্লিনিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক হেনেস্তার শিকার

টাঙ্গাইল শহরের ঢাকা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম এ পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ সংগ্রহের সময় সাপ্তাহিক সমাজচিত্র পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যান পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রানা হেনেস্তারার শিকার হয়েছেন।

এই ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মী মো. সোহেল রানা টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকা ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদরাতুল কুরআন অ্যান্ড ব্রাইটফিউচার স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়।

সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোহেল রানা, সাংবাদিক মো. শহিদুল ইসলাম টিটু এবং দৈনিক যুগ যুগান্তর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি তানিয়া ইসলাম ঢাকা ক্লিনিকে যান।

সাংবাদিক সোহেল রানা জানিয়েছেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় ঢাকা ক্লিনিকের ম্যানেজার মো. সরোয়ার, মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. ওমর বাবু, সহকারী ম্যানেজার কৃষ্ণ ঘোষ এবং একজন চিকিৎসকের সহকারী মো. মশিউর রহমান তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে ক্লিনিকের ভেতরে আটকে রাখা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, কৃষ্ণ ঘোষের নির্দেশে সরোয়ার নারী গণমাধ্যমকর্মী তানিয়া ইসলামের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তাকে হেনস্তা করেন।

এ সময় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওমর বাবু ক্লিনিকের গেট বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্ধার করে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তাদের পুনরায় সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা করলে হত্যা করে লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীরা।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঢাকা ক্লিনিকে সাংবাদিক হেনেস্তার ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%