ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এনজো ফার্নান্দেজ রেফারিকে ‘ফাউল করলেন’ ম্যানসিটির বিপক্ষে ম্যাচে


এনজো ফার্নান্দেজ রেফারিকে ‘ফাউল করলেন’ ম্যানসিটির বিপক্ষে ম্যাচে

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটির ৪-২ গোলের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এনজো ফার্নান্দেজ ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। যদিও ম্যানচেস্টার সিটি এই ম্যাচে পরাজিত হয়েছে, তবে তার চেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে জার্মান রেফারি সভেন ইয়াভলোনস্কির সাথে এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে পিএসজি তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দলের হয়ে দিজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে এবং ভিতিনহা দুর্দান্ত পারফর্ম করে লক্ষ্যভেদ করেন। এরপর আর্লিং হালান্ড সিটির হয়ে দুটি গোল পরিশোধ করলেও, মাঘনেস আক্লিওচে আরেকটি গোল করে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তটি ঘটে খেলার একটি সাধারণ সময়ের মধ্যে। বলের দিকে দৌড়ানোর সময় রেফারির কারণে এনজো ফার্নান্দেজের দৌড়ের পথ আটকে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আর্জেন্টাইন তারকা তার গতিপথ সামান্যও পরিবর্তন করার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি সোজাসুজি রেফারির পিঠে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারেন।

আরও পড়ুন: চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত থাকলেও যেন ছাড় না দেয়: মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু

রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে, এনজো তার দুটি হাত রেফারির পিঠে রেখে সজোরে ধাক্কা দেওয়ার ভঙ্গিতে বাহু প্রসারিত করেন। এর ফলে রেফারি সভেন ইয়াভলোনস্কি মাটিতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি হতভম্ব হয়ে পেছনে তাকিয়ে ঘটনাটি দেখার চেষ্টা করেন। অথচ এনজো এরপর লুজ বলের পেছনে না ছুটে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থেকে বল গড়িয়ে চলে যাওয়া দেখতে থাকেন। রেফারি এরপর কোনো বড় ধরনের শাস্তি না দিয়ে শান্তভাবেই খেলা পরিচালনা করতে থাকেন।

রেফারির গায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে হাত তোলার পরও কোনো ধরনের কার্ড বা শাস্তি না পাওয়ায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত এবং টিভির সামনে থাকা ফুটবল ভক্তরা হতবাক হয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল সমালোচনার ঝড়।

এক ফুটবল ভক্ত সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ‘এনজো ফার্নান্দেজ তো আসলে রেফারিকে ফাউল করে বসেছেন শুধু নিজের দৌড়ের পথ আটকে দেওয়ার জন্য!’ আরেক ভক্তের মনে প্রশ্ন, রেফারির সঙ্গে এমন ঘটনার পরও এনজো কীভাবে লাল কার্ড পেলেন না?

আরও পড়ুন: দিবালা-মার্তিনেজসহ আর্জেন্টিনার ৫ তারকা চোটে, উদ্বিগ্ন স্কালোনি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা আরামকোতে হামলার দাবি হুতিদের, আরও হামলার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


সৌদি আরবের তেল স্থাপনা আরামকোতে হামলার দাবি হুতিদের, আরও হামলার হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বুধবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর আগে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, জ্বালানি খাতের এ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাকেন্দ্রের কাছে একটি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট, যা হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, জানিয়েছে যে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হয়েছে। এ সময় শহরের মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের হামলাটি ছিল কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধের তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় তাদের শক্ত ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সানা বহু বছর ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রিয়াদ থেকে এএফপি জানাচ্ছে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তাদের বাহিনী ‘ধাহরানে আরামকোকে লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত-নির্ভুল সামরিক হানলা’ চালিয়েছে। তিনি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দর ও রাজধানীর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘আগামী দিনগুলোতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় সৌদি শত্রুপক্ষের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।’

এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধাহরানে আরামকোর একটি ভবনে হামলা হয়েছে। এতে ‘সীমিত অগ্নিকাণ্ড’ ঘটলেও কেউ আহত বা নিহত হননি।

ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর অবস্থিত, যেখানে অসংখ্য ভবন ও আবাসিক কমপ্লেক্স রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মী জানান, রাতের বেলায় সদর দপ্তরের একটি টাওয়ারে আঘাত হানা হয়।

তাদের একজন বলেন, ‘ওপরের তিনটি তলা আর নেই।’ এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্রও হামলা এবং ভবনটিতে আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এএফপিকে ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি, ফলে ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরবে অধিকাংশ হামলা রাজধানীর উপকণ্ঠের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হলেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো ক্রমেই শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি চলে আসছে বলে মনে হচ্ছে।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে বাসিন্দাদের গাড়ি থামিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের সাদা ধোঁয়ার রেখা দেখা যায়। এর পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

শহরের একটি প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, একটি বিপণিবিতানের ওপর দিয়ে ‘আকাশে একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তু ছুটে যেতে দেখেছি’।

তার ভাষ্য, বস্তুটি যাওয়ার সময় ‘হলদেটে আলোর রেখা, এরপর ধোঁয়ার রেখা’ দেখা যায়। পরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ শান্ত ছিল; কেউ কথা বলছিল না। আমরা ভীত ছিলাম এবং সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।’

রিয়াদে এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, বুধবারও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় মুঠোফোনে পাঠানো সতর্কবার্তায় ‘আকাশপথে হুমকি’র কথা জানিয়ে মানুষকে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে হুতিদের মুখপাত্র সারি বলেন, গোষ্ঠীটি আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট মঙ্গলবার ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালায়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেন, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল এমন স্থাপনা, যেগুলো ‘রাজ্য, ইয়েমেন, দক্ষিণ লোহিত সাগর ও নৌপথের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে’ ব্যবহৃত হচ্ছিল।

২০১৫ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এ যুদ্ধ দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জ্বালানির ঘাটতির আশঙ্কায় বহু বেসামরিক মানুষকে পেট্রল পাম্পের সামনে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বলে এএফপির এক সাংবাদিক জানান।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সূত্রপাত শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার মধ্য দিয়ে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হন। ২০১৫ সালের পর সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ‘দেশটির নিরাপত্তা কিংবা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে দেওয়া হবে না।’

এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের যানজটপূর্ণ সড়কগুলোতে এ সপ্তাহে যানবাহনের চলাচল লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। সব স্কুলে দূরশিক্ষণ চালু এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের ফুটবল লিগ (এসপিএল) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আল নাসর-সংশ্লিষ্ট ম্যাচসহ তিনটি খেলা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

আয়োজকেরা আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা থাকা ‘সিক্স কিংস স্ল্যাম’ টেনিস টুর্নামেন্টও পিছিয়ে ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে হুতি হামলা সত্ত্বেও চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে বড় একটি বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরব। ‘মরুভূমির দাভোস’ নামে পরিচিত এ সম্মেলনে সশরীরে ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিকল্প আকাশপথ ও স্থলপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের কারণে সৌদি আরবের বাণিজ্যও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে জুলাইয়ে ইয়েমেনের স্থগিত যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ায় সংঘাত সৌদি আরবের নিজ ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে। লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা দেশটির বিকল্প রপ্তানি পথকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন পরিকল্পনা, স্থাপিত হবে শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন পরিকল্পনা, স্থাপিত হবে শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য বিষ প্রয়োগের কারণে এর জলজ জীববৈচিত্র্য চরম সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, সরকার একটি বিশেষ ‘বিষ শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা অবৈধভাবে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধে কার্যকর হবে। আশা করা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আগামী বছর থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলে রাসায়নিক ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ ধরার অপরাধ আদালতে প্রমাণ করা সহজ হবে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, এর ফলে অবৈধ মাছ শিকার অনেকাংশে কমে যাবে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষাক্ত রাসায়নিক পরীক্ষা ও শনাক্তকরণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই এটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে নিয়মিত অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তার করা হলেও, দ্রুত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় আদালতে অপরাধ প্রমাণ করতে সমস্যা হয়। উপযুক্ত কিট ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া জব্দকৃত মাছ বিষাক্ত নাকি খাওয়ার জন্য নিরাপদ, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই কারণে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তরা অনেক সময় ছাড়া পেয়ে যায়।

বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের ঘটনায় ৭৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৭৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই অভিযানে ৮৭ বোতল ও ২ লিটার বিষ, ২৪৩.৫ কেজি চিংড়ি, ২১০ কেজি সাদা মাছ, ৭৩৬ কেজি কাঁকড়া, ১৪৪টি নৌকা এবং ১২৫টি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। ল্যাবরেটরির সঙ্গে কিটও থাকবে, যাতে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, মাছে প্রয়োগ করা বিষ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করতে না পারলে বিষয়টি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ নিরাপদ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, সরকার সাময়িকভাবে বিদেশ থেকে টেস্ট কিট আমদানি করতে পারে। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে দ্রুত পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে বিষাক্ত পানি ছড়িয়ে পড়লে জলজ পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীদের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ড. সুজাত আহমেদ জানান, বিষাক্ত বা রাসায়নিকযুক্ত মাছ নিয়মিত খেলে তা রক্তের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং লিভার সিরোসিস, কিডনি রোগ ও পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ বিষ শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি দ্রুত স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও গবেষকরা। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পেতে নতুন শর্ত ও ন্যূনতম বয়স জানাল ইউএসসিআইএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৪ এম


মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পেতে নতুন শর্ত ও ন্যূনতম বয়স জানাল ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করার মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করা সম্ভব নয়। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে বয়স, গ্রিন কার্ড, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত। আবেদনকারীর জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)।

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩১৯(ক) ধারার আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে, আবেদনকারীকে অন্তত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। সাধারণত, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর থেকে এই সময় গণনা করা হয়। শুধুমাত্র বিয়ের মাধ্যমে এই সুযোগ লাভ করা সম্ভব নয়।

আবেদনকারীর জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদন জমা দেওয়ার পূর্ববর্তী তিন বছর ধরে তাকে মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত বৈধ বিবাহ বজায় রাখাও আবশ্যক।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত

নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে অন্তত তিন মাস সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত এলাকায় বসবাস করতে হবে। এছাড়া, আবেদন জমা দেওয়ার আগের তিন বছরে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে।

বিদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে স্থায়ী বসবাসের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটানো সময়সহ নিজের বসবাসের রেকর্ড যাচাই করা জরুরি।

ভালো নৈতিক চরিত্রও জরুরি

নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদনকারীকে আবেদন জমা দেওয়ার পূর্ববর্তী অন্তত তিন বছরের ভালো নৈতিক চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে। শপথ নেওয়ার সময় পর্যন্ত এই যোগ্যতা বজায় রাখা আবশ্যক। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতির প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইন মেনে চলার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত পূরণ হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করতে পারে।

ইংরেজি ও নাগরিকত্ব পরীক্ষাও দিতে হবে

আবেদনকারীদের সাধারণত ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা বিষয়ে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তবে নির্দিষ্ট বয়স, দীর্ঘস্থায়ী বসবাস অথবা প্রতিবন্ধকতার মতো কিছু পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ছাড় পাওয়া যেতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। আবেদন অনুমোদিত হলেও নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার আগে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হন না।

পাঁচ বছরের নিয়মও রয়েছে

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর বসবাস করতে হয়। তবে, মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তিন বছরের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কিছু স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।

অতএব, বিয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে নিজের অভিবাসন-অবস্থা অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা, দেশটির অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল নিনোর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপদ, ঝুঁকিতে ১৫ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


