ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তুরস্কে বেটিং কেলেঙ্কারিতে ১৪৭ ক্লাব কর্মকর্তা নিষিদ্ধ


তুরস্কে বেটিং কেলেঙ্কারিতে ১৪৭ ক্লাব কর্মকর্তা নিষিদ্ধ

তুরস্কের ফুটবলে বেটিংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১৪৭ জন বর্তমান ও সাবেক ক্লাব কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে বাজি ধরার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে তাঁদের ৪৫ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ লিগের ক্লাব ট্রাবজোনস্পরের সভাপতি এরতুঘরুল দোয়ানও।

মঙ্গলবার, টিএফএফের পেশাদার ফুটবল শৃঙ্খলা বোর্ড ৪৪৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তদন্তে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই সময়কালীন তাঁরা ফুটবল সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাকি ৩০১ জনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে তুরস্কের শীর্ষ দুই বিভাগের ক্লাবগুলোর ৪৪৮ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে বেটিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল দলের ৫ ম্যাচে ১৪৬ গোল হজম

তুর্কি ফুটবলে বেটিং-সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধে ফেডারেশনের কার্যক্রম নতুন নয়। গত বছর বড় ধরনের বেটিং কেলেঙ্কারির পর ১৪৯ জন রেফারি ও ১ হাজার ২৪ জন খেলোয়াড়কে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল। তাঁদেরও বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফুটবলে বাজি ধরার নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে টিএফএফের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির বাসভবনের কাছে রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


মোদির বাসভবনের কাছে রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিস

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও)। গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত নোটিসে বলা হয়েছে, মসজিদটি ছয় দিনের মধ্যে খালি করতে হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। এর পূর্বে, ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ দাবি করেছে, মসজিদটি নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষার জন্য হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। তারা আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ ভাঙার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিজিজু বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাস ধরে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে আবেদন জানিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ তিনি পাননি। তার মতে, ২০২১ সালের এক জরিপে মসজিদটিকে অবৈধ স্থাপনা বা দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি হাইকোর্ট ওই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করার অনুমতি দিয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেওরা কেন্দ্রে শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পেল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পেল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ১০

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বোয়িংয়ের সবচেয়ে বড় ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল, ম্যাক্স ১০, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন লাভ করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন উড়োজাহাজটিকে এই অনুমোদন দেয়। এর ফলে উড়োজাহাজটির বিক্রি ও সরবরাহের পথে একটি বড় বাধা দূর হলো। তবে, বিমান সংস্থাগুলোর কাছে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বোয়িংয়ের জন্য এই অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপত্তা, নির্মাণের মান এবং উৎপাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজটির অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওয়াশিংটনের এভারেট শহরে বোয়িংয়ের উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এই অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, "ব্যাপক নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং হাজার হাজার ঘণ্টার পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি অনুমোদন পেয়েছে।" তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্য একটি বড় অর্জন।

বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিভাগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ বলেন, "এই অনুমোদনের ফলে এমন একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের পথ খুলেছে, যা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন মান তৈরি করবে।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এ অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"

এক উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী

বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক্স ১০-এ সাধারণত ১৮৫ থেকে ২১০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। তুলনায় ম্যাক্স ৯-এ ১৭৫ থেকে ১৯৫ জন এবং ম্যাক্স ৮-এ ১৬০ থেকে ১৮০ জন যাত্রী বহন করা যায়।

বড় উড়োজাহাজ হওয়ায়, বিমান সংস্থাগুলো একই ফ্লাইটে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। এতে প্রতিটি আসনের বিপরীতে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। জনপ্রিয় রুটগুলোতে আসনসংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে যাত্রীদের টিকিটের দাম কমবে কি না, তা বিমান সংস্থাগুলোর উড়োজাহাজ ব্যবহারের ধরন ও বাজারে প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।

