বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৫ পি.এম
মাগুরার এক গ্রাহকের নামে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল এসেছে। এই বিল আসার পর মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ওই গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই ভৌতিক বিলটি ইস্যু করা হয়েছে।
বিলের কপি অনুযায়ী, এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। এই বিদ্যুত খরচের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
প্রকৃতপক্ষে, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে গ্রাহকের বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’।
এ বিষয়ে গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, "এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।"
শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুত সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন হওয়ার কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই দায়িত্বহীন ভুলের পেছনে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, "টাইপিং মিসটেকের কারণে এমনটি হয়েছে। আজ বিলটি সংশোধন করে দেয়া হয়েছে উক্ত গ্রাহক বিলও পরিশোধ করেছেন। এ ভুলের সাথে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, মাদক, মোবাইল আসক্তি ও জুয়াসহ সব ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে সমাজ এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাগুরা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মাগুরা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’ সম্পর্কিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে বিনোদনের পাশাপাশি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২ অক্টোবর মাগুরা স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল’ প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে।
এছাড়া তিনি জানান, খেলার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন অংশগ্রহণ করবেন। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে জেলায় ক্রীড়ামোদী মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি করতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উক্ত ব্রিফিং সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) আরিফুল ইসলাম সরদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) আব্দুল কাদের, মাগুরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তির পর থেকেই দক্ষিণী তারকা নানির বড় বাজেটের সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’ নানা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। সিনেমাটির অতিরিক্ত হিংস্রতা এবং অ্যাকশন দৃশ্যের আধিক্য নিয়ে আপত্তি উঠলেও, বক্স অফিসে এটি এগিয়ে চলেছে। মুক্তির ষষ্ঠ দিনে ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১৫০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে।
বক্স অফিস সম্পর্কিত ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ছয় দিনে ভারতে সিনেমাটির নেট আয় ১০১ কোটি ৫০ লাখ রুপি দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে এর মোট আয় বা গ্রস সংগ্রহ ১২০ কোটি রুপি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির ষষ্ঠ দিনে ভারতের ৫ হাজার ৭৭২টি প্রদর্শনী থেকে ‘দ্য প্যারাডাইস’ ৪ কোটি ৪০ লাখ রুপি আয় করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একই দিনে ছবিটির আয় ৫০ লাখ রুপি। ফলে বিদেশের বাজারে সিনেমাটির মোট গ্রস সংগ্রহ ৩০ কোটি ৫০ লাখ রুপি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘দ্য প্যারাডাইস’-এর মোট গ্রস আয় ১৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অর্থাৎ, মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই নানির সিনেমাটি দেড় শ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
তবে বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটি নিয়ে সমালোচনাও অব্যাহত রয়েছে। ছবির অতিরিক্ত হিংস্রতা ও অ্যাকশন দৃশ্যের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে সমালোচকদের একাংশ আপত্তি তুলেছেন।
তাদের মতে, প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্যকে আগেরটির চেয়ে আরো তীব্র করে তোলার চেষ্টা এবং একের পর এক নৃশংস দৃশ্যের উপস্থাপন অনেক ক্ষেত্রে সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি নারী চরিত্র সুব্বলক্ষ্মী। সিনেমায় সুব্বলক্ষ্মী দরিদ্র পরিবারের এক তরুণী। অর্থের প্রয়োজনে সে নিজের কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করে। তবে কেন সে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে, তার নিজের ইচ্ছা কী এবং কিভাবে সে এই বাস্তবতার সঙ্গে লড়ছে—এসব বিষয়ে খুব বেশি অনুসন্ধান করা হয়নি বলে সমালোচনা উঠেছে।
বিতর্ক আরও বাড়ে একটি সংলাপকে ঘিরে। সুব্বলক্ষ্মীর মা তাকে ‘সিঙ্গেল শট অভিনেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। চরিত্রটির শরীর ও ভিডিও তৈরির বিষয়টি যেভাবে পর্দায় দেখানো হয়েছে, সেটিকে অনেকে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এখানে সমালোচনার বিষয়টি শুধু একটি দৃশ্যের ভালো বা খারাপ হওয়া নয়। বরং সিনেমার মূল বক্তব্যের সঙ্গে নারী চরিত্রের উপস্থাপনার সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। যে সিনেমা প্রান্তিক মানুষকে ‘মানুষ হিসেবে দেখার’ দাবি করে, সেখানে একজন তরুণীর শরীর ও যৌন আবেদনকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
এমন সমালোচনার মধ্যেও ‘দ্য প্যারাডাইস’ আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। দর্শক ও সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে বিশ্বব্যাপী দেড় শ কোটি রুপির ঘর পেরিয়েছে নানির এই বড় বাজেটের সিনেমা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিনিয়োগকারী শিক্ষা, সচেতনতা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা সম্পর্কিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আগামী ৪ অক্টোবর (রোববার) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে যাচ্ছে।
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের আয়োজন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে করা হচ্ছে।
রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের কনভেনশন অডিটোরিয়ামে (লেভেল-১) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি। অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান, কমিশনারবৃন্দ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১ হাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিএসইসির উদ্যোগে আয়োজিত এবারের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনভেস্টর রেজিলিয়েন্স, ডিজিটাল ডেসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম অ্যালার্ট’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘ইনভেস্টর রেজিলিয়েন্স, ডিজিটাল ডেসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম অ্যালার্ট’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা অংশগ্রহণ করবেন।
প্যানেল আলোচনায় বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও সুরক্ষা, ডিজিটাল প্রতারণা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর আলোচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাটি কাটার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল্লাহ আল আমিনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। এ সময়, নৌ পুলিশের ওসিকে মাটি কাটার কমিশন গ্রহণের অভিযোগ তুলে তিনি ধমক প্রদান করেন।
এ তথ্য একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে বলতে শোনা যায়, “শোনেন, আপনার (পরিদর্শক) বিরুদ্ধে কিন্তু অনেক অভিযোগ। মাটি কাটার কমিশন খাবেন, আর আমাকে বলবেন অভিযান আছে—এই সব ফাইজলামি বাদ দেন। আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ, মাটি কাটার কমিশন খান আপনি।”
এরপর তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে কাল থেকে যেন কোনো মাটি কাটা না হয়। এই জায়গায় যদি মাটি কাটা হয়, আপনার খবর আছে।”
ভিডিওতে অপর প্রান্তের ব্যক্তির বক্তব্য শোনা না গেলেও এমপি তার কথার জবাবে বলেন, “ঠিক আছে, আমরা দেখতে চাই এটা।” পরে তিনি যোগ করেন, “যতগুলো লোক নদী পার হয়, তারা দেখতাছে মাটি কাটতাছে। আপনারা ঘুমান, এটা যাতে না হয়। ঠিক আছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