এল নিনোর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপদ, ঝুঁকিতে ১৫ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এল নিনোর আগমনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একটি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, রাজ্যটির ৫৭টি বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে, যদি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি বাঁধ ভেঙে পড়ে, তাহলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। পাশাপাশি, ২৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৭টি বাঁধ দুর্বল বা অসন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। আগের হিসাবের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে। পুরোনো বাঁধগুলোর অবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ছড়িয়ে থাকলেও ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় শহরগুলোর আশপাশে এগুলোর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চল, সান ডিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ২০১৭ সালে অরোভিল বাঁধের পানি নিষ্কাশন পথের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। ওই ঘটনার পর, আইনপ্রণেতারা বাঁধের নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী মালিকদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য কর্তৃপক্ষকে প্রদান করেন।

তবে, নিরীক্ষায় দেখা গেছে, নিরাপত্তার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ৪৪টি বাঁধের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও, রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগ এখন পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। নিরীক্ষকদের মতে, নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করতে ব্যর্থ বাঁধমালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় জননিরাপত্তার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

পানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে আলাদা প্রয়োগকারী শাখা যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, শুনানিতে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে লড়াই করার ব্যয় বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও কর্মকর্তাদের উদ্বেগ রয়েছে।

৩০ বছরেও মেরামত হয়নি বিশাল গর্ত

নিরীক্ষায় এমন একটি বাঁধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার পানি নিষ্কাশন পথে ৪৭ ফুট চওড়া একটি গর্ত রয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটি মেরামত করা হয়নি। নিরীক্ষকের হিসাব অনুযায়ী, ওই বাঁধের ত্রুটির কারণে বন্যা হলে প্রায় ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এবং ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বাঁধটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করলে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রতিটি বাঁধের ঝুঁকির মাত্রা ও অবস্থা প্রকাশ করা হয়।

মেরামতে প্রয়োজন ২৮০০ কোটি ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ার এক হাজার ২২০টির বেশি বাঁধের নিরাপত্তা তদারক করে রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগ। তবে এসব বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পানি সংস্থা এবং বেসরকারি মালিকদের ওপর। নাজুক অবস্থায় থাকা কিছু বাঁধের মালিক সরকারি সংস্থাও।

অনেক বাঁধ কয়েক দশক আগে নির্মিত হয়েছে, যখন নিরাপত্তার মানদণ্ড তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাঁধের মালিকদের নিরাপত্তা মেরামতের জন্য আগাম অর্থ জমা রাখার বাধ্যবাধকতাও ছিল না। ফলে কংক্রিট ক্ষয়ে যাওয়া, পলি জমা এবং বন্যার পানিতে পানি নিষ্কাশন পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলেও অনেক মালিকের মেরামতের সামর্থ্য নেই।

নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, নাজুক অবস্থায় থাকা বাঁধগুলো মেরামত করতে প্রায় ২৮০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। অথচ ২০২৪ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে মেরামত কর্মসূচির জন্য ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ আসে। এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়াকে ৬ লাখ ২৯ হাজার ১৯৮ ডলার অনুদান দিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় এ অর্থ খুবই সামান্য।

জরুরি পরিকল্পনাও অসম্পূর্ণ

নিরীক্ষক আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির বাঁধগুলোর মালিকদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ বন্ধ করে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে, বন্যা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনাও অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে মানুষ ও সম্পদ রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা উল্লেখ করে ২৪৫টি বাঁধের জরুরি পরিকল্পনা এখনো অনুমোদন করেনি রাজ্যের জরুরি সেবা দপ্তর। বাঁধমালিকেরা প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষ না করায় এসব পরিকল্পনা আটকে আছে। এ ক্ষেত্রে আইনেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

রাজ্যের পানি সম্পদ বিভাগের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক লরা হলেন্ডার বলেছেন, নিরীক্ষকের সঙ্গে তাদের বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। তবে প্রতিবেদনের কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের সঙ্গে তারা একমত নন। তারপরও সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জননিরাপত্তা রক্ষা তাদের বিভাগের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বন্যার ঝুঁকি কমাতে বাঁধের নিরাপত্তা ও বন্যা প্রতিরোধী বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%