বিলম্বে আটকে ছিল হাজারের বেশি উড়োজাহাজের সরবরাহ।

২০১৭ সালে প্যারিসে এক আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ প্রদর্শনীতে ম্যাক্স ১০-এর ঘোষণা দেয় বোয়িং। ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মডেলটি তৈরি করা হয়। তবে, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্তের কারণে এর অনুমোদন বারবার পিছিয়ে যায়।

বোয়িংয়ের কাছে এখনো বিশ্বের ৩০টির বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে ১ হাজার ৫৫৫টি ম্যাক্স ১০ উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটির ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের মোট বকেয়া ক্রয়াদেশের ৩০ শতাংশেরও বেশি এই উড়োজাহাজের। এর বড় গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস ও রায়ানএয়ার। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইনস ১০৫টি ম্যাক্স ১০ কেনার আদেশ দেয়। প্রয়োজনে আরও ৩৫টি কেনার সুযোগও রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নজরদারি।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে বোয়িংয়ের ছোট মডেল ম্যাক্স ৮-এর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়ায় মোট ৩৪৬ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার পর বোয়িংয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উড়োজাহাজ তৈরির মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

২০২৪ সালে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজ আকাশে থাকা অবস্থায় এর গায়ের একটি প্যানেল খুলে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

দুর্ঘটনাগুলোর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করে। তবে গত ১৮ মাসে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ উৎপাদনের সীমা বাড়ানোও রয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে ম্যাক্স ৭ মডেলটিও বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবহারের অনুমোদন পায়। ফলে ম্যাক্স ৭ ও ম্যাক্স ১০—দুটি মডেলের অনুমোদন একই বছরে পাওয়াকে বোয়িংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

ম্যাক্স ১০-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের এ৩২১নিও মডেল। ২০১৭ সালে যাত্রী পরিবহন শুরু করা এই মডেল পরিবারের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজটি ম্যাক্স ১০-এর চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করতে পারে এবং জ্বালানি না নিয়েও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

তবে পুরোনো উড়োজাহাজের তুলনায় বেশি যাত্রী বহন এবং কম জ্বালানি খরচের লক্ষ্য নিয়ে ম্যাক্স ১০ তৈরি করেছে বোয়িং। জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর কাছে এই বৈশিষ্ট্য আকর্ষণীয় হতে পারে।

অনুমোদনের অর্থ, উড়োজাহাজটির নকশা নিরাপত্তার নির্ধারিত মান পূরণ করেছে। তবে বোয়িংকে নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি উড়োজাহাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি উড়োজাহাজকেও আলাদাভাবে ছাড়পত্র নিতে হবে।

এছাড়া জুলাইয়ে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বোয়িংকে উৎপাদনকেন্দ্রেই ম্যাক্স ৭৩৭ ও ৭৮৭ উড়োজাহাজের উড্ডয়নযোগ্যতার সনদ দেওয়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। এতে তৈরি হওয়া উড়োজাহাজ উড্ডয়নের উপযোগী কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কিছু দায়িত্ব ফিরে পেয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলি-প্রত্যাহারেও থামছে না সিএমপি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


বদলি-প্রত্যাহারেও থামছে না সিএমপি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। তবুও, গত এক বছরে অন্তত ছয়টি ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তাকে বদলি বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক আত্মসাৎ, ক্রিকেটারকে মারধর, চাঁদাবাজি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা, নাগরিককে তুলে নিয়ে টাকা আদায় এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ ওঠার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, সংযুক্ত বা বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সংখ্যা বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বদলি বা প্রত্যাহার করা হলে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ যাচাই এবং দোষ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে এটি শাস্তির চেয়ে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরে আনার সময় এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, চালানটি আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ না দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয় এবং বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিএমপির নিজস্ব তদন্তে দেখা গেছে, কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন রাতে তাকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে গত জুনে। এরপর খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়। ১৪ জুন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ আদেশ দেন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের সোর্স হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনে প্রত্যাহার

সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় মুহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়। সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক থেকে ১৮ জুন তাকে সদরঘাট থানায় পদায়ন করা হয়েছিল। এর আগে তিনি সিটি এসবি ও ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ৫ জুলাই সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিএমপির সাবেক কমিশনার ও বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারকচক্রের মূল হোতা জুবাইরুল হক জিয়ান প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের কণ্ঠ নারীকণ্ঠে রূপান্তর করে টার্গেটদের সঙ্গে কথা বলতেন। এই চক্রের সঙ্গে সিএমপির দুই ওসি বাবুল আজাদ ও জাহেদুল ইসলামের যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

হাসিব আজিজ ফাঁদে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, পরিচয় ভুয়া বুঝতে পেরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। প্রতারক তাকে দিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করাতে পারেনি।

ঘটনা প্রকাশের পর ২৩ আগস্ট এক অফিস আদেশে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি জাহেদুল ইসলামকে সিটি এসবিতে বদলি করা হয়। এর আগেই বাবুল আজাদকে ওসির পদ থেকে সরিয়ে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে (দক্ষিণ) বদলি করা হয়েছিল।

আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দীন রাজুর বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী লুৎফুর নেছার অভিযোগ, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদপুরের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যান। কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা লিখিত নোটিস ছিল না। তাকে ডিবি উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিয়ে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা দিতে রাজি হলে কম্পিউটারে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা তৈরি করে জোর করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী ঘটনার নেপথ্যে একটি ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। লুৎফুর নেছার স্বামী ফজলুল কাদের বাদশা সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করেন। ২০২৪ সালে সেখানে ফটিকছড়ির বাসিন্দা নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজন যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন। লোকসান হলে নাজমুল দেশে ফিরে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ফজলুল কাদের বাদশার স্ত্রীকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, স্বর্ণালংকার বিক্রি ও ধারদেনা করে ওই দম্পতি এক কোটি ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে পরিশোধ করেন। বাকি এক কোটি ৪০ লাখ টাকা কিস্তিতে দিতে চাপ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে পাঁচলাইশ থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যেতে বলে। পরে ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে তিনি পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত এসআইকে বদলি করা হয়।

মহিউদ্দীন রাজু টাকা নেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এক ব্যক্তির স্বর্ণসংক্রান্ত আর্থিক অভিযোগ পেয়ে তিনি দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন।

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ আদায়

সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর সিএমপির ল অ্যান্ড অর্ডার ইন্টেলিজেন্স সেলের (এলআইসি) সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজন ও তার দলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পলিপ্রপিলিন ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে হালিশহর থেকে সাদা পোশাকে তুলে এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জুয়ার মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য ডিভাইসে নেওয়া হয়। বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০ হাজার ৮৬৪ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি তিন দফায় স্থানান্তর করানো হয়। রাতে এটিএম বুথ থেকে পাঁচ দফায় চার লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করা এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগও আছে। প্রথমে এক কোটি টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন তারা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা এখনো মামলা করেননি।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

একাধিক ঘটনার পর থানা ও গোয়েন্দা শাখায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, পদায়ন ও বদলিতে স্বচ্ছতা না থাকলে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা এবং সিদ্ধান্তের জবাবদিহি থাকা দরকার। কেউ প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশে পদায়ন-বদলি প্রভাবিত করেছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুরো বাহিনী নেবে না। মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জনগণের পুলিশ হওয়া, নিপীড়ক হওয়া নয়। পুলিশের ভালো কাজের মাপকাঠি হলো নাগরিক সন্তুষ্টি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন বান্দরবানের পুলিশ সদস্য অনিক দাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন বান্দরবানের পুলিশ সদস্য অনিক দাশ

চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে খুলশী থানা পুলিশ চার সহযোগীসহ বান্দরবান জেলা পুলিশের কনস্টেবল অনিক দাশকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এই পুলিশ সদস্য ছুটিতে থাকাকালীন একটি চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় বান্দরবানের ওই পুলিশ কনস্টেবল এবং তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। ওই সদস্যের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল অনিক দাশসহ অন্যান্যদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই পুলিশ সদস্যের চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার কারণে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চট্টগ্রাম শহরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় ওই কনস্টেবল আটক হয়েছেন। মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%